kalerkantho


যুক্তরাষ্ট্রে বিমান চুরি দেড় ঘণ্টা পর বিধ্বস্ত

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১২ আগস্ট, ২০১৮ ০০:০০



যুক্তরাষ্ট্রে বিমান চুরি দেড় ঘণ্টা পর বিধ্বস্ত

যুক্তরাষ্ট্রের সিয়াটল বিমানবন্দর থেকে একটি বিমান চুরি হওয়ার ঘণ্টা দেড়েক পর বিধ্বস্ত হয়েছে। তবে বিমানে কোনো যাত্রী ছিল না। শুক্রবার রাতে এক বিমানকর্মী হঠাৎ বিমানটি নিয়ে আকাশে উড়াল দেন। এ ঘটনায় বেশ আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং কয়েক ঘণ্টা বিমানবন্দরের উড্ডয়ন-অবতরণ বন্ধ রাখা হয়। স্থানীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এটি কোনো সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড নয়।

২৯ বছর বয়সী যে ব্যক্তি এ কাণ্ড ঘটিয়েছেন, তিনি যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক। তাৎক্ষণিক তাঁর নাম-ঠিকানা জানা যায়নি। তিনি হরিজন এয়ারের ‘গ্রাউন্ড সার্ভিস এজেন্ট’ হিসেবে সিয়াটল-টাকোমা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে কাজ করতেন। তাঁর দায়িত্ব ছিল বিমান উড্ডয়নে নির্দেশনা দেওয়া, অবতরণের সময় রানওয়ে নির্দিষ্ট করে দেওয়া এবং অবতরণের পর বিমান পরিষ্কার করা। ৭৬ আসনের ‘কিউ৪০০’ মডেলের যে বিমানটি নিয়ে তিনি পালিয়েছিলেন, সেটি ছিল ‘হরিজন এয়ার’-এর। এটি ‘আলাস্কা এয়ারলাইনসের’ সহযোগী প্রতিষ্ঠান।

ঘটনা শুরু হয় স্থানীয় সময় রাত ৮টার দিকে। বিমানবন্দরের সময়সূচি অনুযায়ী, তখন আলাস্কা এয়ারলাইনসের একটি বিমান উড্ডয়ন করার কথা ছিল। ওই বিমানের যাত্রী ছিলেন বেন শায়েচটার নামের এক ব্যক্তি। ঘটনার পরপরই টুইটারে তিনি লেখেন, ‘নিয়ন্ত্রণ কক্ষের নির্দেশনা অমান্য করে এইমাত্র এক ব্যক্তি একাই একটি ফাঁকা বিমান নিয়ে উড্ডয়ন করল। নিয়ন্ত্রণ কক্ষ এখন আমাদের বিমানটি আটকে দিয়েছে এবং ওই উন্মাদ পাইলটের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করছে।’

এ ঘটনার পরপরই ‘এফ-১৫’ মডেলের দুটি যুদ্ধবিমান চুরি হওয়া বিমানটির পিছু নেয়। কিন্তু প্রায় দেড় ঘণ্টা পর বিমানটি ‘পুগেট সাউন্ড’ দ্বীপে বিধ্বস্ত হয়। ওই দ্বীপে খুব একটা জনবসতি নেই। স্থানীয় পিয়ের্স কাউন্টি শেরিফের দপ্তর থেকে জানানো হয়, বিমান নিয়ে পালানো ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। তবে বিস্তারিত পরিচয় জানানো হয়নি।

বিমানটি উড্ডয়নের পর অনেকেই তা ভিডিও করেন। তাঁদের একজন হলেন জন ওয়ালড্রোন। সিএনএনকে তিনি বলেন, ‘বিমানটি বেপোরায়াভাবে আকাশে উড়তে থাকায় এবং দুটি যুদ্ধবিমান সেটির পিছু নেওয়ায় আমি ভিডিও করার ব্যাপারে আগ্রহী হয়ে উঠি। প্রথমে আমার কাছে মনে হয়েছিল, এটা কোনো প্রশিক্ষণের অংশ হতে পারে। তার পরও তিনটি বিমানের গতিবিধি উদ্ভট লাগছিল।’ চুরি হওয়া বিমানটি কয়েকবার প্রায় ১০০ ফুট উচ্চতায় নেমে আসে বলেও জানান তিনি। ওয়ালড্রোন বলেন, ‘শেষমেশ কোনো রকমে বিমানটি নিয়ন্ত্রণে ফিরে আসে এবং পুগেট সাউন্ড দ্বীপের দিকে চলে যায়।’

‘পুগেট সাউন্ড’ দ্বীপের যে স্থানে বিমানটি বিধ্বস্ত হয়, সেখান থেকে সিয়াটল-টাকোমা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের দূরত্ব ৩০ মাইলের মতো। পিয়ের্স কাউন্টি শেরিফের কর্মকর্তা এডওয়ার্ড ট্রয়ার এক টুইটার বার্তায় বলেন, ‘এটা কোনো সন্ত্রাসী হামলা নয়। এ ছাড়া বিমানটি বিধ্বস্ত হওয়ার ক্ষেত্রে যুদ্ধবিমানের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। আত্মঘাতী এক পুরুষ এ ঘটনা ঘটিয়েছেন এবং আমরা তাঁর পরিচয় জানি।’

ওই ব্যক্তি কী উদ্দেশ্যে বিমানটি নিয়ে পালিয়েছিলেন, তা তাৎক্ষণিক জানা যায়নি। তবে বিমানবন্দরের নিয়ন্ত্রণ কক্ষের সঙ্গে তাঁর কিছু কথোপকথনের তথ্য পাওয়া গেছে। একপর্যায়ে তিনি নিয়ন্ত্রণ কক্ষের কাছে জানতে চান, বিমানটিতে পর্যাপ্ত জ্বালানি আছে কি না। এরপর বলেন, তিনি একাই অবতরণ করতে পারবেন; কারণ তার ভিডিও গেমস খেলার কিছু অভিজ্ঞতা রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা এফবিআই এ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। অন্যদিকে কয়েক ঘণ্টা বন্ধ থাকার পর স্বাভাবিক কার্যক্রমে ফিরেছে সিয়াটল-টাকোমা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর। সূত্র : এএফপি, বিবিসি।



মন্তব্য