kalerkantho


আর সুযোগ দিতে চায় না ক্ষমতাসীনরা

আবদুল্লাহ আল মামুন ও তৈমুর ফারুক তুষার   

১১ আগস্ট, ২০১৮ ০০:০০



আর সুযোগ দিতে চায় না ক্ষমতাসীনরা

জাতীয় নির্বাচনের আগে জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট ইস্যুতে আরো আন্দোলনের আশঙ্কা করছে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ এবং এর নেতৃত্বাধীন ১৪ দল। চলতি বছর কোটা সংস্কার ও নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলন সামাল দিতে সরকারকে যথেষ্ট বেগ পেতে হয়েছে। বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট এসব আন্দোলনে ভর করে সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে চেষ্টা করেছে বলে মনে করেন ক্ষমতাসীন দল ও জোটের নেতারা। তাঁদের মতে, সামনের দিনগুলোতে আন্তর্জাতিক একটি বিশেষ গোষ্ঠীর মদদে বিএনপি ও তার মিত্ররা এ রকম চেষ্টা আরো করতে পারে। এসব মোকাবেলা করতে এরই মধ্যে সরকারকে সতর্ক ও তৎপর থাকতে বলা হয়েছে ১৪ দলের পক্ষ থেকে। আওয়ামী লীগ ও ১৪ দল সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী গতকাল শুক্রবার কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘বিএনপির যা আচার-আচরণ! শুধু বিএনপি নয় তার দোসরদেরও কোনো কিছু স্বাভাবিকভাবে করার ধাতই নেই। তারা সব সময় চক্রান্ত, ষড়যন্ত্র করে আসছে। সে জন্য আগামী জাতীয় নির্বাচনের আগেও তাদের ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে আমাদের প্রস্তুত থাকতে হবে। আমরা যদি প্রস্তুত থাকি তবে কোনো বিশেষ পরিস্থিতি তৈরি হলেও ক্ষতির মাত্রা কম থাকে। কিন্তু অপ্রস্তুত থাকলে ক্ষতি বেড়ে যায়।’

আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘নির্বাচনের আগে যেকোনো বিশেষ পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা সব সময় আছে। বিএনপি-জামায়াত জোট সব সময় চক্রান্তে ব্যস্ত। তারা নানা ইস্যুতে মাঠ গরম করার চেষ্টা করতে পারে। এ জন্য আমাদের সব সময় সতর্ক থাকতে হবে। জনগণকে সঙ্গে নিয়ে যেন আমরা তাদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারি সেদিকে মনোযোগ দিতে হবে।’

১৪ দলের শরিক ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি ও সমাজকল্যাণ মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘নির্বাচনের আগে বিএনপি চেষ্টা করছে একটা আন্দোলন তৈরির জন্য। তারা এত দিন নিজেরা কোনো আন্দোলন তৈরি করতে পারেনি। ফলে এখন চেষ্টা করছে কোনো একটা ইস্যুতে ভর করে সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে। তারা ইস্যু তৈরির চেষ্টা করছে।’ মেনন বলেন, ‘কোটা ও নিরাপদ সড়কের দাবি এ দুটো ইস্যুতেই আমরা দেখলাম, সরকার দাবি মেনে নেওয়ার পরও একটি বিশেষ গোষ্ঠী আন্দোলন উসকে দেওয়ার চেষ্টা করছে। ফেসবুকে বাঁশের কেল্লা ও সোনার কেল্লার উসকানিমূলক পোস্টগুলো দেখলেই বোঝা যায় কারা সাধারণের আন্দোলনে ভর করে সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে চায়। কিন্তু তাদের এসব অপচেষ্টা সফল হবে না।’

১৪ দলের শরিক আরেকটি দলের সভাপতি নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের বিষয়ে শুরুতে রাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো সরকারকে সঠিক তথ্য দিতে পারেনি। তাই এখন থেকে আমাদের গোয়েন্দা সংস্থাগুলোকে তৎপর থাকতে হবে যেন বিএনপি-জামায়াতের নেতাকর্মীরা সাধারণ মানুষের সঙ্গে মিশে গিয়ে কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে না পারে।’ তিনি আরো বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের সময় আওয়ামী লীগের মাঠপর্যায়ের নেতাকর্মী থেকে শুরু করে কেন্দ্রীয় বেশির ভাগ নেতাই মাঠে কোনো ভূমিকা দেখাতে পারেননি। আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব আর সাংগঠনিক দুর্বলতার কারণে এমনটা হয়েছে। সরকারের খারাপ সময়ে যদি দলের সুবিধাভোগী নেতাকর্মীরা ভূমিকা রাখতে না পারে, তবে বড় ধাক্কা সামাল দেওয়া কঠিন হবে। আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার উচিত হবে গত ৯ বছরে দলের যেসব নেতাকর্মী সরকারে থাকার সুবিধা ভোগ করেছে তাদের সতর্ক ও তৎপর থাকার নির্দেশ দেওয়া।’

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক দীপু মনি কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘বিএনপি-জামায়াত শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে ভর করে সরকার পতনের স্বপ্ন দেখেছিল। এখন ব্যর্থ হয়ে অন্যভাবে চেষ্টা করবে এতে কোনো সন্দেহ নেই। তবে আমরা সতর্ক রয়েছি।’

আওয়ামী লীগ ও সরকারের একাধিক সূত্রে জানা যায়, নির্বাচনের আগে যেন আর কোনো বড় আন্দোলনের গড়ে না উঠতে পারে সেদিকে নজর রাখার পাশাপাশি কঠোর অবস্থানে থাকবে সরকার। কোটা সংস্কার আন্দোলন এবং সাম্প্রতিক নিরাপদ সড়ক দাবির আন্দোলনে যারা সহিংসতা চালিয়েছে তাদের বিরুদ্ধে সরকার আইনানুগ ব্যবস্থা নেবে। সহিংসতাকারীদের চিহ্নিত করা এবং তাদের ধরতে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযান অব্যাহত থাকবে।

১৪ দল সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার বিকেলে ওয়ার্কার্স পার্টির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ১৪ দলের এক বৈঠকে শরিক দলগুলোর নেতারা আশঙ্কা ব্যক্ত করেন, নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মতো সামনে আরো আন্দোলন দেখা যেতে পারে। ওই বৈঠকে সরকারকে এসব বিষয়ে সজাগ থাকার পরামর্শ দেন ১৪ দলের নেতারা।



মন্তব্য