kalerkantho


তৈরি পোশাক খাত

মজুরি ১০৬০ টাকা বাড়াতে চান মালিকরা

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৭ জুলাই, ২০১৮ ০০:০০



মজুরি ১০৬০ টাকা বাড়াতে চান মালিকরা

তৈরি পোশাক খাতের শ্রমিকদের জন্য নিম্নতম মজুরি প্রস্তাব করেছে মালিক ও শ্রমিকপক্ষ। মালিকরা ২০ শতাংশ বেশি ধরে নিম্নতম মজুরি প্রস্তাব করেছেন ছয় হাজার ৩৬০ টাকা। বর্তমানে এই মজুরি পাঁচ হাজার ৩০০ টাকা। অর্থাৎ মালিকরা এক হাজার ৬০ টাকা বাড়াতে চান। অন্যদিকে শ্রমিকপক্ষের দাবি ১২ হাজার ২০ টাকা।

গতকাল সোমবার রাজধানীর তোপখানা রোডে নিম্নতম মজুরি বোর্ডের চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে এক সভায় মালিক ও শ্রমিক প্রতিনিধিরা এই প্রস্তাব দেন।

সবশেষ ২০১৩ সালের ১ ডিসেম্বরে তৈরি পোশাক শিল্পে নিম্নতম মজুরি পাঁচ হাজার ৩০০ টাকা কার্যকর হয়। এর মধ্যে মূল মজুরি তিন হাজার টাকা, বাড়ি ভাড়া এক হাজার ২০০  টাকা এবং চিকিৎসা, যাতায়াত ও খাদ্য ভাতা এক হাজার ১০০ টাকা।

ওই বছরের ডিসেম্বরের আগে পোশাক শ্রমিকদের নিম্নতম মজুরি ছিল তিন হাজার টাকা। একেকটি মজুরিকাঠামো পাঁচ বছরের জন্য গঠন করা হয়।

মজুরি বোর্ডের চেয়ারম্যান সৈয়দ আমিনুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় উপস্থিত ছিলেন মালিকপক্ষের প্রতিনিধি তৈরি পোশাক প্রস্তুত ও রপ্তানিকারকদের সংগঠন বিজিএমইএর সভাপতি মো. সিদ্দিকুর রহমান, শ্রমিকপক্ষের প্রতিনিধি বেগম শামসুন নাহার ভূঁইয়া ও বোর্ডের অন্য কর্মকর্তারা।

বোর্ডের চেয়ারম্যান সাংবাদিকদের জানান, দেশের অর্থনীতির সবচেয়ে বড় খাত পোশাক খাতের মজুরি পুনর্নির্ধারণ নিয়ে মালিক ও শ্রমিক উভয় পক্ষকে নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। এতে নতুন মজুরি নির্ধারণে কোন কোন বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হবে সেটা বিবেচনায় নিয়ে উভয় পক্ষ তাদের প্রস্তাব দেয়।

সৈয়দ আমিনুল ইসলাম জানান, বোর্ডে মালিকপক্ষ তিন হাজার ৬০০ টাকা মূল ধরে মোট নিম্নতম মজুুরি প্রস্তাব করে ছয় হাজার ৩৬০ টাকা। শ্রমিকদের পক্ষ থেকে সাত হাজার ৫০ টাকা মূল ধরে ১২ হাজার ২০ টাকা প্রস্তাব করা হয়।

চেয়ারম্যান আরো জানান, বর্তমান বোর্ডের মেয়াদ প্রায় শেষ, তাই আইন অনুসারে আরো তিন মাস সময় বৃদ্ধির জন্য গত রবিবার বোর্ডের পক্ষ থেকে মন্ত্রণালয়ে আবেদন করা হয়েছে।

এক প্রশ্নের জবাবে মজুরি বোর্ডের চেয়ারম্যান জানান, আগামী সেপ্টেম্বরের মধ্যে তাঁরা শ্রমিক ও মালিকদের প্রস্তাবগুলো আলোচনা করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন।

সভা শেষে শ্রমিকপক্ষের প্রতিনিধি বেগম শামসুন নাহার ভূঁইয়া সাংবাদিকদের বলেন, ‘মালিকপক্ষ যে প্রস্তাব মজুরি বোর্ডে দিয়েছে তা কোন বিবেচনায় দিয়েছে আমাদের কাছে বোধগম্য নয়।’ তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক শ্রম আইন ১৩১ এবং বাংলাদেশের শ্রম আইনের ধারা ১৪১ কোনোটাই মালিকপক্ষ মানেনি। তিনি আরো বলেন, শ্রমিক সংগঠনগুলো থেকে ১৬ হাজার টাকা, কেউ কেউ ১৮ হাজার টাকা নিম্নতম মজুরি দাবি করেছে। তবে তাঁরা শ্রমিকের জীবনযাত্রার ব্যয় এবং শিল্পের সক্ষমতাসহ সার্বিক বিবেচনায় নিয়েই বোর্ডে প্রস্তাব দিয়েছেন।

শামসুন নাহার বলেন, ‘শিল্পের কোনো সক্ষমতা নেই এবং শ্রমিকদের বেকার হতে হবে—এমন কোনো দাবি আমরা করিনি। এ ছাড়া শিল্পে প্রযুক্তির প্রভাবে অনেক শ্রমিক বেকার হচ্ছে। মোট কারখানার ৩০ শতাংশ ভালো মানের অন্যগুলো ক্ষুদ্র ও মাঝারি। এসবও বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।’ গ্রেড কমানোর কোনো প্রস্তাব করা হয়েছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, গ্রেড কমালে কেউ কেউ উপকৃত হলেও বেশির ভাগ ক্ষতিগ্রস্ত হবে এবং ক্ষুব্ধ হবে।

বিজিএমইএ সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান বলেন, ‘২০১৮ সালে ১০টি বেসরকারি খাতের মজুরি নির্ধারণ করেছে সরকার। এসব মজুরির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এবং মূল্যস্ফীতিকে বিবেচনায় নিয়ে আমরা প্রস্তাব দিয়েছি। সেই হিসেবে ২০ শতাংশ প্রবৃদ্ধি ধরে পোশাক খাতের শ্রমিকদের জন্য নতুন মজুরি প্রস্তাব করা হয়েছে। এ ছাড়া মালিকের সক্ষমতা এবং উৎপাদন ব্যয় এবং পোশাক বিক্রির ধারাবাহিকতাও এ প্রস্তাবে বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।’ তিনি আরো বলেন, ‘আমরাই শ্রমিকদের জীবনযাত্রা ব্যয় বিবেচনায় নিয়ে নতুন মজুরি বোর্ড গঠনের জন্য সরকারকে প্রস্তাব করেছিলাম।’

এদিকে মালিকদের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে নিম্নতম মজুরি ১৬ হাজার টাকা ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন শ্রমিক নেতারা। মালিকপক্ষ নিম্নতম মজুরি প্রস্তাব করার পর মজুরি বোর্ড চেয়ারম্যানের কার্যালয়ের বাইরে তাত্ক্ষণিক সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করে তাঁরা অসন্তোষ প্রকাশ করেন। শ্রমিক নেতাদের মধ্যে ছিলেন গার্মেন্টস শ্রমিক ট্রেড ই্উনিয়ন কেন্দ্রের সাধারণ সম্পাদক জলি তালুকদার, বাংলাদেশ গার্মেন্টস শ্রমিক সংহতির সভাপ্রধান তাসলিমা আক্তার প্রমুখ।



মন্তব্য