kalerkantho


ঈদ যাত্রায় উন্মুখ নগরবাসী

বিপৎসংকেত মহাসড়কে

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১২ আগস্ট, ২০১৮ ০০:০০



বিপৎসংকেত মহাসড়কে

চার লেনের কাজ চলায় এক লেনে যাতায়াত। গত ঈদ যাত্রার দুর্ভোগ এবারও সঙ্গী হতে পারে বাড়িফেরাদের। কালিয়াকৈরের দৃশ্য। ছবি : কালের কণ্ঠ

সড়কপথে প্রতিবছর ঈদ যাত্রায় রাজধানী থেকে ঘরমুখো মানুষকে পোহাতে হয় সীমাহীন দুর্ভোগ। আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে কয়েক দিন পর শুরু হবে ঈদ যাত্রা। কিন্তু নানা সমস্যার কারণে দেশের গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কগুলো এখন থেকেই দিচ্ছে বিপৎসংকেত। কোথাও চলছে সংস্কারকাজ, কোথাও রয়েছে খানাখন্দ। আবার বৃষ্টির কারণে কোনো কোনো মহাসড়ক এরই মধ্যে বেহাল। ফলে সড়কপথে চলাচলকারীদের আশঙ্কা, সময়মতো ব্যবস্থা না নিলে এবারও দুর্ভোগ থেকে রক্ষা হবে না। যদিও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বলছে, সমস্যা চিহ্নিত করে বিভিন্ন স্থানে সংস্কারকাজ চলছে, ঈদ যাত্রার আগেই তা শেষ হবে।

ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক দিয়ে রাজধানী থেকে উত্তরবঙ্গে ১৬টি জেলার যানবাহন চলাচল করে। এই মহাসড়কে এখনো চলছে চার লেনের কাজ। চন্দ্রা থেকে এলেঙ্গা পর্যন্ত ফোর লেনে গাড়ি চলাচল করলেও সড়কের ওই অংশের দুই পাশে এখনো পিচ ঢালাই হয়নি। ফলে আসন্ন ঈদ যাত্রা নিয়ে চরম ভোগান্তির কারণ হতে পারে এই অংশ। তবে কর্তৃপক্ষ বলছে, চন্দ্রা থেকে এলেঙ্গা পর্যন্ত ফোর লেন সড়কে ২৩টি ব্রিজ খুলে দেওয়ার কারণে এবার কোনো ভোগান্তি হবে না।

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার মেঘনা সেতু টোল প্লাজার পশ্চিম পাশের সড়কটি খানাখন্দে ভরা। ফলে প্রতিবছরের মতো এবারও ভোগান্তি পোহাতে হতে পারে এ পথে চলাচলকারীদের। কাঁচপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় সেতুর নির্মাণকাজ চলার কারণে মহাসড়কের একাংশ কেটে ফেলা হয়েছে। ফলে এখন থেকেই যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে।

ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে ভোগান্তির জায়গা গাজীপুর অংশে। চান্দনা চৌরাস্তা থেকে টঙ্গীর তুরাগ সেতু পর্যন্ত ১২ কিলোমিটার অংশে পানি জমে দুই পাশে তৈরি হয়ে আছে বিশাল নালা। এর সুরাহা না হলে ঈদ যাত্রায় দুর্ভোগ আরো বাড়বে।

ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের ভুরঘাটা, কাসেমাবাদ, বামরাইল, অশোকাঠি, বাটাজোর, বার্থী, কটকস্থল, টরকী, কসবা, গৌরনদী, দক্ষিণ বিজয়পুর, মাহিলাড়া ও জয়শ্রী এলাকায় রয়েছে ছোট-বড় অনেক গর্ত। ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের রাজবাড়ী-কুষ্টিয়া আঞ্চলিক মহাসড়ক এখন বেহাল। ঢাকা-আরিচা সড়কের সমস্যা অবৈধ পার্কিং আর হাট-বাজার।

বিস্তারিত আমাদের আঞ্চলিক অফিস, নিজস্ব প্রতিবেদক ও প্রতিনিধিদের পাঠানো সরেজমিন প্রতিবেদনে—  

ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে মহাদুর্ভোগের শঙ্কা : ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের বিভিন্ন অংশে এখনো চার লেনের কাজ চলছে। কালিয়াকৈর অংশে সড়কের বিভিন্ন অংশে পিচ ঢালাইয়ের কাজ এখনো বাকি। ফলে বৃষ্টি হলে সড়কের কাঁচা অংশে বৃষ্টির পানি জমে যানবাহন চলাচলে দুর্ভোগ সৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে। চন্দ্রা থেকে এলেঙ্গা পর্যন্ত ফোর লেনে গাড়ি চলাচল করলেও সড়কের ওই অংশের দুই পাশে এখনো পিচ ঢালাই দেওয়া হয়নি। চন্দ্রা থেকে কোনাবাড়ী পর্যন্ত চার লেনের কাজের এখনো অনেক বাকি। ফলে আসন্ন ঈদ যাত্রা নিয়ে চরম ভোগান্তির কারণ হতে পারে এই অংশ।

এ ব্যাপারে জয়দেবপুর-চন্দ্রা-এলেঙ্গা চার লেন উন্নীতকরণ প্রজেক্টের উপসহকারী ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মো. রুকনুজ্জামান বলেন, ‘চার লেনের কাজের ৭০ শতাংশ শেষ হয়েছে। এর মধ্যে ৫০ কিলোমিটার সড়কে কার্পেটিং করা হয়েছে। চন্দ্রা থেকে এলেঙ্গা পর্যন্ত চার লেনে গাড়ি চলাচল করছে। এর মধ্যে কিছু অংশে সড়কের দুই পাশে কর্পেটিং করা না হলেও গাড়ি চলাচলে কোনো সমস্যা হবে না।

এবার চন্দ্রা থেকে এলেঙ্গা পর্যন্ত ২৩টি ব্রিজ খুলে দেওয়া হবে, যা ঈদের আগেই মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে উদ্বোধন করবেন।  ব্রিজগুলো গত ঈদুল ফিতরে খোলা ছিল না। গত ঈদে যতটুকু সমস্যা ছিল এবার তাও থাকবে না ২৩টি ব্রিজ খুলে দেওয়ার কারণে।

গতকাল সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, মহাসড়কের চন্দ্রা থেকে কালিয়াকৈরের সূত্রাপুর পর্যন্ত চার লেনে চলাচল করছে গাড়ি। কিন্তু সড়কের ওই অংশের দুই পাশে বিভিন্ন স্থানে কাঁচা রয়েছে। বৃষ্টি হলে সড়কের ওই কাঁচা অংশে যান চলাচলে কিছুটা বিঘ্ন ঘটতে পারে। সড়কের পল্লীবিদ্যুৎ এলাকায় গিয়ে দেখা যায় চার লেন সড়কের এক পাশ কার্পেটিং করা হয়েছে।

এদিকে ঢাকা-রাজশাহী মহাসড়কের অনেকটা অংশ এবার খানাখন্দকে ভরে গেছে। কোথাও কোথাও সৃষ্টি হয়েছে বড় বড় গর্ত। খানাখন্দকের কারণে এখন প্রায় প্রতিদিনই সৃষ্টি হচ্ছে যানজট। ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কটির প্রশস্তকরণ কাজ শেষ না হওয়ার কারণে ওই অংশে প্রায় প্রতিদিনই যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। কোরবানির পশুবাহী ট্রাকগুলো পড়ছে আটকা। কখনো যানবাহনের সারি দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে ঈদে নাড়ির টানে ঘরে ফেরা যাত্রীদের ভোগান্তি চরমে উঠবে বলেও আশঙ্কা করছে বাসচালক ও যাত্রীরা।

অন্যদিকে ঢাকা থেকে বগুড়ার সড়ক পথে বড় বড় গর্ত, ঝুঁকিপূর্ণ মোড় ও যত্রতত্র হাটবাজার বসার কারণে আসন্ন ঈদুল আজহার সময় পরিস্থিতি হবে ভয়াবহ। আর বৃষ্টি হলে তো রক্ষা নেই। বগুড়ার ৭৪ কিলোমিটার অংশে মূলত খানাখন্দ, সেতু সংস্কার, চার লেনের চলমান কাজের পাশাপাশি দুর্বল সড়ক ব্যবস্থাপনার কারণে দুর্ভোগ হচ্ছে বেশি।

সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের বগুড়ার তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী সাদেকুল ইসলাম বলেন, এখন মহাসড়কের যেসব জায়গায় যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে, সেসব জায়গায় সওজের নিজস্ব লোকবল দিয়ে জরুরি ভিত্তিতে মেরামত করা হচ্ছে।

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সোনারগাঁয় বেহাল সড়ক।    ছবি : কালের কণ্ঠ

