kalerkantho


শুধু এক পয়েন্ট চাই বাংলাদেশের

সনৎ বাবলা   

৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



শুধু এক পয়েন্ট চাই বাংলাদেশের

নেপালের কাছে হারলে বাংলাদেশের বিদায়ঘণ্টা বেজে যেতে পারে। সমীকরণটা জেমি ডের মোটেও পছন্দ হচ্ছে না। একটা দল প্রথম দুটি ম্যাচ জিতেও বিদায় নেবে—এ কথা ভাবলেই কেমন যেন কষ্ট অনুভব করেন বাংলাদেশ দলের ইংলিশ কোচ। তিনি জানেন টানা দুই ম্যাচ জেতা কত কষ্টের। সর্বশেষ এমন কীর্তি খুঁজতে রেকর্ডপত্র ঘাঁটতে হবে। তবে গত আট বছরে দেখা যায়নি এমন শুভযোগ। এর পরও অশুভ সংকেত শুনলে কারই বা ভালো লাগে। ভালো না লাগলেও মানতে হবে। মানিয়ে নিতে হবে পরিস্থিতির সঙ্গে। আজ দিনের প্রথম খেলায় পাকিস্তান প্রত্যাশিতভাবে ভুটানকে হারালে বাংলাদেশের সামনে শর্ত থাকবে একটিই—নেপালের সঙ্গে হারা যাবে না। জেতার বাধ্যবাধকতা নেই, শেষ গ্রুপ ম্যাচটি ড্র করেই স্বাগতিকরা পৌঁছে যাবে সাফের সেমিফাইনালে। পূরণ হবে ১০ বছরের অধরা স্বপ্ন।

ড্রয়ের শর্তটা দেখে জেমির খুশি হওয়া উচিত। কারণ ‘রিয়াল স্কোরার’হীন দলকে জেতানো বড় কঠিন। দুটি ম্যাচ জিতেছে বাংলাদেশ, এই ধারায় তৃতীয় ম্যাচও জিতবে—এই বাজি রাখাও কঠিন। তার চেয়েও ড্র বরং সহজ। অধুনা বাংলাদেশ ফুটবল খেলে গোল না খাওয়ার খেলা। রক্ষণে ভুল কমে গেছে, আগের মতো মনঃসংযোগ হারিয়ে গোল খেয়ে বসে না শেষ মুহূর্তে। রক্ষণভাগকে সাহায্য করতে বাকিরা নেমে আসে নিচে। এটাই হলো এক পয়েন্টের খেলা, যেটা তিন মাস ধরে খেলছে। বাংলাদেশের জালে এখন বল পাঠাতেও সে রকম ফরোয়ার্ড লাগে প্রতিপক্ষের। এখন পর্যন্ত কোনো গোল হজম করেনি স্বাগতিকরা। দলটির চরিত্র বদল হয়েছে এই ইংলিশ কোচের হাতে। নতুন চরিত্র অনুযায়ী খেললেই নেপালের ম্যাচ ড্র হয়ে যায়, এক পয়েন্ট নিয়ে সেমিফাইনালে পৌঁছে যায় স্বাগতিকরা।

কিন্তু নেপালের সেমিফাইনালে পা রাখতে হলে ম্যাচটি জিততেই হবে। স্বাগতিকদের হারাতে হবে! এটা কঠিন। তার পরও নেপাল কোচ বালগোপাল মহাজন ভুটান ম্যাচের স্মৃতি টেনে স্বপ্ন দেখছেন, ‘প্রথম ম্যাচে পাকিস্তানের সঙ্গে ভালো খেলেও আমরা হেরেছি দুর্ভাগ্যবশত। পরের ম্যাচে ভুটানকে হারিয়েছি ৪-০ গোলে। এই খেলা খেলতে পারলে বাংলাদেশ কেন, যেকোনো প্রতিপক্ষের সঙ্গে আমরা জিততে পারি।’ নিমা লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়ায় ৬৯ মিনিট থেকে ১০ জনের দল ভুটান। এর পরই নেপাল দিয়েছে তিন গোল। প্রতিদিন তো আর প্রতিপক্ষ কমজোরি হবে না। অমন একতরফা খেলারও সুযোগ মিলবে না। তবে তাদের খেলা সুন্দর এবং গোল বের করারও সামর্থ্য আছে। বাংলাদেশের কোচ জেমি ডে তাই নেপালকে খুব কঠিন প্রতিপক্ষ হিসেবেই দেখেন, ‘এই গ্রুপে নেপাল ও পাকিস্তান দুটিই ভালো দল। নেপাল আগের দুটি ম্যাচই ভালো খেলেছে। আমাদের সঙ্গে তাদের লড়াইটাও খুব কঠিন হবে।’

