kalerkantho

সংসদে প্রধানমন্ত্রী

মাদকের গডফাদারদের সর্বোচ্চ শাস্তি দিতে আইন হচ্ছে

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২১ জুন, ২০১৮ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



মাদকের গডফাদারদের সর্বোচ্চ শাস্তি দিতে আইন হচ্ছে

ছবি: কালের কণ্ঠ

প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা শেখ হাসিনা বলেছেন, আওয়ামী লীগ সরকার মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে। নীতির আলোকে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, পুলিশ, বিজিবি, র‌্যাবসহ অন্যান্য আইন প্রয়োগকারী সংস্থা মাদক অপরাধ নিয়ন্ত্রণে কাজ করে যাচ্ছে। চলমান মাদকবিরোধী অভিযান মাদকের চোরাচালান ও ব্যবহার বন্ধ করে যুবসমাজকে সামাজিক অবক্ষয়ের হাত হতে রক্ষা করতে সক্ষম হবে বলেও প্রধানমন্ত্রী আশা ব্যক্ত করেন। গতকাল বুধবার জাতীয় সংসদ অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে প্রধানমন্ত্রী এ বক্তব্য রাখছিলেন।

স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে অধিবেশনে এসংক্রান্ত  লিখিত প্রশ্নটি উত্থাপন করেন সরকারদলীয় সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরী। জবাবে প্রধানমন্ত্রী জানান, মাদক অপরাধসংক্রান্ত মামলার বিচার কার্যক্রম আলাদা কোনো আদালতের মাধ্যমে পরিচালনার বিষয়টি আইন মন্ত্রণালয় খতিয়ে দেখছে। অন্য এক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, ব্লু ইকোনমি কর্তৃপক্ষ গঠনের জন্য একটি আইন প্রণয়নের কাজ চলছে।

স্বতন্ত্র দলীয় সংসদ সদস্য মো. রুস্তম আলী ফরাজীর প্রশ্নের লিখিত জবাবে প্রধানমন্ত্রী জানান, বিদ্যমান মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন-১৯৯০ অনুযায়ী মাদক অপরাধীদের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড রয়েছে। তবে কোনো ব্যক্তির কাছে মাদকদ্রব্য পাওয়া না গেলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের সুযোগ আইনে কম। ফলে মাদক কারবারের মাস্টারমাইন্ডরা সহজেই পার পেয়ে যায়। প্রধানমন্ত্রী জানান, মাদক সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কঠোর আইন প্রণয়নের লক্ষ্যে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন-২০১৮ প্রণয়ন করা হচ্ছে। এতে পৃষ্ঠপোষক, গডফাদারসহ মাদক সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ডের বিধান রাখা হবে।

সরকারদলীয় সংসদ সদস্য এম আবদুল লতিফের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা সমুদ্র বিজয় করার পর ব্লু ইকোনমি কার্যক্রম জোরদার করার জন্য জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের ব্লু ইকোনমি সেল গঠন করা হয়েছে। ব্লু ইকোনমি কর্তৃপক্ষ গঠনের জন্য একটি আইন প্রণয়নের কাজ চলছে। জ্বালানি, খনিজ, মত্স্যসম্পদসহ ব্লু ইকোনমির অপার সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে অর্থনৈতিক উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে সরকার বদ্ধপরিকর।’

প্রধানমন্ত্রী জানান, ২০০৯ সালে গঠিত আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকারের গতিশীল কূটনৈতিক কর্মকাণ্ডের অন্যতম অর্জন হচ্ছে ভারত ও মিয়ানমারের সঙ্গে সমুদ্রের বিরোধ আন্তর্জাতিক আদালতের রায়ের মাধ্যমে নিষ্পত্তি হওয়া। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘রায় দুটির ফলে বঙ্গোপসাগরে এক লাখ ১৮ হাজার ৮১৩ বর্গকিলোমিটার সমুদ্র অঞ্চল লাভ করে বাংলাদেশ, যা মূল ভূখণ্ডের আয়তনের প্রায় ৮১ ভাগের সমান। এ সমুদ্র এলাকাকে ঘিরে আমরা সমুদ্র অর্থনীতি বা ব্লু ইকোনমিকে সম্ভাবনার নতুন ক্ষেত্র হিসেবে শনাক্ত করেছি। সমুদ্রবিষয়ক অর্থনীতি বা ব্লু ইকোনমির ব্যাপ্তি বিশাল।’

সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্য সেলিনা জাহান লিটার প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী জানান, আওয়ামী লীগ সরকারের দূরদর্শী নেতৃত্ব ও অব্যাহত প্রচেষ্টার ফলে বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশের পর্যায় থেকে উত্তরণের স্বীকৃতি অর্জন করেছে। বাংলাদেশের সক্ষমতার বিষয়ে সাম্প্রতিক সময়ে বহির্বিশ্বে যে ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি লক্ষণীয় হয়েছে তা এই অর্জনের মাধ্যমে আরো সুদৃঢ় হবে।

 

 

মন্তব্য