kalerkantho


নির্বাচনের তফসিল ৩০ অক্টোবরের পর যেকোনো দিন

আরপিও নিয়ে ইসি চুপ

বিশেষ প্রতিনিধি   

১১ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



নির্বাচনের তফসিল ৩০ অক্টোবরের পর যেকোনো দিন

ফাইল ছবি

আগামী ৩০ অক্টোবরের পর যেকোনো দিন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হবে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিব হেলালুদ্দীন আহমেদ। তিনি বলেছেন, ‘৩০ অক্টোবর থেকে কাউন্টডাউন শুরু হবে। এরপর যেকোনো সময় তফসিল ঘোষণা করা হবে। কবে ঘোষণা করা হবে, তা নির্ধারণ করবে নির্বাচন কমিশন।’

রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে নিজ কার্যালয়ে গতকাল সোমবার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ইসি সচিব এসব কথা বলেন। এ সময় সংসদ নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতিমূলক কাজের বিভিন্ন তথ্য জানালেও সংসদ নির্বাচনের আইন বা আরপিও সংস্কারে আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো কমিশনের প্রস্তাব সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জানাতে রাজি হননি তিনি।

সচিব হেলালুদ্দীন বলেন, ‘একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে ভোটার তালিকার সিডি প্রস্তুত। ২৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে এগুলো জেলা-উপজেলায় পাঠিয়ে দেওয়া হবে। এরপর সেখানে এগুলো মুদ্রণ করা হবে।’

জাতীয় নির্বাচনের প্রস্তুতি ৮০ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে জানিয়ে সচিব বলেন, ভোটার তালিকা চূড়ান্ত হয়েছে। ভোটকেন্দ্রের খসড়াও চূড়ান্ত পর্যায়ে। নির্বাচনের ২৫ দিন আগে ভোটকেন্দ্রের গেজেট প্রকাশ করা হবে। খসড়া ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা ৪০ হাজার ৯৯ এবং ভোটকক্ষ দুই লাখ ছয় হাজার ৫৪০টি। প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে একজন প্রিসাইডিং অফিসারসহ নির্বাচনে সাত লাখের মতো কর্মকর্তা-কর্মচারীর প্রয়োজন হবে।

ইসি সচিবালয়ের তথ্য অনুসারে, দশম সংসদ নির্বাচনে ভোটকেন্দ্র নির্ধারণ করা হয় ৩৭ হাজার ৭০৭টি। সে হিসাবে এবার ভোটকেন্দ্র বেড়েছে দুই হাজার ৩৮৩টি। দশম সংসদ নির্বাচনে ভোটার ছিল ৯ কোটি ১৯ লাখ ৬৫ হাজার ১৬৭ জন। এবার তা দাঁড়িয়েছে ১০ কোটি ৪৩ লাখের বেশি। সে হিসাবে ভোটার বেড়েছে এক কোটি ২০ লাখ। একাদশ সংসদ নির্বাচনের জন্য সম্ভাব্য বাজেট রয়েছে ৬৭৫ কোটি টাকা। এর মধ্যে নির্বাচন পরিচালনার চেয়ে আড়াই-তিন গুণ ব্যয় হবে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায়।

আরপিওর সংশোধনী প্রস্তাব সম্পর্কে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ইসি সচিব বলেন, ‘আরপিও সংশোধন প্রস্তাব ভেটিংয়ের জন্য আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। ভেটিং অনুমোদিত হলে মন্ত্রিসভা হয়ে জাতীয় সংসদে পাস হবে। এরপর সবাই জানতে পারবে। সব কিছু আগে থেকে জানাতে হবে এমন কোনো প্রবিধান তো নেই।’

প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নুরুল হুদা এর আগে ৩০ আগস্ট বলেন, ‘আজ গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ ১৯৭২-এর ওপর কিছুটা  সংশোধনীমূলক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এসব সিদ্ধান্ত জাতীয় সংসদের মাধ্যমে অনুমোদন হওয়া প্রয়োজন। আমাদের প্রস্তাব আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠাব। আইন মন্ত্রণালয় সম্মত হলে তা সংসদে পাঠানো হবে। আমরা সংসদ নির্বাচনে ইভিএম (ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন) প্রবর্তনের বিষয়ে আলোচনা ও সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’ তিনি বলেন, ‘সভায় আরপিও সংশোধনের জন্য ১৫টি প্রস্তাব উত্থাপিত হয়। এর মধ্যে ৮-১০টি বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছে। এর মধ্যে ইভিএম-সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো ছাড়া অন্যগুলো উল্লেখযোগ্য নয়।’

ইভিএম ছাড়া আর কোন কোন বিষয়ে সংশোধনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে—এ প্রশ্নে ওই দিন সিইসিও কোনো তথ্য জানাননি। ইসি সচিবালয়ের অনেক কর্মকর্তাও জানেন না আরপিওর কোন কোন বিষয়ে কমিশন সংস্কার প্রস্তাব পাঠিয়েছে।

আরপিওসহ নির্বাচনসংক্রান্ত বিদ্যমান ১৪টি আইন ও বিধি সংস্কার করতে গত বছরের ১৬ জুলাই নির্বাচন কমিশনার কবিতা খানমকে প্রধান করে আইন ও বিধি সংস্কার কমিটি গঠন করে ইসি। ওই কমিটি আরপিও সংশোধনের জন্য কিছু সুপারিশ প্রস্তুত করে। ১৯ মার্চ অনুষ্ঠিত কমিশনের সভায় কমিটির মোট ৩৫ দফা সুপারিশের সাতটিই বাতিল করা হয়। পরে বাতিল করা হয় আরো ৯টি। বাকি সুপারিশগুলো পরীক্ষা করে দেখতে নির্বাচন কমিশন একজন পরামর্শকও নিয়োগ করে।



মন্তব্য