অতীত লড়াইয়ে বাংলাদেশ অবশ্য অনেক এগিয়ে। ২১ ম্যাচের মধ্যে ১২টি জিতেছে স্বাগতিকরা, হেরেছে ছয়টি এবং ড্র তিনটি। ২০১৬ সালে বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপে দুই দলের সর্বশেষ ম্যাচটি ড্র হয়েছিল এই মাঠে। ওই ধারা বজায় থাকার মতো অনেক উপাদান আছে এই সাফে। প্রথমত, জেমির দল হার না মানা লড়াই করছে, সঙ্গে স্বাগতিক দর্শকদের অকুণ্ঠ সমর্থন। বাংলাদেশ কোচও তাই আশাবাদী, ‘খেলোয়াড়রা যেভাবে খেলছে তাতে আমি সন্তুষ্ট। দুটি ম্যাচে তারা ভীষণ লড়াই করেছে এবং জিতেছে। তাই নেপালের বিপক্ষেও রক্ষণ ঠিক রেখে আমরা কাউন্টার অ্যাটাকে খেলব। এই স্টাইলেই তো ফল মিলছে।’ এই স্টাইলে খেলে আগের দুই ম্যাচ তারা জিতেছে। এই ম্যাচে স্বাগতিকদের জয় দরকার নেই; কিন্তু নেপালের জয় না হলে চলবে না। সুতরাং তারা গোলের জন্য মরিয়া হবে আর তখনই কাউন্টারে মিলতে পারে গোলের চাবি। তিন মাস ধরে কাউন্টারে খেলার প্র্যাকটিস করে আসছেন সুফিল-বিপলুরা।

টানা দুই ম্যাচ জিতে ৬ পয়েন্ট নিয়ে বাংলাদেশ এখন গ্রুপ সেরা। আজ গ্রুপের শেষ দিনের খেলায় বিকেল ৪টায় হবে পাকিস্তান-ভুটান ম্যাচ। পাকিস্তান জিতলে তাদেরও হয়ে যাবে ৬ পয়েন্ট। সন্ধ্যার ম্যাচে স্বাগতিকরা হারলে নেপালেরও হবে ৬। তিন দলের ৬ পয়েন্ট করে হলে ভুটানের ম্যাচগুলো বাদ দিয়ে শুরু হবে তিন দলের মধ্যকার ম্যাচের গোলের হিসাব-নিকাশ। প্রথম ম্যাচ ভুটান জিতে গেলে এসব হিসাবের দরকার পড়বে না। নেপাল ম্যাচের আগেই বাংলাদেশ উঠে যাবে সেমিফাইনালে। সে রকম হলে পুরো একাদশকে বিশ্রামে পাঠিয়ে জেমি নেপাল ম্যাচে মাঠে নামিয়ে দেবেন বেঞ্চের খেলোয়াড়দের।

এর আগ পর্যন্ত ‘বি’ গ্রুপের শেষ দিনের খেলা খুব জমজমাট হওয়ারই ইঙ্গিত মিলছে। ফুটবলের সঙ্গে থাকবে হাসি-কান্না, আনন্দ-বেদনার ছবি। কেউ সেমিফাইনালে যাবে, কেউ বিদায় নেবে। বাংলাদেশ বিদায় নিলে সঙ্গী হবে মাঠের দর্শকরাও। আজও তারা বড় আশা নিয়ে আসবে মাঠে। দেশের নিরানন্দের ফুটবলে তারা তো একটু খুশির প্রত্যাশা করতেই পারে।



মন্তব্য