kalerkantho


শেখ হাসিনা বললেন

দেশের জন্য কিছু যদি করতে পারি আব্বার আত্মা শান্তি পাবে

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১৫ আগস্ট, ২০১৮ ০০:০০



দেশের জন্য কিছু যদি করতে পারি আব্বার আত্মা শান্তি পাবে

ছবি : কালের কণ্ঠ

প্রধানমন্ত্রী ও বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘স্বজন হারানোর বেদনা নিয়ে আমাকে চলতে হয়। আমার চলার পথ কখনোই খুব সহজ নয়, আমি জানি।’ তিনি বলেন, ‘আমার সব সময় মনে হয়, এ দেশের মানুষের ভালোর জন্য যদি একটি ছোট কাজও করতে পারি, তাহলে আমার আব্বার আত্মা শান্তি পাবে; তিনি জানতে পারবেন। এটা আমার উপলব্ধি।’

গতকাল মঙ্গলবার গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ঢাকা-টাঙ্গাইল চার লেন মহাসড়কের ২৩টি সেতু এবং ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ফেনীর ফতেপুর রেলওয়ে ওভারপাস উদ্বোধনকালে এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যের শুরুতে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ পঁচাত্তরের ১৫ই আগস্ট নিহতদের গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। একই সঙ্গে জাতীয় চার নেতা, মুক্তিযুদ্ধের ৩০ লাখ শহীদ, দুই লাখ সম্ভ্রমহারা মা-বোনসহ দেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলন-সংগ্রামে নিহত সবাইকে গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘জাতির পিতা বাংলার মানুষের মুক্তি চেয়েছিলেন। দীর্ঘ ২৩ বছরের সংগ্রামের মধ্য দিয়ে আমরা স্বাধীনতা অর্জন করি। স্বাধীনতার পর একটা যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ তিনি গড়ে তুলেছিলেন। চেয়েছিলেন বাঙালির জীবনমান উন্নত হবে, দুঃখী মানুষের মুখে হাসি ফুটবে, বাংলার মানুষের অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, চিকিৎসা, শিক্ষার সুযোগ হবে। বাংলার মানুষ উন্নত জীবন পাবে, এটাই ছিল তাঁর জীবনের একমাত্র কামনা।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘মাত্র সাড়ে তিন বছর, একটা যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ, ৯ মাসের মধ্যে আমাদের একটা সংবিধান দিলেন, যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশকে গড়ে তুলে স্বল্পোন্নত পর্যায়ে নিয়ে গিয়েছিলেন। বাংলাদেশের বিধ্বস্ত ধ্বংসস্তূপের ওপর দাঁড়িয়ে তিনি যাত্রা শুরু করেন। আমরা বিজয়ী জাতি। কিন্তু পরাজিত শক্তিরা কখনো বসে থাকেনি। তাদের ষড়যন্ত্র অব্যাহত থাকে। তারা দেখতে পেল বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে অর্থনীতিতে, বাংলাদেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন হতে যাচ্ছে, তখনই চরম আঘাত হানল পঁচাত্তরের ১৫ই আগস্ট।’

তিনি বলেন, ‘এ আঘাত যে শুধু দেশের রাষ্ট্রপতিকে হত্যা করা তা নয়, একটি পরিবারকে শেষ করে দিল। তারা আমার ১০ বছর বয়সী ছোট ভাইকেও হত্যা করল। তাদের উদ্দেশ্য ছিল, এ রক্তের কেউ যাতে নেতৃত্বে না আসতে পারে।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘একটা দিনে আমি আর আমার ছোট বোন (শেখ রেহানা) সবই হারালাম। মা, বাবা, ভাই নাই, আমরা এতিম হয়ে গেলাম। আমাদের ঘর নাই, বাড়ি নাই। ছয়টি বছর দেশে আসতে পারি নাই। আওয়ামী লীগ আমার অনুপস্থিতিতে আমাকে সভাপতি নির্বাচিত করে। অনেক বাধাবিঘ্ন পেরিয়ে দেশে আসি। কিন্তু আমাকে ৩২ নম্বরের বাড়িতে ঢুকতে দেওয়া হয়নি। ওই ভবনে গিয়ে দোয়া করার অধিকার আমার ছিল না। হত্যাকারীদের বিচার না করে ইনডেমনিটি দিয়ে বিভিন্ন দূতাবাসে চাকরি দেওয়া হয়েছিল।’ তিনি বলেন, ‘আমি রিক্ত, নিঃস্ব হয়ে দেশে ফিরেছিলাম। দেশে এসে সারা দেশ ঘুরেছি, পেয়েছিলাম মানুষের ভালোবাসা। আর আমাদের অগণিত কর্মীর সহযোগিতা।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘স্বজন হারানোর বেদনা নিয়ে আমাকে চলতে হয়। আমার চলার পথ কখনো সহজ নয়, আমি জানি। বারবার আমাকে মৃত্যুর মুখোমুখি হতে হয়েছিল; কিন্তু আমি পিছিয়ে যাইনি। পিছিয়ে যাওয়ার চেষ্টাও করিনি। দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য যা যা চেষ্টা করার দরকার তাই চালিয়ে যাচ্ছি।’

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তিনি একটি আধুনিক যোগাযোগব্যবস্থা গড়ে তুলতে চান। সড়ক যোগাযোগ আধুনিক করতে ভবিষ্যতে অনেক পরিকল্পনা রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘ঢাকা-চট্টগ্রাম, ঢাকা-সিলেট, ঢাকা-দিনাজপুর পর্যন্ত আমরা দ্রুতগামী বুলেট ট্রেন করে দেব। এখন আধুনিক অনেক যোগাযোগব্যবস্থা গড়ে তুলছি।’

যেসব মহাসড়ক চার লেনে উন্নীত করা হচ্ছে সেগুলোর পাশে আলাদা সার্ভিস লেন করা হচ্ছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘হাইওয়তে দ্রুতযান চলবে। স্থানীয় জনগণ যাতে যোগাযোগ অব্যাহত রাখতে পারে আমরা সেই পরিকল্পনা নিয়ে চার লেনের সড়কের পাশে আলাদা লেন করছি, যাতে লোকাল যানবাহন চলাচল করতে পারে। রেললাইন যেখানে, সেখানে প্রয়োজনে ওভারপাস এবং আন্ডারপাস করে দিচ্ছি।’

অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ। ভিডিও চিত্র তুলে ধরেন সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব নজরুল ইসলাম।



মন্তব্য