kalerkantho


আরিফুলই সিলেটের নগরপিতা

সিলেট অফিস   

১২ আগস্ট, ২০১৮ ০০:০০



আরিফুলই সিলেটের নগরপিতা

ফল নিশ্চিতই ছিল। এর পরও নিয়ম রক্ষার পুনর্ভোটে ব্যবধান আরো বাড়িয়ে বিএনপির আরিফুল হক চৌধুরীই ফের সিলেটের নগরপিতা হয়েছেন। সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগ প্রার্থী বদর উদ্দিন আহমদ কামরানকে ছয় হাজার ২০১ ভোটে পরাজিত করে তিনি বেসরকারিভাবে মেয়র নির্বাচিত হলেন। সিলেট সিটির মেয়র পদে আরিফুলের এটি টানা দ্বিতীয় জয়। ১৩৪টি কেন্দ্র মিলিয়ে ধানের শীষ প্রতীকে আরিফুল হক চৌধুরী পেয়েছেন ৯২ হাজার ৫৯৮ ভোট। আর নৌকা প্রতীকে বদরউদ্দিন আহমদ কামরান পেয়েছেন ৮৬ হাজার ৩৯৭ ভোট। গতকাল শনিবার অনুষ্ঠিত স্থগিত দুই কেন্দ্রে আরিফুল হক চৌধুরী পান দুই হাজার ১০২ ভোট আর বদর উদ্দিন আহমদ কামরান পেয়েছেন মাত্র ৫২৮ ভোট।

গত ৩০ জুলাই অনুষ্ঠিত সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচনে গোলযোগের কারণে দুটি ভোটকেন্দ্রের ভোট স্থগিত করা হয়। এর মধ্যে একটি ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের গাজী বুরহান উদ্দিন গরম দেওয়ান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং অন্যটি ২৭ নম্বর ওয়ার্ডের হবিনন্দী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র। দুই কেন্দ্রের ভোটার সংখ্যা চার হাজার ৪৮৭ জন। বাকি ১৩২টি কেন্দ্রে কামরানের চেয়ে চার হাজার ৬২৬ ভোটে এগিয়ে ছিলেন আরিফ। তবে স্থগিত দুই কেন্দ্রের ভোট চার হাজার ৭৮৭ হওয়ায় আরিফকে জয়ী ঘোষণা না করে ওই দুই কেন্দ্রে পুনর্নির্বাচনের সিদ্ধান্ত নেয় নির্বাচন কমিশন।

গতকাল শনিবার পুনর্ভোটে গাজী বুরহান উদ্দিন গরম দেওয়ান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ধানের শীষের আরিফ পেয়েছেন এক হাজার ৪৯ ভোট আর নৌকার কামরান পেয়েছেন ১৭৪ ভোট। অন্যদিকে হবিনন্দী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ধানের শীষের আরিফ পেয়েছেন এক হাজার ৫৩ ভোট আর নৌকার কামরান পেয়েছেন ৩৫৪ ভোট। নির্বাচনের বিষয়ে রিটার্নিং অফিসার মো. আলীমুজ্জামান বলেন, ‘আজ পুনর্ভোট সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ হয়েছে। কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।’

উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটগ্রহণ : সময়ের ব্যবধান মাত্র ১১ দিন। ৩১ জুলাই থেকে ১১ আগস্ট। কিন্তু ভোটের পরিবেশ সম্পূর্ণ ভিন্ন। জাল ভোটের ছড়াছড়ি নেই, পাল্টাপাল্টি হামলা কিংবা গোলাগুলিও নেই। সিলেটের চিরায়ত সেই ছবি। ভোটারদের দীর্ঘ লাইন। উৎসবমুখর পরিবেশেই অনুষ্ঠিত হলো সিটি করপোরেশন নির্বাচনের স্থগিত দুই ভোটকেন্দ্র ও সমভোটের কারণে সংরক্ষিত ৭ নম্বর ওয়র্ডের ১৪টি ভোটকেন্দ্রের পুনর্ভোট। ৩০ জুলাইয়ের নির্বাচনের উদ্বেগ-উৎকণ্ঠাকে পেছনে ফেলে ১৬টি কেন্দ্রে ভোট দিয়েছেন ভোটাররা। তুমুল বৃষ্টি মাথায় নিয়ে গতকাল শনিবার সকাল ৮টায় শুরু হয় ভোট। শুরুতে ভোটার উপস্থিতি কম থাকলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়তে থাকে উপস্থিতি। সকাল ৯টার দিকে ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের টুলটিকরের গাজী বুরহান উদ্দিন গরম দেওয়ান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রে খোঁজ নিয়ে দেখা যায়, এক ঘণ্টায় সেখানে ছয়টি বুথে ভোট পড়েছে ১৪৪টি। তবে দুপুর ১২টার দিকে বুথগুলোর সামনে সবচেয়ে বেশি ভোটার উপস্থিতি দেখা যায়। এ সময় ভোটও পড়ে বেশি। দুপুর ২টার দিকে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এক হাজার ১৮১ ভোট গ্রহণ করা হয়েছে।

একই চিত্র ছিল ২৭ নম্বর ওয়ার্ডের হবিনন্দী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রের। সকালে ভোটগ্রহণ শুরু হলে ভোটারদের উপস্থিতি কম দেখা যায়। তবে ১০টার দিকে বৃষ্টি কমে এলে কেন্দ্রের আটটি বুথে লাইন দীর্ঘ হতে থাকে। হবিনন্দী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রের প্রিসাইডিং অফিসার মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘শান্তিপূর্ণ পরিবেশেই ভোট হয়েছে। আমার কেন্দ্রে ৫৭ শতাংশ ভোট গ্রহণ হয়েছে।’

দুটি কেন্দ্রেই মেয়র প্রার্থীরা পরিদর্শনে আসেন। পরিদর্শন শেষে আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, ‘জনগণের রায় ছিনিয়ে নেওয়া যায় না। জনগণ প্রমাণ করেছে কোনো ষড়যন্ত্র শাহজালালের পুণ্যভূমি সিলেটে কার্যকর হয় না।’ বদরউদ্দিন আহমদ কামরান বলেন, ‘বর্তমান নির্বাচন কমিশন (ইসি) প্রমাণ করেছে তাদের অধীনে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব।’



মন্তব্য