kalerkantho


পলিথিন ফেলে পাটের ব্যাগ ধরুন : প্রধানমন্ত্রী

৩০ লাখ শহীদ স্মরণে ৩০ লাখ বৃক্ষরোপণ শুরু

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১৯ জুলাই, ২০১৮ ০০:০০



৩০ লাখ শহীদ স্মরণে ৩০ লাখ বৃক্ষরোপণ শুরু

বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রের পাশের মাঠে গতকাল আয়োজিত বৃক্ষমেলায় বিভিন্ন স্টল ঘুরে দেখেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ছবি : বাসস

পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর পলিথিনের ব্যবহার কমিয়ে বিকল্প হিসেবে পাটের তৈরি ‘সোনালি ব্যাগ’ ব্যবহার করতে দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। একই সঙ্গে তিনি বলেছেন, সরকার সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য এবং রয়েল বেঙ্গল টাইগারের আবাসস্থল সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।

গতকাল বুধবার রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ‘বিশ্ব পরিবেশ দিবস ও পরিবেশ মেলা-২০১৮’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এ আহ্বান জানান। একই সঙ্গে তিনি জাতীয় বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলা-২০১৮ এবং মহান মুক্তিযুদ্ধে ৩০ লাখ শহীদের স্মরণে সারা দেশে একযোগে ৩০ লাখ বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। এই প্রথমবারের মতো মুক্তিযুদ্ধে ৩০ লাখ শহীদের স্মরণে দেশের ৮১ হাজার ৪৬৭টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে একযোগে বৃক্ষরোপণের উদ্বোধন করা হয়।

প্লাস্টিককে বিশ্বব্যাপী সমস্যা উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, “আপনারা শুনে খুশি হবেন যে এখন পাটের পলিমার থেকে যেটা পচনশীল সেই ধরনের ব্যাগ তৈরি হচ্ছে। আমরা এটার নাম দিয়েছি ‘সোনালি ব্যাগ’। এই সোনালি ব্যাগ পরিবেশ দূষণ করবে না। পাটকে তার সোনালি দিনে ফিরিয়ে আনার জন্য আমরা বিভিন্ন ধরনের উদ্যোগ যেমন নিয়েছি, সেই সঙ্গে এই আবিষ্কারটাও করা হয়েছে এবং পাটের ওপর গবেষণা চলছে।”

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘কাজেই আমি মনে করি এই সোনালি ব্যাগটা পলিথিনের বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করতে পারি। তা ছাড়া পাটের ছোট ছোট থলে, ব্যাগ এগুলোও ব্যবহার করা যায়। এমনকি ফ্যাশনের জন্যও ব্যবহার করা যায়। আমি যে ব্যাগটা (হ্যান্ডব্যাগ) ব্যবহার করছি সেটা কিন্তু পাটের তৈরি ব্যাগ।’

এবারের বিশ্ব পরিবেশ দিবসের প্রতিপাদ্য হচ্ছে, ‘আসুন প্লাস্টিকদূষণ বন্ধ করি, প্লাস্টিকের পুনর্ব্যবহার করি, আর যদি তা না পারি তাহলে বর্জন করি।’ সারা বিশ্বেই প্লাস্টিকের বিকল্প পরিবেশবান্ধব পণ্যের চাহিদা বাড়ছে। এ ক্ষেত্রে এগিয়ে রয়েছে পাট।

সম্প্রতি ‘সোনালি ব্যাগ’-এর মালিকানা স্বত্ব বাংলাদেশের করে রাখতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া এবং বাণিজ্যিকভাবে এর বাজারজাতকরণের জন্য একটি টাস্কফোর্স গঠনের সুপারিশ করেছে সংসদীয় কমিটি।

