kalerkantho


আসুন ফাইনালটা উপভোগ করি

রিভালদো লিখছেন কালের কণ্ঠে   

১৪ জুলাই, ২০১৮ ০০:০০



আসুন ফাইনালটা উপভোগ করি

লুঝনিকি স্টেডিয়ামে রবিবারের ফাইনালে মুখোমুখি হওয়ার আগ পর্যন্ত দুটি ভিন্ন পথ ধরেই এতটা পথ পেরিয়ে এসেছে ফ্রান্স ও ক্রোয়েশিয়া।

ক্রোয়েশিয়ার কথাই আগে বলি। যারা এরই মধ্যে তিন-তিনটি ম্যাচ খেলে ফেলেছে, যেগুলো অতিরিক্ত সময়ে গিয়েছে। ওরা জিতেই শেষ করেছে এমন এক প্রতিপক্ষের সঙ্গে, যাদের মধ্যে দৃঢ়তার অভাব ছিল। টেকনিক্যালি ইংল্যান্ড অবশ্য খুবই দুর্দান্ত দল। দ্রুতগতির খেলোয়াড়ও আছে ওদের। তার ওপর ওরা এমন এক লিগে খেলে, যেখানে সবাই খেলতেও যায়। কিন্তু ক্রোয়েশিয়া হাল ছাড়ে না এবং প্রতিপক্ষকে জায়গাও করে দেয় না। এমন দৃঢ়চেতা ক্রোয়েশিয়ান দলের সামনেই মাথানত করতে হয়েছে ইংল্যান্ডকে। হ্যারি কেইনের মতো ফরোয়ার্ড আমারও খুব পছন্দের। তবে গত দুই ম্যাচে ওকে খুঁজেই পেলাম না। যাই হোক, দ্বিতীয় সেমিফাইনালে জিততে পারত যে কেউই। শেষ পর্যন্ত ক্রোয়েশিয়াই জিতল মান্দজুকিচের গোলে।

ফাইনালে জায়গা করে নেওয়াটা ক্রোয়েশিয়ার প্রাপ্যই ছিল। ডেনমার্ক ও রাশিয়ার বিপক্ষে নির্ধারিত সময়ের পর অতিরিক্ত সময়েও তারা সাফল্য বের করে নেওয়ার মতো খেলাই খেলেছে। তার ওপর তারা তিনটি ম্যাচই জিতেছে বিশ্বকাপের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে এসে। মুদ্রার ওপিঠটার কথাও বলতে হয়। ফ্রান্সের যেমন সৌভাগ্য ছিল দ্বিতীয় রাউন্ডে আর্জেন্টিনার মুখোমুখি হওয়াটা। কারণ আর্জেন্টাইনরা অবাধ স্বাধীনতা নিয়ে খেলার সুযোগ করে দিয়েছে ফরাসিদের। এরপর উরুগুয়েও খেলেছে তাদের সেরা খেলোয়াড়কে ছাড়াই। আর ফ্রান্সের সেমিফাইনাল প্রতিপক্ষ বেলজিয়ামকে দেখে মনে হলো শেষ চারে আসতে পেরেই তারা সন্তুষ্ট।

ফাইনালে দিদিয়ের দেশমের ফ্রান্স ক্লান্ত একটি দলের বিপক্ষে শুরুতেই ছন্দটা ধরে নিতে চাইবে। তা ছাড়া ক্রোয়েশিয়া বিশ্রামও পেয়েছে এক দিন কম। গ্রুপ পর্বে অবশ্য ফ্রান্সের খেলা খুব সমালোচিত হয়েছিল। বিশেষ করে পগবা ও গ্রিয়েজমানের খেলা। এবং সত্যি কথা হলো এই দলটি কিন্তু দুর্দান্ত ফুটবল খেলার ব্যাপারটিকে খুব গুরুত্ব দেয়নি। কোয়ার্টার ফাইনাল ও সেমিফাইনালে ওদের করা গোলের দিকে তাকালেই সেটি বোঝা যাবে। ফ্রান্সের মূল শক্তির জায়গাই হলো ওদের ডিফেন্স। আমার দেখা সবচেয়ে দ্রুতগতির ডিফেন্ডারদের একজন ভারান। কন্তেও মাঝমাঠে প্রতিপক্ষকে রুখে দেওয়ার ক্ষেত্রে রাখছে ভূমিকা।

