kalerkantho


পদ্মার ভাঙনে আতঙ্ক

♦ রাজবাড়ী শহর রক্ষা বাঁধ হুমকিতে
♦ শিবচরে শতাধিক ঘরবাড়ি বিলীন

রাজবাড়ী প্রতিনিধি ও শিবচর (মাদারীপুর) প্রতিনিধি   

১০ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



পদ্মার ভাঙনে আতঙ্ক

রাজবাড়ী জেলা শহরের গোদার বাজারসংলগ্ন ধুনচি এলাকায় আবারও পদ্মা নদীর তীর রক্ষা বাঁধে ধসের ঘটনা ঘটেছে। গতকাল রবিবার সকালে প্রায় ১০০ মিটার এলাকার সিসি ব্লক নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। এ নিয়ে দুই সপ্তাহের ব্যবধানে পর পর তিন দফা ধসের ঘটনায় হুমকির মুখে পড়েছে রাজবাড়ী শহর রক্ষা বাঁধ। এ অবস্থায় আতঙ্কিত এলাকাবাসী বাড়িঘর ও মালামাল সরিয়ে নিতে শুরু করেছে। এ ছাড়া সদর উপজেলার ভাকলা ও দেবগ্রাম ইউনিয়নেরও হাজার হাজার বিঘা ফসলি জমি ও ঘরবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে।

অন্যদিকে, মাদারীপুরের শিবচর উপজেলায় তিনটি ইউনিয়নে পদ্মার ব্যাপক ভাঙন দেখা দিয়েছে। ভাঙনের কবলে পড়েছে শতাধিক ঘরবাড়ি। ক্ষতিগ্রস্ত লোকজন কোনো মতে, ঘরবাড়ি ও গবাদি পশু নিয়ে অন্যত্র চলে যাচ্ছে। এ নিয়ে চার সপ্তাহের ব্যবধানে চারটি স্কুল, ইউনিয়ন পরিষদ ভবনসহ পাঁচ শতাধিক ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, গতকাল সকাল ৯টার দিকে হঠাৎ করেই রাজবাড়ী সদর উপজেলার মিজানপুর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ধুনচি পূর্বপাড়া বেড়িবাঁধসংলগ্ন এলাকার নদীর তীর রক্ষা বাঁধে ধস দেখা দেয়। প্রায় ১০০ মিটার এলাকা মুহূর্তের মধ্যে বিলীন হয়ে যায়।

এর আগে গত ২৬ আগস্ট গোদার বাজার এলাকার এনএলজি ইটভাটাসংলগ্ন এলাকায় ৫০ মিটার ও চলতি মাসের ৪ সেপ্টেম্বর গোদার বাজার অবকাশ কেন্দ্র বন্ধনসংলগ্ন এলাকার তীর রক্ষা বাঁধের প্রায় ২০০ মিটার নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। ভাঙন রোধে বালুভর্তি জিও ব্যাগ ফেলার কাজ শুরু করে পানি উন্নয়ন বোর্ড। পর পর তিনবার ভাঙনের কারণে হুমকির মুখে রয়েছে শহর রক্ষা বাঁধ। স্থানীয়দের অভিযোগ, বেশ কয়েকবার নদীভাঙনের কবলে পড়েছে তারা। আর এবার নদীতে অপরিকল্পিতভাবে ড্রেজিং করার কারণে ভাঙনের সৃষ্টি হয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এবার পদ্মা ভয়ংকর রূপ নিয়েছে। বর্তমানে রাজবাড়ী সদর উপজেলার মিজানপুর, পাংশার হাবাসপুর, কালুখালীর রতনদিয়া ও গোয়ালন্দের ছোট ভাকলা, দেবগ্রাম ও দৌলতদিয়া ইউনিয়নে ভাঙন চলছে। এর মধ্যে বেশি ভাঙন দেখা দিয়েছে মিজানপুর ইউনিয়নের গোদার বাজার ধুনচি এলাকার পদ্মার তীর রক্ষা বাঁধে। এতে ছোট ভাকলা ও দেবগ্রাম ইউনিয়নের হাজার হাজার বিঘা ফসলি জমি ও ঘরবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।

মিজানপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো. আতিয়ার রহমান অভিযোগ করেন, নদীর তীর রক্ষা বাঁধ তৈরির পর বিগত চার থেকে পাঁচ বছর এ অঞ্চলের মানুষ শান্তিতে বসবাস করছিল। তবে এবার কারো কোনো কথা না শুনে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নিজেদের খেয়াল খুশিমতো নদী তীর থেকে মাত্র দুই শ গজ দূর দিয়ে ড্রেজিং করেছে। আর এপ্রান্ত থেকে ড্রেজিং করা মাটি পাবনা জেলার প্রান্তে ফেলেছে। ফলে রাজবাড়ী প্রান্তে নদীর গভীরতা বৃদ্ধি এবং নদীর তীব্র স্রোতে ভাঙন ভয়ংকর আকার ধারণ করেছে।

রাজবাড়ী সদর উপজেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপসহকারী প্রকৌশলী মো. হাফিজুর রহমান বলেন, ভাঙন রোধে জরুরি ভিত্তিতে বালুভর্তি জিও ব্যাগ ফেলা হচ্ছে। গতকাল পর্যন্ত প্রায় ৪০০ বস্তা ফেলা হয়েছে। আরো বস্তাভর্তির কাজ চলছে।

মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার পদ্মার চরাঞ্চল চরজানাজাত, বন্দরখোলা ও কাঁঠালবাড়ী ইউনিয়নে সরেজমিনে দেখা গেছে, দুই-তিন দিন ধরে পানি বৃদ্ধি পেয়ে ভাঙন তীব্র রূপ নিয়েছে। ভাঙনাক্রান্ত হয়েছে শতাধিক পরিবার। ক্ষতিগ্রস্ত লোকজন পরিবার ও গবাদি পশু নিয়ে কোনো রকমে অন্যত্র নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যাচ্ছে। ভাঙনের তীব্রতা এতই যে আক্রান্তরা গাছগাছালি এমনকি ঘরও রেখে চলে যেতে বাধ্য হচ্ছে। হুমকিতে রয়েছে চরজানাজাতে সোলার প্যানেল চালিত গ্রামীণফোন টাওয়ার, ব্রিজসহ শত শত ঘরবাড়ি। গত তিন-চার সপ্তাহে চারটি বিদ্যালয় ভবন, পাঁচ শতাধিক ঘরবাড়িসহ চরজানাজাত ইউনিয়ন পরিষদ ভবন, ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্র, কমিউনিটি ক্লিনিক ও খাসেরহাট বাজারের অর্ধশত দোকান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

চরজানাজাত ইউনিয়নের মধ্যে চরজানাজাত ইলিয়াছ আহম্মেদ চৌধুরী উচ্চ বিদ্যালয়, আ. মালেক তালুকদার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মজিদ সরকার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বন্দরখোলার ৭২ নম্বর নারিকেলবাড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি নদীতে বিলীন হয়।

কাঁঠালবাড়ী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতি আতাহার ব্যাপারী বলেন, দুই-তিন দিনে পদ্মা নদীর ব্যাপক ভাঙনে কাঁঠালবাড়ী ইউনিয়নের অসংখ্য বাড়িঘর, স্কুলসহ বিভিন্ন স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।



মন্তব্য