পাট থেকে নানা ধরনের পণ্য তৈরির কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এটা আমাদের জন্য বিরাট সুযোগ সৃষ্টি করেছে। বিশ্বব্যাপী যখন পরিবেশের কথা আসছে, আমরা পাট উৎপাদনকারী একটি দেশ। এই পাট পণ্য উৎপাদন করে এর বহুমুখী ব্যবহার আমরা নিশ্চিত করতে পারি, বিদেশে রপ্তানিও করতে পারি।’ তিনি বলেন, ‘আমরা চাই, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে কর্মরত সংশ্লিষ্ট যাঁরা আছেন, তাঁরাও উদ্যোগটা নেবেন। ধীরে ধীরে প্লাস্টিকটাকে আস্তে আস্তে সরিয়ে দিয়ে... হয় এটাকে (প্লাস্টিক) পুনর্ব্যবহারের ব্যবস্থা করতে হবে, না হয় আস্তে আস্তে এটাকে সরিয়ে দিতে হবে।’

শেখ হাসিনা দেশে পরিবেশের সংরক্ষণে তাঁর সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপের কথাও তুলে ধরেন। স্বাধীনতার পর বঙ্গবন্ধুর নিজ হাতে গাছ লাগিয়ে প্রথম সারা দেশে বৃক্ষরোপণ অভিযান শুরু করার কথা স্মরণ করেন তিনি। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি চালিয়ে আসার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।

দেশের সব মানুষকে বৃক্ষরোপণ অভিযানে শামিল হওয়ার আহ্বান জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘বাংলাদেশকে বাঁচানোর জন্য বৃক্ষরোপণ একান্তভাবে প্রয়োজন বলে আমি মনে করি। কাজেই এ জন্য আমি সবাইকে আহ্বান জানাই যে প্রত্যেকে একটা বনজ, একটা ফলদ ও একটা ঔষধি গাছ লাগান।’

শেখ হাসিনা জানান, তাঁর নেতৃতত্বাধীন সরকার পরিবেশ সংরক্ষণকে বিশেষভাবে গুরুত্ব দিয়ে থাকে। সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে পরিবেশবিষয়ক নতুন একটি ধারা সংযোজনের মাধ্যমে পরিবেশ সংরক্ষণে সাংবিধানিক দায়িত্বের কথা মনে করিয়ে দেন তিনি।

নদীর তীর, কবরস্থান, পতিত জমি এবং বাড়ির ছাদ, ব্যালকনিসহ সর্বত্র গাছ লাগিয়ে সবুজ বেষ্টনী তৈরির ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। জায়গাজমি পতিত না রেখে গাছ লাগানোর আহ্বান জানান তিনি।

এবার বৃক্ষরোপণ অভিযান ও জাতীয় বৃক্ষমেলার প্রতিপাদ্য বিষয় হচ্ছে, ‘সবুজে বাঁচি, সবুজ বাঁচাই, নগর-প্রাণ-প্রকৃতি সাজাই।’

শেখ হাসিনা বলেন, যত বেশি সবুজে ভরে ফেলতে পারব এই দেশ, তাতে মানুষ বাঁচবে। ট্রাস্ট ফান্ড গঠন করে অ্যাকশনপ্ল্যান তৈরির কথাও উল্লেখ করেন তিনি। বঙ্গবন্ধুর সময় কক্সবাজার উপকূলে সবুজ বেষ্টনী গড়ে তোলার কথা উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে রক্ষা পেতে প্রতিটি উপকূলেই সবুজ বৈষ্টনী গড়ে তোলা হচ্ছে। একই সঙ্গে সুন্দরবন ও বাঘ রক্ষায় নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা তুলে ধরেন তিনি।

অনুষ্ঠানে ‘বঙ্গবন্ধু অ্যাওয়ার্ড ফর ওয়াইল্ড লাইফ কনজারভেশন-২০১৮, বৃক্ষরোপণে প্রধানমন্ত্রী জাতীয় পুরস্কার-২০১৮ এবং জাতীয় পরিবেশ পদক-২০১৮’ বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী। এরপর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে একটি ছাতিমগাছের চারা রোপণ করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, উপমন্ত্রী আবদুল্লাহ আল ইসলাম জ্যাকব, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি হাছান মাহমুদ বক্তব্য দেন।

 



মন্তব্য

saad commented 19 days ago
I love our Honorable prime minster Sheikh Hasina the firstly is she is our national Father,s daughter secondly she is most honest prime minster in Bangladesh history.