kalerkantho


এক ভুলেই বাংলাদেশের বিদায়

ক্রীড়া প্রতিবেদক   

৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



এক ভুলেই বাংলাদেশের বিদায়

স্বপ্ন রাঙানো দুই ম্যাচ শেষে আবার বেজে উঠেছে সেই বিদায়ের রাগিণী। শহীদুলের ‘গোল উপহারে’ টানা চতুর্থবারের মতো সাফ সেমিফাইনালের চৌকাঠ থেকে বিদায় নিয়েছে বাংলাদেশ। যে ম্যাচে মাত্র ১ পয়েন্টের দরকার ছিল, সেই ম্যাচেই বাংলাদেশের এই গোলরক্ষকের হাস্যকর ভুল। তার মাসুল হলো নেপালের বিপক্ষে বাংলাদেশের ২-০ গোলে হার। তিন দলের সমান ৬ পয়েন্ট হওয়ায় গোল গড়ে বাদ পড়েছে স্বাগতিকরা আর নেপাল ভালো গোল গড় (৫) নিয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে উঠে গেছে সেমিফাইনালে। পাকিস্তান গেছে গ্রুপ রানার্স-আপ হয়ে।

শহীদুলের এই গোল উপহারের ঘটনা ৩৩ মিনিটে। ৩৫ গজ দূর থেকে বিমলের নিরীহ এক ফ্রি-কিক এই গোলরক্ষকের হাত ফসকে পৌঁছে গেছে বাংলাদেশের জালে। এটা ছিল একদম সাধারণ ক্যাচ। সেটা ধরতে গিয়েই তিনি নেপালের হাতে ম্যাচ তুলে দিয়েছেন। তাঁর এমন ভুল নতুন কিছু নয়। ২০১১ সাফেও নেপালের বিপক্ষে এমন এক গোল খাওয়ার অপকীর্তি আছে তাঁর। সেটিও ছিল অনেক দূর থেকে নেওয়া সাগর থাপার ফ্রি-কিক। ২০১৫ বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপেও ধরে রাখেন সেই বদঅভ্যাস। ফাইনালে ইনজুরি টাইমে গিয়ে তিনি বলের ফ্লাইট মিস করেন এবং সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে ৩-২ গোলে শিরোপা জেতে মালয়েশিয়া। বাতাসে তিনি সব সময় নড়বড়ে। ‘ফ্লাইট মিস’ করে ঘরোয়া ফুটবলে গোল খাওয়ানোর ঘটনা অনেক। এগুলো বাদ দিলেও ১১ দিন আগে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে হারের দাগ এখনো মোছেনি। অনেক দূর থেকে নেওয়া ফজলের শট পড়তে পারেননি আবাহনীর এই গোলরক্ষক। ওই ম্যাচটি ছিল এশিয়ান গেমসের বাইরে থাকা সিনিয়রদের পরীক্ষা। সেই পরীক্ষায় ডাহা ফেল মেরেছেন শহীদুল। এর পরও সাফের একাদশে তাঁর বিস্ময়কর উপস্থিতি! বিশেষ করে এশিয়াডে দুর্দান্ত খেলা গোলরক্ষক আশরাফুল রানাকে বেঞ্চে রেখে শহীদুলকে একাদশে সুযোগ দেওয়া। কোনো প্র্যাকটিসে না থেকেও আবাহনীর এই গোলরক্ষকের একাদশে ঢুকে যাওয়াটা ছিল বিস্ময়করই। অনেকের বিশ্বাস, টিম ম্যানেজমেন্টে তাঁর লবিং শক্ত। সেই জোরেই আশরাফুলকে বেঞ্চে ঠেলে মূল একাদশে শহীদুল। তবে শেষ ম্যাচের আগেও ইংলিশ কোচ জেমি ডে মুগ্ধ ছিলেন তাঁর উচ্চতায়।

অবশেষে তাঁর মোহভঙ্গ হয়েছে ৩৩ মিনিটের ওই গোলে এবং সেমিফাইনালের চৌকাঠ থেকে বাংলাদেশের বিদায়ে। একটি সাধারণ শট হাত ফসকে গেল শহীদুলের। এই গোলেই এলোমেলো হয়ে যায় পুরো খেলা। এর আগ পর্যন্ত বাংলাদেশ খেলছিল বল পায়ে রেখেই। আগের দুই ম্যাচের মতো স্নায়ুচাপও ছিল না, তাই সহজ-স্বাভাবিক খেলাটাই ফুটে উঠছিল তাদের পায়ে। কিন্তু নেপালকে শহীদুলের ওই উপহারে গুলিয়ে যায় সব কিছুই। এক পয়েন্ট পেতে হলে ম্যাচ ড্র করতে হবে। গোল ফেরাতে হবে। কিন্তু গোল ফেরানোর মানুষ কই। ততক্ষণে ওই গোলের চাপে পিষ্ট হয়ে খেলোয়াড়দের স্বাভাবিক খেলা উধাও। বিরতির পর সোহেল রানা, সাখাওয়াত রনি ও ইমন বাবুকে নামিয়েও সেই গোলের খোঁজ পাননি। হয়নি গোল পাওয়ার মতো কোনো আক্রমণও। নেপাল রক্ষণাত্মক হওয়ার পরও বাড়েনি আক্রমণের ধার। ক্রমাগত মাঝমাঠ থেকে বল উড়িয়েছেন বাতাসে। নেপালি ডিফেন্ডাররা সেগুলো ক্লিয়ার করেছেন অতি সহজে। ৭০ মিনিটে সাখাওয়াত একবার মাথা ছুঁইয়েছেন, তাতে বল গিয়ে পড়ে নেপালের জালের ওপর। আরেকবার ২৭ মিনিটে ওয়ালির ফ্রি-কিক যায় ক্রসবারের ওপর দিয়ে। এটুকুই কৃতিত্ব বাংলাদেশি আক্রমণভাগের। আতশি কাচ দিয়ে দেখলেও খুঁজে পাওয়া যাবে না স্বাগতিকদের একটি পরিষ্কার সুযোগ।

প্রতিপক্ষ নেপাল খেলেছে গোছানো ফুটবল। দ্বিতীয়ার্ধে রক্ষণাত্মক কৌশলে খেলেও তারা পেয়েছে দ্বিতীয় গোল। সেটি ইনজুরি টাইমে নবযুগ শ্রেষ্ঠার। তবে নেপালের সহকারী কোচ কিরণ শ্রেষ্ঠাও স্বীকার করেন শহীদুলের উপহার দেওয়া গোলটিই ম্যাচের টার্নিং পয়েন্ট, ‘আমাদের জন্য বাঁচা-মরার লড়াই ছিল এটি। প্রথম গোলটিই আসলে আমাদের ম্যাচ সহজ করে দিয়েছে।’ অথচ ম্যাচটি ছিল বাংলাদেশের জন্য সহজ। মাত্র ১ পয়েন্টের হিসাব মেলানো। সেটা মেলাতে গিয়েই গুলিয়ে ফেলেছে স্বাগতিকরা।

বাংলাদেশ দল : শহীদুল, ওয়ালি, তপু, টুটুল, বিশ্বনাথ, জামাল, মামুনুল, মাশুক (ইমন বাবু), বিপলু  (সোহেল) সাদ (সাখাওয়াত রনি), সুফিল।



মন্তব্য