kalerkantho


সিলেট

কারচুপির ভয়ে বিএনপি, প্রত্যাখ্যান আ. লীগ প্রার্থীর

সিলেট অফিস   

১৭ জুলাই, ২০১৮ ০০:০০



কারচুপির ভয়ে বিএনপি, প্রত্যাখ্যান আ. লীগ প্রার্থীর

সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে জয়লাভের ব্যাপারে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি দুই দলের প্রার্থীই শতভাগ আশাবাদী। এখন পর্যন্ত নির্বাচনী পরিবেশ ঠিক আছে বলেও তাঁরা মনে করেন। তবে বিএনপির মেয়র প্রার্থী আরিফুল হক চৌধুরীর আশঙ্কা সরকার ‘ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং’ করবে। এ জন্য তিনি ভোটকেন্দ্রগুলোর সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনের কাছে। আশঙ্কা উড়িয়ে দিয়ে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী বদরউদ্দিন আহমদ কামরান বলেছেন, এটি স্রেফ অপপ্রচার। অপপ্রচার চালিয়ে নৌকার বিজয় ঠেকানো যাবে না।

গতকাল সোমবার নগরের বিভিন্ন স্থানে দিনভর প্রচারকাজ চালান দুই মেয়র প্রার্থী। সকালে সিলেটের আদালতপাড়ায় গণসংযোগ করেন বিএনপির প্রার্থী আরিফুল হক চৌধুরী। প্রচার শুরুর আগে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত নির্বাচনী পরিবেশ-পরিস্থিতি ঠিক আছে। তবে কোনো ইঞ্জিনিয়ারিং করা হয় কি না, তা নিয়ে মানুষের মনে নানা আশঙ্কা বিরাজ করছে। নির্বাচন কমিশনকে কেন্দ্রগুলোর সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। তিনি আরো বলেন, এটা করতে পারলে অতীতের মতো শান্তিপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে এবং বিপুল ভোটে ধানের শীষ বিজয়ী হবে।

আরিফুল হক চৌধুরী ভোটারদের বলেন, ‘আপনাদের ভালোবাসাই হৃদয়ে সাহস সৃষ্টি করে এবং এর মাধ্যমে মানুষের কল্যাণে কাজ করতে প্রেরণা লাভ করি। মানুষের ভালোবাসাই আমাকে বিজয়ের মুকুট পরাবে। অতীতে যেভাবে আপনারা আমার জন্য কাজ করেছেন, এবারও সেভাবে করবেন বলে আমার প্রত্যাশা।’

গণসংযোগের সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক ও সিনিয়র আইনজীবী অ্যাডভোকেট নূরুল হক, সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি আবুল কাহের চৌধুরী শামীম, বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট হাদিয়া চৌধুরী মুন্নী, ইসলামী ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট মাওলানা আব্দুর রকীব, জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম সিলেট জেলার সভাপতি অ্যাডভোকেট এ টি এম ফয়েজ উদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আতিকুর রহমান শাবু প্রমুখ।

এদিকে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী বদরউদ্দিন আহমদ কামরান গতকাল সিলেট মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটিতে এক মতবিনিময়সভায় বলেন, নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হবে। কিন্তু কোনো কোনো প্রার্থী সরকারের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালিয়ে নগরবাসীকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছেন। তাঁরা জানেন না যে অপপ্রচার চালিয়ে নগরবাসীকে বিভ্রান্ত করা যাবে না। কোনোভাবেই ঠেকানো যাবে না নৌকার বিজয়। বিএনপির মেয়র প্রার্থীকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, কে কী অপরাধে কারাগারে ছিলেন নগরবাসীর তা জানা আছে। তাই নিজের অপরাধের দায়ভার সরকারের ওপর চাপিয়ে কোনো লাভ নেই। 

ইউনিভার্সিটির বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান ড. তৌফিক রহমান চৌধুরীর সভাপতিত্বে মতবিনিময়সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা নৌকা প্রতীকের পক্ষে সমর্থন প্রকাশ করে। মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটির সহকারী প্রক্টর অ্যাডভোকেট আব্বাস উদ্দিনের পরিচালনায় সভায় বক্তব্য দেন সাংবাদিক আল-আজাদ, বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন ও বিচার বিভাগের প্রধান গাজী সাইফুল ইসলাম, অর্থনীতি বিভাগের ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিউটি নাহিদ সুলতানা, শিক্ষার্থী জাওয়াদ ইবনে জাহিদ খান প্রমুখ। সভাপতির বক্তব্যে ড. তৌফিক রহমান বলেন, ‘নৌকা স্বাধীনতা ও উন্নয়নের প্রতীক। তাই আমরা সবাই নৌকা প্রতীকের সমর্থনে ঐক্যবদ্ধ।’  

পরে নগরের বন্দরবাজার, বারুতখানা, জেল রোড, পৌর বিপণি, ধোপাদীঘিরপাড় ও জিন্দাবাজার এলাকায় গণসংযোগ করেন বদরউদ্দিন আহমদ কামরান। নৌকার পক্ষে গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘বিজয়ের ব্যাপারে আমরা দৃঢ় আশাবাদী।’ গণসংযোগকালে উপস্থিত ছিলেন সিলেট মহানগর যুবলীগের আহ্বায়ক আলম খান মুক্তি, মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সহসভাপতি রশীদ আহমদ, সাধারণ সম্পাদক দেবাংশু দাস মিটু, ছাত্রলীগ নেতা বেলাল আহমদ, ১৪ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি হাজি এম এ মতিন, সাধারণ সম্পাদক রুহুল মালিক ছুটন, সাংগঠনিক সম্পাদক খালেদুর রহমান খোকন প্রমুখ।

এ ছাড়া সিপিবি-বাসদের প্রার্থী আবু জাফর গতকাল নগরের নয়া সড়ক, জেল রোড, পূর্ব জিন্দাবাজার এলাকায় গণসংযোগ করেন। জামায়াত সমর্থিত মেয়র প্রার্থী এহসানুল মাহবুব জুবায়ের গতকাল শেখঘাট এলাকায় গণসংযোগ করেন।

 



মন্তব্য