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে দুর্ভোগের আশঙ্কা : ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার মেঘনা সেতু টোলপ্লাজার পশ্চিম পাশের সড়কটি খানাখন্দে ভরা। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কাঁচপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় সেতুর নির্মাণকাজ চলার কারণে মহাসড়কের একাশং কেটে ফেলায় ওই এলাকায় যানজট প্রতিনিয়িত লেগেই থাকে। এ ছাড়া মোগরাপাড়া চৌরাস্তায় পিচ ঢালাই নষ্ট হয়ে রাস্তায় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। এতে রাস্তাটি যানবাহন চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। সামান্য বৃষ্টি হলেই গুরুত্বপূর্ণ মেঘনা সেতুর টোলপ্লাজার পশ্চিম পাশের সড়কটি হাঁটু পরিমাণ পানিতে তলিয়ে যায়। এতে বৃষ্টির সময় বিভিন্ন যানবাহন চলাচল করায় রাস্তাটিতে বড় বড় গর্ত হয়েছে এবং গর্তে পানি জমে দুর্ভোগের মাত্রা আরো বেড়ে গেছে।

নারায়ণগঞ্জ সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আলিউল হোসেন কালের কণ্ঠকে বলেন, ঈদে মহাসড়কে পরিবহন চলাচলের জন্য ইতিমধ্যে অনেক স্থান মেরামত করা হয়েছে। বাকি স্থানগুলোতে খুব শিগগিরই সংস্কার করার কথা জানান তিনি।

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার চান্দিনা থেকে দাউদকান্দির মেঘনা-গোমতী সেতু পর্যন্ত বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্ত আর কয়েকটি স্থানে সংযোগ সড়ক ভেঙে যাওয়ায় যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। তা ছাড়া একই সড়কে কুটুম্বপুর থেকে ইলিয়টগঞ্জ পর্যন্ত টানা বৃষ্টিপাতের কারণে গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। ইলিয়টগঞ্জ থেকে মেঘনা-গোমতী সেতু পর্যন্ত সেতুর অ্যাপ্রোচ সড়ক ভেঙে যাওয়ায় প্রতিদিন যানজট লেগেই আছে।

কুমিল্লা সড়ক ও জনপথ বিভাগের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী রমিজ উদ্দিন বলেন, ‘ঈদের আগেই মহাসড়ক ও আঞ্চলিক সড়ক মেরামত করা হবে।’

ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের গাজীপুর অংশে চলছে সংস্কারকাজ।  ছবি : কালের কণ্ঠ

ঢাকা-মায়মনসিংহ মহাসড়কের সমস্যা গাজীপুর অংশে : ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের গাজীপুরের চান্দনা চৌরাস্তা থেকে টঙ্গীর তুরাগ সেতু পর্যন্ত ১২ কিলোমিটার অংশে পানি জমে দুই পাশে তৈরি হয়ে আছে বিশাল নালা। কোথাও খানাখন্দক, কোথাও বড় গর্ত। পানি জমে গর্ত হয়ে আছে ডোবার মতো। তা ছাড়া ড্রেনের কাজের জন্য স্থানে স্থানে খোঁড়াখুঁড়ির জন্য যানবাহন চলতে না পারায় যানজট লেগেই আছে।

পরিবহন মালিক, শ্রমিক ও যাত্রীদের দাবি শুধু এ মহাসড়ক নয়, উন্নয়নকাজ এবং ভেঙে যাওয়ায় এখনই পদক্ষেপ না নিলে আসন্ন কোরবানির ঈদে দুর্ভোগে পড়তে পারে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক এবং টঙ্গী-ঘোড়াশাল-সিলেট ও ঢাকা বাইপাস সড়কের যাত্রীরা। 

গতকাল সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের গাজীপুরের চান্দনা চৌরাস্তা থেকে টঙ্গীর এরশাদনগর পর্যন্ত দুই পাশে পানি জমে বিশাল নালার মতো রয়েছে। মহাসড়কের দুই পাশের কলকারখানা ও আশপাশের বাড়িঘরের পানি মহাসড়কে জমে নালা তৈরি হয়ে সংকুচিত হয়ে আছে মহাসড়ক। আবার সংস্কারের অভাবে ভোগড়া, মালেকের বাড়ি, হারিকেন, সাইনবোর্ড, জাতীয় বিশ্ববিদালয়, বোর্ডবাজার, গাজীপুরা, সোসেন মার্কেট, এরশাদনগর, চেরাগ আলী মার্কেট, মিলগেইট, স্টেশন রোড ও টঙ্গী বাজারে ভেঙে গর্ত সৃষ্টি হয়েছে মহাসড়কে।

গাজীপুর সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী নাহিন রেজা বলেন, ‘টঙ্গী-ঘোড়াশাল-সিলেট সড়ক মেরামতের কাজ চলছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে আসন্ন ঈদের আগেই তা মেরামতের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’

