kalerkantho


নির্বাচনকালীন সরকারে থাকছেন অভিজ্ঞরাই

আবদুল্লাহ আল মামুন    

৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



নির্বাচনকালীন সরকারে থাকছেন অভিজ্ঞরাই

নির্বাচনকালীন মন্ত্রিসভায় আওয়ামী লীগের সিনিয়র ও অভিজ্ঞ নেতারাই থাকছেন বলে জানা গেছে। প্রতিপক্ষ বিএনপি ও তার মিত্রদের সম্ভাব্য আন্দোলন মোকাবেলায় শক্তিশালী মন্ত্রিসভা গড়ার নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে ক্ষমতাসীন দলের শীর্ষপর্যায়ে। গতবারের চেয়ে আরো গ্রহণযোগ্য মন্ত্রিসভার চমক থাকছে অক্টোবরে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এরই মধ্যে সিনিয়র মন্ত্রীদের কাউকে কাউকে ইতিবাচক মনোভাব জানিয়েছেন। সরকার ও আওয়ামী লীগের উচ্চপর্যায়ের সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

সূত্র মতে, নির্বাচনকালীন ছোট আকারের মন্ত্রিসভায় আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ১৪ দলের শরিক কোনো কোনো দল থেকে নতুন মুখ আসারও সম্ভাবনা রয়েছে। জোটের একাধিক নেতাকে দেখা যেতে পারে মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী হিসেবে। প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা হিসেবেও থাকতে পারেন ১৪ দলের শরিক দলগুলোর কেউ কেউ।

জানা গেছে, ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন তাঁর দলের সাধারণ সম্পাদক ফজলে হোসেন বাদশাকে মন্ত্রিসভায় রাখার বিষয়ে আগ্রহী। জাসদের আরো প্রতিনিধি নেওয়া হতে পারে অন্তর্বর্তী সরকারে। জোটের একাধিক নেতাকে মন্ত্রীর সমমর্যাদায় প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার জন্য সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ে সুপারিশ করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

দলীয় সূত্রে জানা যায়, নির্বাচনকালীন অন্তর্বর্তী সরকারে থাকতে তৎপরতা শুরু হয়েছে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগেও। বিভিন্ন অজুহাতে বেড়ে গেছে দলীয় নেতাদের গণভবনে যাতায়াত। তাঁরা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিভিন্ন কর্মসূচিতে নিয়মিত উপস্থিত থেকে তাঁর দৃষ্টি কাড়ার চেষ্টা করছেন। আওয়ামী লীগের ওই নেতারা সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ে তদবিরও করছেন।

আগামী ডিসেম্বরে হতে যাচ্ছে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এ জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে নির্বাচনকালীন সরকার গঠিত হবে অক্টোবরে। গত বুধবার এক অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী ২০ দিনের মধ্যে নির্বাচনকালীন সরকার গঠিত হবে বলে জানালেও সরকারের নীতিনির্ধারকরা বলছেন ভিন্ন কথা। নির্বাচন কমিশন নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করতে পারে।

সংবিধান অনুযায়ী জাতীয় সংসদে প্রতিনিধিত্বকারী রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিনিধিরা নির্বাচনকালীন সরকারে থাকবেন। আগেরবার নির্বাচনকালীন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী ছিলেন ২৯ জন। মন্ত্রী মর্যাদায় উপদেষ্টা ছিলেন ১০ জন। এবারও একই সংখ্যক সদস্য থাকতে পারেন নির্বাচনকালীন সরকারে।

দলীয় সূত্রে জানা যায়, আওয়ামী লীগের নেতাদের মধ্যে যাঁরা মহাজোট সরকারের মন্ত্রিসভায় ছিলেন, তাঁরা বেশ তৎপর নির্বাচনকালীন সরকারে থাকার জন্য। এক মাস ধরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারি কর্মসূচিগুলোতে ওই নেতারা নিয়মিত উপস্থিত থাকছেন। এসব নেতা আওয়ামী লীগপন্থী বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের সেমিনার ও আলোচনাসভায় কঠোর সমালোচনা করছেন বিএনপির। বিএনপির সম্ভাব্য বৃহত্তর ঐক্য ও আন্দোলনের হুঁশিয়ারির বিষয়েও তাঁরা সোচ্চার।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের গতকাল বৃহস্পতিবার

 বলেছেন, নির্বাচনকালীন সরকারের আকার কেমন হবে এবং কবে গঠিত হবে সেই সিদ্ধান্ত দেবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এর বাইরে কেউ এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত দিতে পারবে না। এর আগে তিনি জানিয়েছিলেন, অক্টোবরে নির্বাচনকালীন সরকার গঠিত হবে এবং সেই সরকারের আকার ছোট হবে।

সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক শিল্পমন্ত্রী দিলীপ বড়ুয়া গতকাল কালের কণ্ঠকে বলেন, নির্বাচনকালীন সরকার গঠনের বিষয়টি সম্পূর্ণভাবে প্রধানমন্ত্রীর এখতিয়ার। তিনি নির্বাচনের তারিখ গণনায় নিয়ে সংবিধান অনুযায়ী এ সরকার গঠন করবেন। নির্বাচনকালীন সরকারে ১৪ দলের শরিকদের আরো অধিকসংখ্যক প্রতিনিধি থাকা উচিত কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, নির্বাচনকালীন সরকারে যুক্তিসংগতভাবে ১৪ দলের শরিকদের প্রতিনিধি থাকলে ভালো হয়।

আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারকরা বলছেন, আগামী মাসের শুরুতে নির্বাচনকালীন সরকারের আকার স্পষ্ট হবে। বর্তমান সিনিয়র মন্ত্রীদের প্রায় সবাইকে রাখার ব্যাপারে নীতিগত সিদ্ধান্ত রয়েছে। টানা তৃতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য আওয়ামী লীগ দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। অসমাপ্ত উন্নয়নকাজ এগিয়ে নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ডেল্টা প্ল্যান ২১০০ বাস্তবায়নের পথ তৈরি করতে আবার ক্ষমতায় যাওয়া প্রয়োজন বলে মনে করেন ক্ষমতাসীন দলের নীতিনির্ধারকরা। এ জন্য তাঁরা অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগাতে চান। একই সঙ্গে দলীয় বিভেদ যাতে সৃষ্টি না হয়, সে ব্যাপারেও তাঁরা সর্বোচ্চ সতর্ক। তবে নির্বাচনকালীন মন্ত্রিসভার আকার যেহেতু ছোট রাখতে হবে, তাই বর্তমানে যাঁরা আছেন তাঁদের মধ্যে কয়েকজনকে বাদ দেওয়া হতে পারে।



মন্তব্য