kalerkantho


কলকাতায় অমিত শাহ

কেন বাংলাদেশের অনুপ্রবেশকারীর পক্ষে মমতা?

কলকাতা প্রতিনিধি   

১২ আগস্ট, ২০১৮ ০০:০০



কেন বাংলাদেশের অনুপ্রবেশকারীর পক্ষে মমতা?

ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) সর্বভারতীয় সভাপতি অমিত শাহ গতকাল শনিবার পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও ভারতের কংগ্রেস দলের সভাপতি রাহুল গান্ধীকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে বলেছেন, আসামে জাতীয় নাগরিক পঞ্জির (এনআরসি) যে কাজ বিজেপি শুরু করেছে, তা উনারা কোনোভাবেই আটকাতে পারবেন না। একই সঙ্গে তিনি এও বলেছেন যে বাংলাদেশ, পাকিস্তান, আফগানিস্তান থেকে উগ্রপন্থীরা ভারতে ঢুকছে এবং তাদের আটকাতেই এনআরসির মতো পদক্ষেপ জরুরি। মমতার দিকে প্রশ্ন ছুড়ে তিনি বলেন, ‘মমতা কেন বাংলাদেশ থেকে আসা অনুপ্রবেশকারীদের পক্ষে, সেটা তাঁকে বলতে হবে।’

আসাম সরকার প্রকাশিত নাগরিক পঞ্জি নিয়ে ভারতের রাজনীতি এ মুহূর্তে উত্তাল রয়েছে। রাজ্যে বসবাসরত প্রায় ৪০ লাখ মানুষের নাম ওই তালিকা থেকে বাদ পড়েছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তাঁর দল এ তালিকার বিরোধিতা করছে। গতকাল অমিত শাহের কলকাতায় জনসভার দিনে রাজ্যে মমতার দল তৃণমূল কংগ্রেস কালো দিবস পালন করেছে এবং এনআরসির প্রতিবাদে বিভিন্ন এলাকায় পথসভা করে বিজেপিকে ধিক্কার জানিয়েছে।

নাগরিক পঞ্জি প্রকাশের পর প্রথমবার পূর্ব ভারতে এসে অমিত শাহ নিশানা করেন মমতা ও রাহুলকে। ভারতে আগামী বছর লোকসভা নির্বাচন। বলা যেতে পারে, মমতা ও রাহুলকে কলকাতার জনসভা থেকেই আক্রমণের মধ্য দিয়ে অমিত শাহ ২০১৯-এর লোকসভা ভোটের প্রস্তুতি শুরু করে দিলেন। তিনি বলেন, তৃণমূলকে পশ্চিমবঙ্গ থেকে উপড়ে ফেলতে হবে।

আসামের নাগরিক পঞ্জির পর বিজেপির কিছু নেতা পশ্চিমবঙ্গেও নাগরিক পঞ্জির দাবি তোলে। শাহ এ বিষয়ে বলেন, ‘বাংলার মানুষকে বলতে চাই, বিদেশি অনুপ্রবেশকারীদের বের করাই নাগরিক পঞ্জি। আমাদের কাছে দেশ আগে, পরে অনুপ্রবেশকারী।’ তিনি আরো জানান, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান শরণার্থীদের এ দেশে নাগরিক করতে বিল আনবে কেন্দ্র। সেই বিল আইনে পরিণত করা আটকানোর ক্ষমতা থাকলে মমতা যেন আটকান। তিনি বলেন, ‘আমরা বাংলাবিরোধী নই; কিন্তু মমতাবিরোধী। মমতা সরকারকে উৎখাত করতে হবে।’



মন্তব্য