kalerkantho


বিমসটেক বিদ্যুৎ গ্রিড সংযোগে সমঝোতা

১৮ দফা যৌথ ঘোষণা

কূটনৈতিক প্রতিবেদক   

১ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



বিমসটেক বিদ্যুৎ গ্রিড সংযোগে সমঝোতা

বিমসটেক অঞ্চলে বিদ্যুৎ গ্রিড সংযোগ স্থাপনে সদস্য দেশগুলো একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই করেছে। গতকাল শুক্রবার দুুপুরে কাঠমাণ্ডুতে চতুর্থ বিমসটেক সম্মেলনের দ্বিতীয় ও শেষ দিনের সেশনে জোটের সদস্য সাত দেশের শীর্ষ নেতাদের উপস্থিতিতে তাদের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা ওই এমওইউ সই করেন। এর ফলে বিমসটেক অঞ্চলে বিদ্যুৎ খাতে সহযোগিতার নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে বলে সদস্য সাত দেশ বাংলাদেশ, ভুটান, ভারত, মিয়ানমার, নেপাল, শ্রীলঙ্কা ও থাইল্যান্ড আশা করছে।

এদিকে সম্মেলনের রিট্রিট সেশনে বাংলাদেশের পক্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিমসটেক অঞ্চলে সৌর বিদ্যুৎ গ্রিড ও যাত্রীবাহী জাহাজ চলাচল সেবা চালুর প্রস্তাব দিয়েছেন। সম্মেলন শেষে গৃহীত যৌথ ঘোষণায় জাতিসংঘকেন্দ্রিক ন্যায্যতা ও স্বচ্ছতাভিত্তিক বিশ্ব ব্যবস্থা ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ব্যবস্থার ওপর শীর্ষ নেতারা জোর দেন।

বিমসটেকের আওতায় আঞ্চলিক সহযোগিতা আরো জোরদারে যৌথ ঘোষণায় ১৮ দফা সিদ্ধান্ত স্থান পেয়েছে। বিমসটেক নেতারা বিমসটেক মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল (এফটিএ) বিষয়ে আলোচনা দ্রুত শেষ করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন। সম্মেলন শেষে নেপাল আনুষ্ঠানিকভাবে শ্রীলঙ্কাকে বিমসটেকের সভাপতির দায়িত্ব হস্তান্তর করে। সম্মেলনের পর কাঠমাণ্ডুতে সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের উত্তরে নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রদীপ কুমার গয়ালি বলেন, বিমসটেক নেতারাও বিশ্বাস করেন এ জোট কখনো ‘দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থার (সার্ক)’ বিকল্প হতে পারবে না। বরং আঞ্চলিক সহযোগিতায় সার্ক ও বিমসটেক পরস্পরের সহযোগী হতে পারে।

রোহিঙ্গা ইস্যুতে আলোচনা হয়েছে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, কারিগরি ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার এ জোটে দ্বিপক্ষীয় বিতর্কিত ইস্যু নিয়ে আলোচনা হয় না।

নেপালের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত ১০ পৃষ্ঠার কাঠমাণ্ডু ঘোষণায় বিমসটেককে এগিয়ে নেওয়ার দৃঢ় প্রত্যয় ঘোষণার পাশাপাশি খাতভিত্তিক জোটের উদ্যোগগুলো পর্যালোচনা করা হয়েছে। সেখানে সন্ত্রাস ও আন্তদেশীয় অপরাধকে বিমসটেক দেশগুলোসহ আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে অভিহিত করে এটি মোকাবেলায় সদস্য দেশগুলোর সক্রিয় ও সমন্বিত উদ্যোগের ওপর শীর্ষ নেতাদের গুরুত্বারোপের কথা স্থান পেয়েছে। যৌথ ঘোষণার প্রথম দফাতেই সদস্য দেশগুলোর সার্বভৌম সমতা, ভৌগোলিক অখণ্ডতা, রাজনৈতিক স্বাধীনতা, শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান এবং অভ্যন্তরীণ নীতিতে হস্তক্ষেপ না করার নীতির প্রতি শীর্ষ নেতারা অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। বিমসটেকভুক্ত দেশগুলোসহ বিশ্বব্যাপী সন্ত্রাসী হামলার নিন্দা জানানো হয়েছে যৌথ বিবৃতিতে। এ ছাড়া জাতিসংঘের নেতৃত্বে স্বচ্ছ ও ন্যায্য বিশ্ব ব্যবস্থার প্রতিও শীর্ষ নেতারা অঙ্গীকার জানিয়েছেন।

যৌথ ঘোষণায় বলা হয়, শীর্ষ নেতারা বিমসটেকের আর্থিক ও প্রশাসনিক বিষয়াদি এবং বিমসটেক কেন্দ্রগুলোর কর্মকাণ্ডগুলো দেখভালোর জন্য বিমসটেক স্থায়ী ওয়ার্কিং কমিটি গঠনের নির্দেশনা দিয়েছেন। তাঁরা সদস্য দেশগুলোর স্বেচ্ছায় চাঁদা দেওয়ার মাধ্যমে বিমসটেক উন্নয়ন তহবিল গড়ার সম্ভাবনা খতিয়ে দেখতেও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়/সংস্থাগুলোকে নির্দেশনা দেন।

যৌথ ঘোষণায় বিমসটেক সচিবালয়ের প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো জোরদারের লক্ষ্যে সদস্য দেশগুলোর সম্মতি স্থান পেয়েছে। এই জোটকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আরো দৃশ্যমান করতে অভিন্ন ইস্যুতে একসঙ্গে কাজ করার ওপর শীর্ষ নেতারা জোর দিয়েছেন। বিমসটেকের সাবেক মহাসচিব সুমিত নাকানদালার ভূমিকার প্রশংসার পাশাপাশি মহাসচিব হিসেবে এম শহীদুল ইসলামের নিয়োগকে তাঁরা স্বাগত জানান।

শীর্ষ নেতারা বিমসটেকের আওতায় আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদারে নিয়মিত শীর্ষ সম্মেলন করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।



মন্তব্য