kalerkantho


মিয়ানমারের বিচারে উদ্যোগ নিতে ইপিতে প্রস্তাব গৃহীত

জাতিসংঘে প্রস্তাব আনছে ইইউ

মেহেদী হাসান   

১৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



জাতিসংঘে প্রস্তাব আনছে ইইউ

রোহিঙ্গাদের ওপর মানবতাবিরোধী অপরাধের তদন্ত ও বিচারিক কাঠামো সৃষ্টিতে জাতিসংঘে প্রস্তাব আনার ঘোষণা দিয়েছেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক হাইরিপ্রেজেন্টেটিভ ফেডেরিকা মগেরিনি। গতকাল বৃহস্পতিবার ফ্রান্সের স্ট্রসবুর্গে ইউরোপীয় পার্লামেন্টের (ইপি) প্লেনারি অধিবেশনে মিয়ানমার পরিস্থিতি নিয়ে ইপি সদস্যরা এক সুরে উদ্বেগ ও বিচারের দাবি তোলার পর তিনি এ কথা জানান।

ফেডেরিকা মগেরিনি বলেন, জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদের চলতি অধিবেশনেই ইইউ অন্য দেশগুলোকে নিয়ে একটি প্রস্তাব আনবে। সেখানে মিয়ানমারবিষয়ক জাতিসংঘের স্বাধীন সত্যানুসন্ধানী দলের প্রতিবেদন ও সুপারিশ গ্রহণ করে তথ্য সংগ্রহ, সংরক্ষণ ও বিশ্লেষণ কাঠামো এবং বিচারিক উদ্যোগ নেওয়ার মতো বিষয় থাকবে। সত্যানুসন্ধানী দলের সুপারিশ অনুযায়ী ইইউ মিয়ানমারের ওপর একই সঙ্গে চাপ সৃষ্টি ও সম্পৃক্ত থাকার নীতি অনুসরণ করবে। মিয়ানমারে মানবাধিকার লঙ্ঘনকারীদের ওপর ইইউ আরো নিষেধাজ্ঞা আরোপ করবে।

ইইউ হাইরিপ্রেজেন্টেটিভ বলেন, বাংলাদেশে আশ্রয়শিবিরে রোহিঙ্গাদের কাছ থেকে যে নৃশংসতার বর্ণনা তিনি গত বছর শুনেছিলেন ঠিক একই ধরনের খবর রয়টার্সের সাংবাদিকরা রাখাইনে তুলে এনেছেন। তিনি এখনো আশা করেন, মিয়ানমার শোধরাবে।

এর আগে ইপির ১২ জন সদস্য মিয়ানমার পরিস্থিতি ও রয়টার্সের দুই সাংবাদিক ওয়া লোন ও কিয়াও সোয়ে ওর কারাদণ্ডাদেশে গভীর উদ্বেগ জানায়। আলোচনা শেষে গতকাল পার্লামেন্ট একটি প্রস্তাব গ্রহণ করেছে। ওই প্রস্তাবে মিয়ানমারকে জবাবদিহির আওতায় আনার উদ্যোগ নিতে ইইউ ও এর সদস্য দেশগুলোকে নেতৃত্ব দেওয়ার এবং রয়টার্সের দুই সাংবাদিককে অনতিবিলম্বে মুক্তি দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়। এ ছাড়া জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদকে মিয়ানমারে মানবাধিকার লঙ্ঘনের পূর্ণ তদন্তের জন্য আন্তর্জাতিক ফৌজদারি আদালতকে (আইসিসি) দায়িত্ব দেওয়ার আহ্বান জানায়।

ইউরোপীয় পার্লামেন্ট সদস্যরা মিয়ানমারকে ইইউতে দেওয়া বাণিজ্য সুবিধা পুনর্বিবেচনা করার জোর আহ্বান জানান। পার্লামেন্ট সদস্য বারবারা লকবিয়ার বলেন, আইসিসি বা অন্য কোনো আদালতের মাধ্যমে মিয়ানমারের বিচার করতে হবে। সাজ্জাদ করিম বলেন, মিয়ানমারের ব্যাপারে ইইউর অবস্থান স্পষ্ট হতে হবে। সোরায়া পোস্ট বলেন, ‘আমরা মিয়ানমারকে আর মানবাধিকার লঙ্ঘন করার সুযোগ দেব না।’ ইগনিয়ো কোরাও মিয়ানমারে মানবাধিকার লঙ্ঘনকারীদের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের তাগিদ দেন।

পার্লামেন্ট সদস্য সিন ক্যালি বলেন, মিয়ানমারের পরিস্থিতি ক্রমেই খারাপের দিকে যাচ্ছে। ইউনুস ওমরজি বলেন, জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদকে মিয়ানমারের ওপর বৈশ্বিক অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে হবে।

এদিকে গণহত্যা প্রতিরোধ বিষয়ক সনদের ৭০তম বার্ষিকী উপলক্ষে গতকাল জেনেভায় জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদে আলোচনায় বারবার রোহিঙ্গাদের বিষয় উঠে এসেছে। জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার মিশেল ব্ল্যাশেলেট বলেন, ‘সুস্পষ্ট ও একাধিক ইঙ্গিত ছাড়া গণহত্যা সংঘটিত হয় না। এটি একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠীকে নিপীড়ন ও ক্ষতি করার অভিপ্রায় থেকে শৃঙ্খলাবদ্ধ নেতৃত্বের মাধ্যমে চূড়ান্ত বর্বরতার মাধ্যমে সম্পন্ন হয়। রোহিঙ্গাদের ক্ষেত্রে অসংখ্য ইঙ্গিত ছিল।’ রোহিঙ্গাদের ব্যাপারে আইসিসির সিদ্ধান্তকে তিনি স্বাগত জানান।

জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক প্রধান সবাইকে রোহিঙ্গা গণহত্যার বিচারের উদ্যোগকে সমর্থন জানানোর আহ্বান জানিয়ে বলেন, কম করে হলেও ১০ হাজার রোহিঙ্গাকে হত্যা, অসংখ্য রোহিঙ্গা নারীকে ধর্ষণসহ নানামুখী নির্যাতন করা হয়েছে।

অন্যদিকে জাতিসংঘ মহাসচিবের বিশেষ উপদেষ্টা আদামা দিয়েং গণহত্যা প্রতিরোধ বিষয়ক সনদকে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে গৃহীত বিশ্বের প্রথম মানবাধিকার চুক্তি হিসেবে অভিহিত করে যত দ্রুত সম্ভব সব দেশকে তা সমর্থন করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ৪৫টি দেশ এখনো ওই সনদে সমর্থন জানায়নি। সেগুলোর ২০টি আফ্রিকার, ১৮টি এশিয়ার ও সাতটি আমেরিকার।



মন্তব্য