kalerkantho


‘বন্দুকযুদ্ধে’ ছয় জেলায় নিহত ৭

কালের কণ্ঠ ডেস্ক    

১২ জুলাই, ২০১৮ ০০:০০



‘বন্দুকযুদ্ধে’ ছয় জেলায় নিহত ৭

প্রতীকী ছবি

দেশের ছয় জেলায় বন্দুকযুদ্ধের ঘটনায় সাতজন নিহত হয়েছে। তারা মাদক কারবারসহ সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিল বলে পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে। কুষ্টিয়ার মিরপুরে র‌্যাবের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছে দুজন। যশোরের মণিরামপুরে নিহত হয়েছে সদ্য জেলমুক্ত এক আসামি। প্রতিপক্ষের গুলিতে তার মৃত্যু হয় বলে পুলিশের দাবি। লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছে ২২ মামলার এক আসামি। কেরানীগঞ্জে নিহত হয়েছে দুই ডজন মামলার আসামি। নাটোরের বড়াইগ্রামে নিহত হয়েছে এক মাদক কারবারি। গত মঙ্গলবার দিবাগত রাতে এসব বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটে। আমাদের নিজস্ব প্রতিবেদক ও প্রতিনিধির পাঠানো সংবাদে জানা গেছে এসব তথ্য। এদিকে রাজশাহীর চারঘাটে গত শুক্রবার পুলিশের গুলিতে আহত মাদক কারবারি আবদুল মালেক গতকাল হাসপাতালে মারা গেছে।

কুষ্টিয়ার মিরপুরে র‌্যাবের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছে আলোচিত মাদক কারবারি ফুটু ওরফে মোন্না (৪০) ও রাসেল আহম্মেদ (৩০)।

গতকাল ভোরে মিরপুর উপজেলার কুর্শা ইউনিয়নের কাটদহ বালুচর সংলগ্ন জোয়াদ্দারের ইটভাটার কাছে এ বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটে। র‌্যাব-১২ কুষ্টিয়া ক্যাম্পের কম্পানি কমান্ডার মোহাইমিনুল আহমেদ জানান, এক দল মাদক কারবারি কুর্শা ইউনিয়নের কাটদহ বালুচর এলাকায় অবস্থান করছে জানতে পেরে অভিযান শুরু হয়। র‌্যাবের উপস্থিতি টের পেয়ে মাদক কারবারিরা গুলি ছোড়ে। র‌্যাব পাল্টা গুলি চালালে অপরাধীরা পিছু হটে। তখন ঘটনাস্থলে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় দুজনকে পড়ে থাকতে দেখা যায়। উদ্ধার করে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন। তাঁরা দুজনই তালিকাভুক্ত মাদক কারবারি। নিহত ফুটু ওরফে মোন্না কুষ্টিয়া শহরের রাজারহাট মোড় এলাকার মৃত আহম্মদ আলীর ছেলে। রাসেল আহম্মেদ রবিউল ইসলামের ছেলে।

যশোরের মণিরামপুরে গতকাল ভোরে উদ্ধার হয়েছে অজ্ঞাতপরিচয় এক যুবকের গুলিবিদ্ধ লাশ।  লাশটি যশোর সদর উপজেলার ইছালী ইউনিয়নের হাশিমপুর গ্রামের আমজাদ হোসেনের ছেলে বাবলুর রহমান বাবলার (৩২)। যশোর জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পৌঁছে স্বজনরা তাঁর লাশ শনাক্ত করে। মণিরামপুর থানার ওসি মোকাররম হোসেন জানান, দুই দল ডাকাতের মধ্যে গোলাগুলিতে বাবলা নিহত হতে পারেন।

লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হয়েছেন ২২ মামলার আসামি সোহেল রানা ওরফে সুরাইয়া সোহেল (৩২)। তাঁর বাড়ি দেনায়েতপুর গ্রামে। বাবা মৃত আবদুল মুনাফ। গতকাল ভোরে উপজেলার চরপাতা ইউনিয়নের সিংয়েরপুল এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ঘটনাস্থল থেকে একটি দেশীয় এলজি, তিন রাউন্ড গুলি, ছয়টি খোসা ও ৩০০টি ইয়াবা উদ্ধার হয়েছে।