ওদিকে ক্রোয়েশিয়ার দূরপাল্লার শটে আক্রমণ গড়ার দিকে মনোযোগ দেখেছি। স্টিরিনিচ ও ফ্রাসাইয়েকো জানে প্রতিপক্ষের বক্সে কোথায় বলটা ফেলতে হবে। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে পেরিসিচের গোলও সেরকমই একটি আক্রমণের ফসল। অন্যদিকে ফরাসি দলের পাভার্দ ও হার্নান্দেজ নিজ নিজ উইং ধরে উঠে গিয়ে আক্রমণ গড়ে তোলার ক্ষেত্রে দারুণ ভূমিকা রেখে আসছে। ওরা একেবারে শেষ পর্যন্ত পৌঁছেও যেতে পারছে। আর্জেন্টিনার বিপক্ষে পাভার্দের করা দুর্দান্ত গোলই ওর আক্রমণাত্মক মানসিকতার জানান দিতে যথেষ্ট। ফ্রান্স এবং ক্রোয়েশিয়া, দুই দলেরই সুবিধার দিক হলো ওদের স্ট্রাইকাররা গোল করছে। ফ্রান্সের ক্ষেত্রে দলের যখন গোলটা খুব দরকার হয়ে পড়েছিল, তখন উরুগুয়ের বিপক্ষে ভারান এবং বেলজিয়ামের বিপক্ষে উমতিতিরাও হেডে লক্ষ্য ভেদ করেছে। অন্যদিকে রাশিয়ার বিপক্ষে যখন সব কিছু শেষ হয়ে যাচ্ছে বলে মনে হচ্ছিল, তখন ফিদাও গোল করে ক্রোয়েশিয়ার হিরো হয়ে গেছে। তবে ফিদার সঙ্গে লোভরেনকেও ওদের আসল ভূমিকায় ডিফেন্সে সেভাবে নামের প্রতি সুবিচার করতে দেখিনি। কাজেই দুই পার্থক্যই হলো ওই রক্ষণ গাঁথুনিতে। এখানে ফ্রান্সই তাদের ডিফেন্সকে বেশি জমাট বলে মনে করিয়েছে।

ক্রোয়েশিয়ার কোচ জ্লাতকো দালিচের খেলা পড়ার সামর্থ্যটা খুব ভালো। সেই সঙ্গে তাঁর খেলোয়াড়দের অনুপ্রাণিত করার ক্ষমতার কারণেও দল বিশ্বকাপের ফাইনাল পর্যন্ত চলে এসেছে। ওদিকে দিদিয়ের দেশমও এই রাশিয়া বিশ্বকাপের সবচেয়ে ধুরন্ধর টেকনিশিয়ানদের একজন। যদিও তাঁকে এখনো ২০১৬-র ইউরো ফাইনালে পর্তুগালের কাছে হেরে যাওয়ার ব্যর্থতার বোঝা বয়ে বেড়াতে হচ্ছে। সবশেষে বলতে চাই, ক্রোয়েশিয়া যদি ফ্রান্সকে হারিয়ে দেয়, তাহলে বিশ্বজয়ের অভিষেক হবে তাদের। তারা বিশ্বকাপ জিতলে গোটা ইউরোপিয়ান ফুটবলের দৃশ্যপটই বদলে যাবে। অন্যদিকে ফ্রান্স জিতলে একবার করে বিশ্বকাপ জেতা স্পেন এবং ইংল্যান্ডকে ছাড়িয়ে তারা হয়ে যাবে সেই দল, যারা একই সাফল্যের পুনরাবৃত্তি ঘটাল।

ক্রোয়েশিয়া বনাম ফ্রান্স। আমার দৃষ্টিতে এই ফাইনালের কোনো ফেভারিট নেই। এর চেয়ে বরং ভালো আয়েশ করে খেলাটা দেখতে বসা এবং উপভোগ করা। আসুন, ফাইনালটা আমরা উপভোগই করি।

 

 



মন্তব্য