kalerkantho


সাক্ষাৎকার

আ. লীগের জোটে থেকেই নির্বাচনে যাচ্ছি

আনোয়ার হোসেন মঞ্জুপানিসম্পদমন্ত্রী ও জেপি চেয়ারম্যান

মোশতাক আহমদ   

৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



আ. লীগের জোটে থেকেই নির্বাচনে যাচ্ছি

পানিসম্পদমন্ত্রী ও জাতীয় পার্টির (জেপি) চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন মঞ্জু বলেছেন, আওয়ামী লীগের সঙ্গেই জোটভুক্ত হয়ে আগামী সংসদ নির্বাচনে অংশ নেবে তাঁর দল। তিনি মনে করেন, বিএনপি নির্বাচনে না এলেও অন্যান্য রাজনৈতিক দল আসবে। সবাইকে নির্বাচনে অংশ নিতে হবে। সবাই সমান সুবিধা পেতে চাইলে নির্বাচন বর্জন করার মানসিকতা পরিত্যাগ করতে হবে। যারা নির্বাচন বানচাল করার ব্যর্থ চেষ্টা করবে, তাদের নির্বাচন-পরবর্তী পরিণতি নিয়ে ভাবা উচিত। কারণ ১৪ দলের বিজয় ঠেকানোর শক্তি কারো নেই।

গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর কারওয়ান বাজারে তাঁর কার্যালয়ে কালের কণ্ঠকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে আনোয়ার হোসেন মঞ্জু এসব কথা বলেন।

পানিসম্পদমন্ত্রী বলেন, ‘রাজনীতিতে শেষ বলে কিছু নেই—যারা এ কথা বলে তারা রাজনীতিকে খাটো করার জন্য বলে। আসলে রাজনীতিতে শেষ বলতে আছে। সব কিছু বিসর্জন দিয়ে রাজনীতি হয় না।’

নির্বাচনকালীন সরকার প্রসঙ্গে জেপিপ্রধান বলেন, নির্বাচনকালীন সরকার শুধু রুটিনমাফিক কাজ করবে। তারা নির্বাচন কমিশনের কাজে হস্তক্ষেপ করবে না। আগামী ২৯ জানুয়ারির আগে নির্বাচন হতেই হবে। কারণ সংবিধান অনুযায়ী প্রতি পাঁচ বছর পর নির্বাচন অপরিহার্য।

বিএনপির নির্বাচনে অংশগ্রহণ প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, ‘বিএনপি চেয়ারপারসন কারাগারে, তাঁর ছেলে লন্ডনে, এমতাস্থায় তারা যদি মনে করে তারা নির্বাচনে যাবে না তাহলেও নির্বাচন হয়ে যাবে। নির্বাচন কারো জন্য অপেক্ষা করবে না। তারা তো এর আগেও নির্বাচনে আসেনি। তাহলে কি নির্বাচন হয়নি?’

মন্ত্রী বলেন, ‘আমি এলাকায় রাজনীতি করি না, উন্নয়নে কাজ করি। উন্নয়ন নিয়ে বিভাজনের রাজনীতি ঠিক নয়। এ কথা মনে রাখতে হবে, রাজনীতি যার যার, উন্নয়ন সবার। আমাদের ভিশন হচ্ছে, জনগণের জীবনমান উন্নয়নে পানিসম্পদেও টেকসই নিরাপত্তা। দেশে যে কত উন্নয়নের কাজ হয়, তা আপনারা কল্পনাও করতে পারবেন না। বর্তমান শেখ হাসিনা সরকারের আমলে দেশে প্রচুর উন্নয়ন হচ্ছে। এ সরকার আবারও ক্ষমতায় এলে দেশে আরো অনেক উন্নয়নমূলক কাজ হবে।’ তিনি আরো বলেন, ‘আমি এলাকার উন্নয়নে বেড়িবাঁধ, সড়ক নির্মাণ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে উন্নয়নের কাজ করছি। আপনারা আমার সঙ্গে থাকলে এলাকায় আরো উন্নয়ন হবে।’

আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোটের শরিক জাতীয় পার্টির (জেপি) চেয়ারম্যান বলেন, ‘বাংলাদেশ এখন দ্রুত প্রবৃদ্ধি অর্জনের দেশ। উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সরকার বিশেষ জোর দিচ্ছে। প্রকল্পগুলো সঠিক সময়ে বাস্তবায়ন সম্ভব হয় না। কিন্তু কেন এ রকম হয়—সে বিষয়টিও খুঁজে দেখা জরুরি। এটি আমাদের আধাসামন্তবাদী সমাজব্যবস্থারও ফল। উন্নয়নের এই ধারা অব্যাহত রাখতে হলে আমাদের মানসিকতার পরিবর্তন ঘটাতে হবে।’

পানিসম্পদমন্ত্রী বলেন, ‘পানিকে সম্পদে পরিণত করতে হবে। তাই আমাদের চেষ্টা করতে হবে আমরা যেন পানির অপচয় না করি এবং পানিকে দূষণমুক্ত রাখি। একসময় শ্যালো টিউবওয়েল এবং পরবর্তী সময়ে ডিপটিউবওয়েল বসিয়ে সুপেয় পানি পাওয়া যেত। কিন্তু এখন তাতেও অনেক জায়গায় পানি পাওয়া যাচ্ছে না। পৃথিবীর অনেক দেশ পানি আমদানি করে। যদিও আমাদের এখনো সেই পরিস্থিতি হয়নি। তাই আমাদের সবার লক্ষ রাখতে হবে বিনা কারণে যেন পানি খরচ না করি।’

আনোয়ার হোসেন মঞ্জু বলেন, পানির প্রবাহ বাড়ানোর মাধ্যমে সরকার বুড়িগঙ্গা নদী দূষণমুক্ত করার উদ্যোগ নিয়েছে। বুড়িগঙ্গাকে দূষণমুক্ত করার লক্ষ্যে এক হাজার ১২৫ কোটি ৫৯ লাখ টাকা ব্যয়ে একটি প্রকল্প পানি উন্নয়ন বোর্ডের মাধ্যমে বাস্তবায়নাধীন। এই প্রকল্পের অধীন নিউ ধলেশ্বরী, পুংলী, বংশাই ও তুরাগ নদী খননের মাধ্যমে যমুনা নদী থেকে শুষ্ক মৌসুমে সাড়ে ২৪ হাজার কিউসেক পানি প্রবাহ নিয়ে বুড়িগঙ্গায় ১৪ হাজার ১০০ কিউসেক পানিপ্রবাহ বাড়ানো হবে। তিনি বলেন, এর ফলে শুষ্ক মৌসুমে বুড়িগঙ্গা নদীতে পানির প্রবাহ ও নাব্যতা বাড়বে এবং পানিদূষণের মাত্রা হ্রাস পাবে। বর্তমানে প্রকল্পের কাজ চলমান রয়েছে এবং ২০২০ সালের জুন মাস নাগাদ এই কাজ শেষ হবে।

প্রকল্প বাস্তবায়ন প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, ‘সরকারি কর্মকর্তা তথা প্রকল্প বাস্তবায়নের সঙ্গে জড়িতরাই তাদের কাজটি ঠিকমতো করবে। মন্ত্রী হিসেবে আমি সহায়ক পরিবেশ নিশ্চিত করার উদ্যোগ নিতে পারি। মন্ত্রণালয়ের যেকোনো বিষয়ে যে কেউ খোলামেলা আলোচনা করতে পারে। আমাদের পানি উন্নয়ন বোর্ড রয়েছে। তাদের নিজেদেরও কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নে প্রস্তুতি থাকতে হবে।’

মঞ্জু আরো বলেন, বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে। এ দেশের তরুণরা বিদেশে পড়াশোনা শেষে ফিরে আসছে এবং উদ্যোক্তা হিসেবে নিজেদের স্বকীয়তার প্রমাণ দিচ্ছে। অন্যদিকে প্রবাসীদের রেমিট্যান্সও দেশের অর্থনীতিতে প্রাণ সঞ্চার করছে।



মন্তব্য