kalerkantho


গোল্ডেন বল মডরিচের

সামীউর রহমান   

১৬ জুলাই, ২০১৮ ০০:০০



গোল্ডেন বল মডরিচের

প্রখর যৌবনের ইয়োহান ক্রুইফের চেহারার সঙ্গে লুকা মডরিচের চেহারার আশ্চর্য মিল! খাড়া নাকের ককেশীয় চেহারা, কপাল বেয়ে নামা চুল। আয়াক্সের হয়ে জিতেছিলেন টানা তিনটি ইউরোপিয়ান কাপের শিরোপা। কী আশ্চর্য, মডরিচও তাই! আয়াক্সের হয়ে টানা তিনটি শিরোপা জেতার পরের বছরের বিশ্বকাপের

 ফাইনালে নেদারল্যান্ডস, কিন্তু শেষ পর্যন্ত জিতল না ক্রুইফের নেদারল্যান্ডস। চ্যাম্পিয়নস লিগে টানা তিন শিরোপার স্বাদ নিয়ে বিশ্বকাপের ফাইনালে লুকা মডরিচ, কিন্তু জিতল না মডরিচের ক্রোয়েশিয়া। ক্রুইফ চলে গেছেন না-ফেরার দেশে, মডরিচকেও হয়তো রানার্স-আপের মেডেল নিয়েই কফিনে শুতে হবে। কারণ ক্রোয়েশিয়ার মতো ছোট দেশের জন্য ইউরোপ থেকে বিশ্বকাপের মূল পর্বে খেলাটা অনেক কঠিন, সেখানে শিরোপা তো অনেক দূরের পথ।

ডাচ ফুটবলের দুঃখী রাজপুত্র ক্রুইফের ছোঁয়ায় বদলে যাওয়া বার্সেলোনার আঁতুড়ঘর থেকেই জন্ম লিওনেল মেসির। ২০১৪ বিশ্বকাপের ফাইনালের পর, হেরে যাওয়া আর্জেন্টিনা দলের  মেসিকে যখন গোল্ডেন বল পুরস্কারের জন্য ডাকা হয়েছিল, তখন তিনিও সাড়া দিয়েছিলেন অনেক দেরিতে। শোনা যায়, পুরস্কারটা নাকি নিতেই চাননি মেসি। মডরিচও হয়তো ক্রোয়েশিয়ার ফুটবলের দুঃখী রাজপুত্র হয়েই থেকে যাবেন। ফিফার টেকনিক্যাল স্টাডি গ্রুপ রাশিয়া বিশ্বকাপের সেরা খেলোয়াড় হিসেবে বেছে নিয়েছে ক্রোয়েশিয়ার এই মিডফিল্ডারকেই। তাঁর জাদু ছোঁয়াতেই তো ক্রোয়েশিয়া এসেছে ফাইনালে। ৭টি ম্যাচ খেলেছে ক্রোয়েশিয়া, হেরেছে শুধু ফাইনালেই। এই ৭ ম্যাচের তিনটিতেই ম্যাচসেরা হয়েছিলেন মডরিচ। ফাইনালে পারলেন না দলকে জেতাতে। তাই অধরাই রয়ে গেল শিরোপাটা।

গত বিশ্বকাপেও রানার্স-আপ দলের মেসি পেয়েছিলেন গোল্ডেন বল। মেসির নামের আদ্যক্ষর এল এবং এম-এর সঙ্গে জার্সি নাম্বার মিলিয়ে অনেকেই তাঁকে ডাকেন এলএমটেন বলে। লুকা মডরিচেরও তো তাই, তাঁর জার্সি নাম্বারও তো ১০! এবারও আরেক ‘এলএমটেন’ পেলেন সোনার গোলক, কিন্তু সোনার পরিরা থেকে গেল অধরাই। বিশ্বকাপে তাঁর দুটি গোল, একটি অ্যাসিস্ট, প্রতিটি ম্যাচে গড়ে ১০০ মিনিটের বেশি খেলেছেন, সবচেয়ে বেশি ৬৩ কিলোমিটার দৌড়েছেন মাঠে, সবচেয়ে বেশি ৩টা ম্যাচসেরার ট্রফি। গার্ডিয়ানে বিশ্বকাপজয়ী  সাবেক আর্জেন্টাইন ফুটবলার হোর্হে ভালদানো তাঁর সম্পর্কে লিখেছেন, ‘মডরিচ যেটা করে সেটা সে একাই পারে। যখন ফুটবল তার পায়ে যায়, মনে হয় বলটা আয়ত্তে রাখা পৃথিবীর সহজতম কাজ। এটা আসলে গোটা খেলায় আক্রমণাত্মক ধার বা গতি বাড়ানো নয়, ব্যপারটা হচ্ছে সহজাত স্বচ্ছতা, বোধ তৈরি করা, মনোভাবটা বুঝিয়ে দেওয়া।’

ক্রুইফ বিশ্বকাপ জেতেননি, মেসি জেতেননি, মডরিচও হয়তো জিতবেন না। তবু তাঁদের পায়ের ছোঁয়ায় ফুটবল এমন একটা দ্যোতনা তৈরি করে, যাতে মনে হবে খেলায় হার-জিতই শেষ কথা নয়। স্রেফ গোল দিয়ে সাফল্য মাপা যেতে পারে, শিল্পের সুষমা নয়।



মন্তব্য