kalerkantho


খালেদা জিয়ার জামিন বৃথাই গেল!

এম বদি-উজ-জামান   

১৯ জুলাই, ২০১৮ ০০:০০



খালেদা জিয়ার জামিন বৃথাই গেল!

ফাইল ছবি

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় নিম্ন আদালতে পাঁচ বছর সাজা হওয়ার পর হাইকোর্ট থেকে এ মামলায় গত ১২ মার্চ চার মাসের জামিন পান কারাবন্দি বিএনপি চেয়ারপারসন সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া। এরই মধ্যে সেই চার মাস পেরিয়ে গেছে। কিন্তু তিনি কারাগার থেকে মুক্তি পাননি। ফলে এ জামিন বৃথাই গেছে বলে মনে করেন তাঁর আইনজীবীরা। জামিন হওয়ার পরও কারাগার থেকে খালেদা জিয়ার মুক্তি না মেলায় আইনজীবীরা পুরোপুরি হতাশ। চার মাসের জামিনের মেয়াদ শেষ হওয়ায় গত ১২ জুলাই আরো এক সপ্তাহ জামিনের মেয়াদ বাড়িয়েছেন হাইকোর্ট, যা আজ বৃহস্পতিবার শেষ হচ্ছে। এ অবস্থায় খালেদা জিয়ার আইনজীবীদের আবেদনে তাঁর জামিনের মেয়াদ আগামী ২৬ জুলাই পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।

গত ৯ জুলাই হাইকোর্টে জামিনের মেয়াদ বাড়ানোর আবেদনের শুনানিতে খালেদা জিয়ার আইনজীবী সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল এ জে মোহাম্মদ আলী বলেন, ‘হাইকোর্ট জামিন দেওয়ার পর তা স্থগিত করে দিলেন আপিল বিভাগ। এর পর জামিন বহাল রাখলেন। কিন্তু আদেশে স্বাক্ষর করতে সময় নিলেন এক মাস। ফলে জামিন নিয়েও লাভ হলো না। জামিনের বিষয়টি ক্রমশ দূরে সরে যাচ্ছে। জামিন আদেশ হাতে রয়েছে। সেটা দেখছিও। কিন্তু সেটা আবার নেই। আপিল বিভাগের কারণেই এটা শেষ হয়ে গেল। এই দেখছি, আবার নেই। এটা যেন মরীচিকার মতো।’

খালেদা জিয়ার আরেক আইনজীবী জয়নুল আবেদীন কালের কণ্ঠকে বলেন, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় খালেদা জিয়া এখনো জামিনে রয়েছেন। কিন্তু সরকারের রোষানলের কারণেই তিনি কারাগার থেকে মুক্তি পাননি। হাইকোর্ট তাঁকে এ মামলায় জামিন দিলেও সরকার অন্য মামলায় তাঁকে আটকে রেখেছে। সরকার রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে খালেদা জিয়াকে কারাগারে আটক রেখেছে। যার কারণে এ মামলায় জামিন পেয়েও তিনি মুক্তি পাননি।

জিয়ার অরফানেজ মামলায় জামিন হলেও আরো কয়েকটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর কারণে কারাগার থেকে মুক্তি পাননি খালেদা জিয়া। যেসব মামলায় এরই মধ্যে খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়েছে বা হাজিরা পরোয়ানা জারি হয়েছে সেসব মামলায় নিম্ন আদালতে খালেদা জিয়ার জামিন আবেদন ঝুলে থাকে। এখন কোনো কোনো মামলায় দায়রা আদালতে, আবার কোনো মামলায় হাইকোর্টে জামিনের আবেদনের ওপর শুনানির পথ তৈরি হয়েছে। এরই মধ্যে কুমিল্লার তিনটি মামলায় হাইকোর্টে জামিন বিষয়ে শুনানি শুরু হয়েছে। এসব মামলায় জামিন পাওয়ার পর নতুন কোনো মামলায় যদি গ্রেপ্তার না দেখানো হয় তবেই কেবল মুক্তি পেতে পারেন খালেদা জিয়া।

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫ বিচার শেষে গত ৮ ফেব্রুয়ারি রায় দেন। রায়ে খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছর কারাদণ্ড দেওয়া হয়। এ রায়ের বিরুদ্ধে ২০ ফেব্রুয়ারি আপিল আবেদন (১৬৭৬/২০১৮) দাখিল করেন খালেদা জিয়া। এ আপিল ২২ ফেব্রুয়ারি গ্রহণ করেন হাইকোর্ট। নিম্ন আদালতের দেওয়া জরিমানার রায় স্থগিত করেন। পরে ১২ মার্চ খালেদা জিয়াকে চার মাসের জামিন দেন হাইকোর্ট। এ জামিনের বিরুদ্ধে আপিল করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও রাষ্ট্রপক্ষ। এ আবেদনে গত ১৪ মার্চ আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতি খালেদা জিয়ার জামিন স্থগিত করেন। পরে ১৮ মার্চ আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চও জামিন স্থগিত করেন। গত ১৬ মে প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বে আপিল বিভাগের চার বিচারপতির বেঞ্চ দুদক ও রাষ্ট্রপক্ষের আবেদন খারিজ করে দেন। এতে খালেদা জিয়ার জামিন বহাল হয়। তবে এই রায়ের  আগ পর্যন্ত খালেদা জিয়ার জামিন স্থগিত রাখেন আপিল বিভাগ।

আবার আপিল বিভাগ জামিন বহাল রেখে রায় দিলেও এ রায়ের কপি পেতে দেরি হয়েছে। ১৬ মে আপিল বিভাগ রায় দিলেও পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হয় গত ১২ জুন। ফলে ১২ জুনের আগে কারাগারে জামিননামা দাখিল করতে পারেননি খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা। পরে জামিননামা দাখিল করা হয়। কিন্তু তাতে লাভ হয়নি। অন্য মামলায় বন্দি থাকায় মুক্তি মেলেনি সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীর। এখনো ঢাকা, কুমিল্লা, নড়াইলসহ বিভিন্ন আদালত ও থানায় করা যেসব মামলায় জামিন প্রয়োজন সেসব মামলায় জামিন আবেদন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন আইনজীবীরা।



মন্তব্য