kalerkantho


আহসানউল্লা স্বর্ণপদক পেলেন ব্যারিস্টার রফিক-উল হক

‘স্বতন্ত্র আইন বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা সময়ের দাবি’

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



‘স্বতন্ত্র আইন বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা সময়ের দাবি’

প্রবীণ আইনজীবী ব্যারিস্টার রফিক-উল হককে খানবাহাদুর আহসানউল্লা স্বর্ণপদক প্রদান করছেন প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন। ছবি : কালের কণ্ঠ

খানবাহাদুর আহসানউল্লা স্বর্ণপদক ২০১৭ পেলেন ব্যারিস্টার রফিক-উল হক। সমাজসেবা এবং স্বনামধন্য প্রবীণ আইনজীবী হিসেবে তাঁকে এই স্বর্ণপদক দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন ব্যারিস্টার রফিক-উল হকের হাতে এই পদক তুলে দেন। গতকাল শনিবার রাজধানীর তেজগাঁওয়ে আহসানউল্লা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. এম এইচ খান অডিটরিয়ামে এই স্বর্ণপদক প্রদান অনুষ্ঠানের আয়োজন করে ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশন।

প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন বলেন, ‘আইন ও বিচার বিভাগের উন্নয়নের লক্ষ্যে একটি স্বতন্ত্র আইন বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা সময়ের দাবি। ব্যারিস্টার রফিক-উল হকসহ এ দেশের জ্ঞানতাপস ও ধনাঢ্য আইনজ্ঞদের কাছে নিবেদন করব—তাঁরা যেন আমাদের প্রতিবেশী দেশের আদলে অন্তত একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ আইন বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন, যা আইন শিক্ষার গুণগত মান ও গবেষণার বিস্তৃতিকে আরো সমৃদ্ধ করবে। তাঁদের এই কর্মের জন্য ভবিষ্যৎ প্রজন্ম যারা আইনকে পেশা হিসেবে গ্রহণ করবে, তাদের কাছে তাঁরা স্মরণীয় হয়ে থাকবেন বলে আমার বিশ্বাস।’

ব্যারিস্টার রফিক-উল হককে অভিনন্দন জানিয়ে প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘আমাদের দেশে ব্যক্তির জীবদ্দশায় সম্মানিত করার দৃষ্টান্ত খুব বেশি চোখে পড়ে না। ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশন সেই ক্ষেত্রে প্রশংসার দাবিদার। ব্যারিস্টার রফিক-উল হক শুধু একজন আইনজীবীই নন, তিনি একজন সমাজসেবক ও সংস্কারক। তাঁর কর্মদক্ষতা সর্বজনবিদিত, তাঁর পরিচিতি ও গ্রহণযোগ্যতা সর্বমহলে সমাদৃত।’

সৈয়দ মাহমুদ হোসেন বলেন, ‘ব্যারিস্টার রফিক-উল হক নিজেই একটি প্রতিষ্ঠান। বিচার বিভাগের ভাবমূর্তি রক্ষা, বিচার বিভাগ পৃথকীকরণ ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় তাঁর ভূমিকা অপরিসীম। তিনি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মামলায় অ্যামিকাস কিউরি হিসেবে আদালতে মূল্যবান মতামত দিয়ছেন। তাঁর দেওয়া মতামত বিভিন্ন সময় গুরুত্বপূর্ণ মামলার রায়ে প্রতিফলিত হয়েছে। জাতির ক্রান্তিলগ্নেও তিনি অনুঘটকের ভূমিকা পালন করেছেন। আইনজীবী হিসেবে সততা, নিষ্ঠা ও সমতার পরিচয় দিয়েছেন। তিনি কারো রক্তচক্ষুকে ভয় পাননি। সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে তিনি সব সময় অবিচল থেকেছেন। তিনি নিজের উপার্জিত অর্থের অধিকাংশ ব্যয় করেছেন সমাজসেবায় এবং প্রতিষ্ঠা করেছেন হাসপাতাল, মেডিক্যাল কলেজ, এতিমখানা ও মসজিদ।’

ব্যারিস্টার রফিক-উল হক তাঁর প্রতিক্রিয়ায় সবাইকে ধন্যবাদ জানান। বিশেষ করে প্রধান বিচারপতি এই অনুষ্ঠানে আসার জন্য তাঁকে বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানান।

সভাপতির বক্তব্যে জাতীয় অধ্যাপক আনিসুজ্জামান বলেন, ‘দেশের গুণী মানুষদের সম্মাননা জানানোয় আহ্ছানিয়া মিশনকে ধন্যবাদ। যে দেশে গুণীর কদর হয় না, সে দেশে গুণী জন্মায় না। ব্যারিস্টার রফিক-উল হক সর্বোচ্চ আদালতে বিভিন্ন সময় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। তিনি শিক্ষা, স্বাস্থ্য বিভিন্ন ক্ষেত্রে তাঁর সমাজসেবা চালিয়ে যাচ্ছেন। আমি আশা করি, তিনি অনেক দিন আমাদের মধ্যে থেকে তাঁর ভূমিকা রাখবেন।’

সমকালীন কৃতী ব্যক্তিত্বদের অবদানের স্বীকৃতি প্রদানের লক্ষ্যে ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশন ১৯৮৬ সাল থেকে প্রতি বছর খানবাহাদুর আহ্ছানউল্লা স্বর্ণপদক প্রদান করে আসছে। ২০১৭ সালের স্বর্ণপদকপ্রাপ্ত ব্যারিস্টার রফিক-উল হক বারডেম হাসপাতাল, আহ্ছানিয়া মিশন ক্যান্সার হাসপাতাল, আহ্ছানউল্লা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়সহ একাধিক প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। তিনি আদ্-দ্বীন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান, আদ্-দ্বীন বসুন্ধরা মেডিক্যাল কলেজ, আদ্-দ্বীন মহিলা মেডিক্যাল কলেজের গভর্নিং বডির চেয়ারম্যান। চিকিৎসা ক্ষেত্রে বিশেষ অবদানের জন্য ঢাকার জুরাইনে আদ-দ্বীন ব্যারিস্টার রফিক-উল হক হাসপাতালের সেবা কার্যক্রম চালু করা হয়েছে।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশনের প্রেসিডেন্ট কাজী রফিকুল আলম। এ ছাড়া বক্তব্য দেন সাবেক সচিব ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ আব্দুল মজিদ, সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী এ এম হাসান আরিফ, আহ্ছানউল্লা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. কাজী শরিফুল আলম, ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশনের সাধারণ সম্পাদক ড. এস এম খলিলুর রহমান, নির্বাহী পরিচালক ড. এম এহ্ছানুর রহমান প্রমুখ।



মন্তব্য