পুলিশ জানায়, গত মঙ্গলবার বিকেলে লক্ষ্মীপুর শহরের ঝুমুর সিনেমা হল এলাকা থেকে সোহেলকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে অস্ত্র ও মাদক উদ্ধারের জন্য রাতে তাঁকে নিয়ে রায়পুরের চরপাতার সিংয়েরপুল এলাকায় অভিযান চলে। তাঁর সহযোগীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। পুলিশ তিন রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুড়লে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। সহযোগীদের গুলিতে আহত সোহেলকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখান থেকে সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

এদিকে কেরানীগঞ্জ-দোহার সড়কের দেওসুর এলাকায় ডিবি পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছেন দুই ডজন মামলার আসামি নুর হোসেন ওরফে নুরা (৩৬)। তাঁর বাড়ি কেরানীগঞ্জ মডেল থানাধীন শাক্তা ইউনিয়নের জিয়ানগর এলাকায়। পুলিশ জানিয়েছে, নুর হোসেন নুরাকে গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান থানাধীন ডাকাতিয়া এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁকে ঢাকা জেলা ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ চলে। রাত ৩টার সময় তাঁকে নিয়ে ডিবির টিম জিয়ানগর এলাকায় অস্ত্র ও মাদক উদ্ধারের জন্য বের হলে বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটে। দেওসুর এলাকায় পুলিশ টিম পৌঁছলে সন্ত্রাসীরা গুলি চালায়। পুলিশ পাল্টা গুলি করে। নুর হোসেন নুরা পালানোর চেষ্টাকালে সহযোগীদের গুলিতে আহত হন। তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলায় র‌্যাবের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ ওসমান গণি (৩২) নামের এক মাদক বিক্রেতা নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন র‌্যাবের দুই সদস্য। গত মঙ্গলবার দিবাগত রাত ১১টা ৪০ মিনিটে উপজেলার বাহিমালী এলাকায় এ বন্দুকযুদ্ধ হয়। নিহত ওসমান উপজেলার গুরুমশইল গ্রামের মৃত মনসুর আলী মুন্সীর ছেলে। তাঁর বিরুদ্ধে পাঁচটি মামলা রয়েছে।

র‌্যাব-৫, নাটোর ক্যাম্প কম্পানি কমান্ডার মেজর শিবলী মোস্তফা জানান, র‌্যাবের একটি টহলদল গত মঙ্গলবার রাত ১২টার দিকে বাহিমালী মোড় থেকে ভাটুপাড়া গ্রামে যাওয়ার পথে সন্দেহভাজন কয়েকজনকে দেখতে পায়। র‌্যাবের টহলদল তাদের চ্যালেঞ্জ করে। তারা দৌড়ে পালানোর সময় গুলিবর্ষণ করে। টহলদল পাল্টা গুলি চালায়। পরে ঘটনাস্থলে অজ্ঞাতপরিচয় একজনকে পড়ে থাকতে দেখা যায়। তাকে দ্রুত বড়াইগ্রাম হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনাস্থল থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, চার রাউন্ড গুলি ভর্তি একটি  ম্যাগাজিন, ৪১০ গ্রাম হেরোইনসহ বিভিন্ন আলামত জব্দ করা হয়েছে।

এদিকে রাজশাহীর চারঘাটে পুলিশের গুলিতে আহত হয়ে চিকিত্সাধীন মাদক কারবারি আবদুল মালেক গতকাল ভোরে মারা গেছেন। তিনি জেলার চারঘাট উপজেলার মুক্তারপুর দফাদারপাড়া গ্রামের মিনসার আলীর ছেলে। গত শুক্রবার ফেনসিডিল চোরাচালানের সময় রাজশাহী জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) সদস্যদের গুলিতে আহত হন মালেক।



মন্তব্য