kalerkantho


ভুটানকে গুঁড়িয়ে দিয়ে ফাইনালে মেয়েরা

ক্রীড়া প্রতিবেদক   

১৭ আগস্ট, ২০১৮ ০০:০০



ভুটানকে গুঁড়িয়ে দিয়ে ফাইনালে মেয়েরা

ভুটানকে হারিয়ে সাফ অনূর্ধ্ব-১৫ নারী ফুটবলের ফাইনালে বাংলাদেশের মেয়েরা। ছবি : বাফুফে

স্বাগতিকদের ঘিরে ‘ভয়’ জয় করে বাংলাদেশ পৌঁছে গেছে ফাইনালে। সেমিফাইনালে ৫-০ গোলে ভুটানকে হারিয়ে লাল-সবুজের মেয়েরা স্বপ্নপূরণের দ্বারপ্রান্তে। শিরোপা ধরে রাখার লড়াইয়ে চূড়ান্ত জয় থেকে আর এক ম্যাচ দূরে দাঁড়িয়ে তহুরা-মারিয়ারা স্বপ্ন দেখছে, ‘যে ধারায় খেলে আসছি, ফাইনালেও সেই ছন্দে খেলে শিরোপা আমাদেরই থাকবে।’ আগামীকাল সাফ অনূর্ধ্ব-১৫ মহিলা ফুটবলের ফাইনালে তারা চাংলিমিথাং স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হবে ভারতের।

ম্যাচের আগেই বাংলাদেশ কোচের কণ্ঠে ছিল দারুণ আত্মবিশ্বাস। ভুটানের ফুটবল নিয়ে গোলাম রব্বানী ছোটনের মনে ভয় ছিল না কোনো। তিনি বলেছিলেন স্বাগতিক দর্শক-সমর্থকদের বাড়তি উদ্দীপনার ভয়ের কথা। সেটাই না চাপ হয়ে চেপে বসে বাংলার মেয়েদের স্বাভাবিক খেলা ভুলিয়ে দেয়। তবে সে রকম হয়নি। তারা দেখিয়েছে সর্বোচ্চ রকমের মনঃসংযোগ, যেখানে বাইরের কোনো চাপ-তাপ তাদের স্পর্শ করে না। চূড়ান্ত প্রতিকূলতার মধ্যেও তারা সেরা খেলাটা খেলতে জানে। এমন পরিণত ফুটবল দেখে তাদের কোচও বেজায় খুশি, ‘আমি যে আগে বলেছিলাম তারা গতবারের চেয়ে উন্নতি করেছে। অনেক পরিণত হয়েছে। সেটাই দেখা গেছে আজকের ম্যাচে। প্রতিপক্ষের এত সমর্থনের মধ্যেও তারা মাথা ঠাণ্ডা রেখে কৌশল মেনে খেলেছে এবং দলকে ফাইনালে তুলে নিয়েছে।’ সেই সুবাদে জয়টাও হয়েছে আগের চেয়ে বড়। গত ডিসেম্বরে এই টুর্নামেন্টে বাংলাদেশ ৩-০ গোলে হারিয়েছিল ভুটানকে। এবার তার সঙ্গে যোগ হয়েছে আরো দুই গোল।    

তবে মাঠের পারফরম্যান্সে পাকিস্তান ও নেপালের মতো অসহায় ছিল না ভুটান। তারা খেলেছে, আক্রমণে উঠেছে; কিন্তু সেসবে টলেনি বাংলাদেশ ডিফেন্স। উল্টো বাংলাদেশের আক্রমণে ভুটানি ডিফেন্স তছনছ। ১৮ মিনিটে বল ক্লিয়ার করেও পারেনি গোল ঠেকাতে। বক্সের বাইরে থেকে আনাই মোগিনির দারুণ শট জালে পৌঁছে গেলে এগিয়ে যায় চ্যাম্পিয়নরা। সুবাদে তিন ম্যাচে এই স্ট্রাইকারের গোল হয়েছে তিনটি। ৩৮ মিনিটে ২-০-তে এগিয়ে নেয় আনাইয়ের বোন আনুচিং মোগিনি, বক্সের ওপর থেকে তার ডান পায়ের ভলি গোলরক্ষককে কোনো সুযোগ না দিয়ে জড়িয়ে যায় জালে। দুই বোনের কীর্তির পর ৪৩ মিনিটে ভুটানি গোলরক্ষক করে বসে আরেক বড় ভুল। নিরীহ বল তার হাত ফসকে গেলে সাজেদা পোস্টের সামনে ঠেলে স্কয়ার পাস। তাতেই চার গোল নিয়ে তহুরা গোলদাতার তালিকায় শীর্ষে নাম লিখিয়েছে শামসুন্নাহারের পাশে।

বিরতি পর আবার শুরু হয় গোল উৎসব। আসলে ভুটানের আক্রমণের সঙ্গে রক্ষণের কোনো সংযোগ নেই। বাংলাদেশের দ্রুতগতির ফরোয়ার্ডদের সামনে এমন অগোছালো থাকলে তো মূল্য দিতেই হবে। ৬৯ মিনিটে অধিনায়ক মারিয়া মান্ডার গোলে ব্যবধান বেড়ে হয় ৪-০। ৮৬ মিনিটে বদলি শাহেদা আক্তারের শেষ গোলের খানিক পরই শুরু হয় ফাইনালে ওঠার উৎসব। সেখানে প্রতিপক্ষ গতবারের মতো এবারও ভারতই, যারা গতকাল ২-১ গোলে নেপালকে হারিয়ে ফাইনালে উঠেছে।

 



মন্তব্য