ঢাকা-বরিশাল মহাসড়ক ছোট-বড় খানাখন্দে ভরা : ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের ভুরঘাটা, কাসেমাবাদ, বামরাইল, অশোকাঠি, বাটাজোর, বার্থী, কটকস্থল, টরকী, কসবা, গৌরনদী, দক্ষিণ বিজয়পুর, আশোকাঠি, মাহিলাড়া ও জয়শ্রী এলাকায় রয়েছে ছোট-বড় অনেক গর্ত। ওই গর্তগুলো দিয়ে গাড়ি চলাচল করতে হয় ঝুঁকি নিয়ে।

বরিশাল সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী খন্দকার গোলাম মোস্তফা বলেন, ‘বৃষ্টির কারণে বিটুমিন দিয়ে টেকসই সংস্কার করা যাচ্ছে না। তবে সাময়িক মেরামত চলছে। রোদেলা মৌসুমের অপেক্ষা করছি। রোদটা পেলেই হয়তো আমরা মহাসড়কের বরিশাল অংশের স্থায়ী সংস্কারের কাজটা শুরু করব।’

বগুড়া মহাসড়কের শেরপুর অংশের সড়কে পাথর উঠে গিয়ে বেহাল। ছবি : কালের কণ্ঠ

ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের বেহাল দশা : ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের রাজবাড়ী অংশে থাকা ঢাকা-খুলনা জাতীয় মহাসড়ক, রাজবাড়ী-কুষ্টিয়া আঞ্চলিক মহাসড়কের এখন বেহাল দশা। জেলা সদরের গোয়ালন্দ মোড় থেকে পাংশার শিয়ালডাঙ্গী পর্যন্ত সড়কের উন্নয়নকাজ চলছে মন্থরগতিতে। ফলে যানবাহন চলাচলে যেমন ব্যাঘাত ঘটছে, তেমনি ধুলায় নাকাল হচ্ছে যাত্রী, পথচারী ও সড়কের পাশে বসবাসকারীরা। ঈদুল আজহা উপলক্ষে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে রাজবাড়ী, কুষ্টিয়া ও পাবনা জেলায় আগত ঘরমুখো যাত্রীদেরও দুর্ভোগ পোহাতে হবে।

রাজবাড়ী সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী খাইরুল বাশার মোহাম্মদ সাদ্দাম হোসেন বলেন, ‘রাজবাড়ী অংশে থাকা ঢাকা-খুলনা জাতীয় মহাসড়কের প্রায় ২০ কিলোমিটার অংশই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিভাগীয় মেরামত বিদ্যমান রাখায় যানচলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। খানাখন্দ থাকায় দুর্ভোগ নিয়েই চলতে হচ্ছে যাত্রীদের। তবে এই অংশের কার্পেটিং করার জন্য এরই মধ্যে ২৩ কোটি টাকার একটি প্রকল্প পরিকল্পনা কমিশনে অনুমোদনের জন্য পাঠানো হয়েছে। প্রকল্পটি অনুমোদন করা হলে জাতীয় এ সড়ক উন্নয়নকাজ করা সম্ভব হবে।’

ঢাকা-আরিচা সড়কের সমস্যা অবৈধ পার্কিং আর হাটবাজার : ‘গাবতলী থেকে পাটুরিয়া ফেরিঘাট পর্যন্ত ৫৫ কিলোমিটার পথ পার হতে আমাদের সময় লাগার কথা বড়জোড় দুই ঘণ্টা। কিন্তু আমরা তিন ঘণ্টাতেও পৌঁছাতে পারি না। কখনো কখনো সময় আরো বেশি লাগে। রাস্তা মসৃণ হলেও ঘাটে ঘাটে হাটবাজার আর অবৈধ পার্কিংয়ের জন্য আমাদের সময় অপচয় হয়।’ ঢাকা-আরিচা সড়কে চলাচলকারী ভিলেজ লাইন পরিবহনের চালক হোসেন আলী এভাবেই বর্ণনা দিয়েছেন।

মানিকগঞ্জ সড়ক ও জনপথ বিভাগের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী আবদুর রহিম জানান, ঢাকা-আরিচা সড়কের কোথাও বড় ধরনের ভাঙাচোরা নেই। গত ঈদের আগেই সড়ক মেরামত করা হয়েছে। গত কিছুদিনের বৃষ্টিতে ছোটখাটো যা হয়েছে, তা মেরামত করা হচ্ছে, যাতে ঈদের চাপের সময় কোনো সমস্যা না হয়।



মন্তব্য