kalerkantho

লুকাকুর পর জোড়া গোল কেইনেরও

ক্রীড়া প্রতিবেদক   

১৯ জুন, ২০১৮ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



লুকাকুর পর জোড়া গোল কেইনেরও

রোমেলু লুকাকুর জোড়া গোলের সঙ্গে ড্রাইস মেরটেনসের লক্ষ্যভেদে দুর্দান্ত শুরু অন্যতম ফেভারিট বেলজিয়ামের। ছবি : এএফপি

ফেভারিটরা যখন একের পর এক হোঁচট খেয়েই চলেছে, সেখানে উজ্জ্বল ব্যতিক্রম হিসেবে এবার ফ্রান্সের সঙ্গী হলো বেলজিয়ামও। ফিফা র্যাংকিংয়ে জার্মানি ও ব্রাজিলের পরেই তিন নম্বরে থাকা দলটি রোমেলু লুকাকুর জোড়া গোলে করল উড়ন্ত সূচনা। সোচিতে কাল তারা জি গ্রুপের ম্যাচে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ খেলতে আসা পানামাকে উড়িয়ে দিল ৩-০ গোলে। একই দিন একই গ্রুপের অন্য ম্যাচে হ্যারি কেইনের জোড়া লক্ষ্যভেদে শুভ সূচনা ইংল্যান্ডেরও। দ্বিতীয়ার্ধের ইনজুরি সময়ে কেইনের হেডে নাটকীয় ২-১ গোলের জয়ে মাঠ ছাড়ে ১৯৬৬ সালের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। বেলজিয়ামের মতো ফেভারিট না হলেও বাছাই পর্বের প্লে অফে চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ইতালির বিদায় নিশ্চিত করা সুইডেনও পেনাল্টি থেকে করা একমাত্র গোলে দক্ষিণ কোরিয়াকে হারিয়ে জমিয়ে তুলেছে এফ গ্রুপের লড়াই। যেখানে মেক্সিকোর কাছে হেরে কোণঠাসা অবস্থায় বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন  জার্মানি।

যদিও বেলজিয়ামের বিপক্ষে পানামার তেমন কিছু ঘটিয়ে দেওয়ার কোনো সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছিল না। সেটি দেখা না গেলেও প্রথমার্ধে ঠিকই বেলজিয়ানদের আটকে রাখতে পেরেছিল তারা। কিন্তু কতক্ষণ? দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই প্রতিপক্ষের গোলমুখ খুলে ফেলার পর থেকে চড়ে বসে বেলজিয়াম এবং এর সূত্র ধরেই শেষ পর্যন্ত ধরা দেয় অনায়াস জয়ই। তাই ১৯ ম্যাচ অপরাজিত থেকে বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচ খেলতে নামা দলটির সাফল্য ধারাও অব্যাহত থাকল। ৪৭ মিনিটে দুর্দান্ত ভলিতে দলকে এগিয়ে নেন ড্রাইস মেরটেনস। ৬৯ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন বাছাই পর্বে দেশের হয়ে সর্বোচ্চ ১১ গোল করা লুকাকু। ডি ব্রুইনের ক্রসে দারুণ হেডে বল জালের ঠিকানায় পাঠান তিনি। ৬ মিনিট পর পাল্টা আক্রমণ থেকে পানামার গোলরক্ষককে একা পাওয়া ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের এই ফরোয়ার্ড সুযোগটি হেলায় হারাননি। দারুণ প্লেসিংয়ে বল পাঠান জালে।

গোল করতে বেলজিয়ামের দ্বিতীয়ার্ধ পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হলেও ইংল্যান্ড এগিয়ে যায় ম্যাচের দশম মিনিটেই। এর আগে একাধিক সহজ সুযোগ কাজে লাগানোর ব্যর্থতার হতাশার মধ্যেই কেইনের লক্ষ্যভেদে উত্সবের উপলক্ষ পায় ইংলিশরা। তবে প্রথমার্ধেই পেনাল্টি থেকে ফারজানি সাসির গোলে সমতা ফেরানো তিউনিসিয়া হতাশা নিয়েই ইংল্যান্ডের মাঠ ছাড়ার ক্ষেত্র প্রস্তুত করেই ফেলেছিল প্রায়। ১-১ গোলের ড্র নিয়ে যখন ম্যাচ শেষ হওয়ার অপেক্ষা, তখনই আবার গোল করে ইংল্যান্ডের উত্সবের মধ্যমনি বনে যান কেইন। হেডে বল জালে পাঠান টটেনহাম তারকা।

সুইডেনকে অবশ্য বল জালে পাঠানোর জন্য একটি পেনাল্টির অপেক্ষায় থাকতে হয়েছে। হলুদ জার্সিতে মাঠে খেলছে সুইডেন, সেটা দেখে হয়তো অনেকেই খুঁজছে নীল জার্সির ইতালিকে। ইউরোপের বাছাই পর্বে প্লে-অফের দুই লেগে ১৮০ মিনিটের খেলায় ইতালি আর সুইডেনের ভাগ্যকে আলাদা করেছিল জ্যাকব জোহানসনের গোল। চোটের কারণে জোহানসনের খেলা হচ্ছে না বিশ্বকাপে, তবে তাঁর গোলে ভর করে বিশ্বকাপে আসা সুইডেন ঠিকই জয়ের দেখা পেয়েছে প্রথম ম্যাচে। সেটি পেনাল্টি থেকে আন্দ্রেস গ্র্যাংকউইস্টের করা একমাত্র গোলে।

১৯৫৮ বিশ্বকাপটা পেলের আগমনী বার্তা, ওয়েলসের একমাত্র বিশ্বকাপ উপস্থিতির কারণে ফুটবলপ্রেমীদের মনে থাকবে। তবে সুইডিশরা মনে রেখেছে তাদের বিশ্বকাপ আয়োজনের স্মৃতিকে। সেবারই তো উদ্বোধনী ম্যাচে মেক্সিকোকে হারিয়ে শুভ সূচনা করেছিল স্বাগতিকরা। এর পর হলুদ জার্সিধারীরা সাতবার খেলেছে বিশ্বকাপ, কিন্তু ৬০ বছরে কখনোই তারা পারেনি বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচটা জিততে। সেই খরা ঘুচল গ্র্যাংকউইস্টের গোলে। গোলশূন্য প্রথমার্ধের পর দ্বিতীয়ার্ধে, ম্যাচের ৬৩ মিনিটে ক্লাসেনকে করা লির স্লাইডিং ট্যাকলে ভিডিও রেফারির সাহায্য নেন রেফারি। রিপ্লে দেখে জানান পেনাল্টির সংকেত। সুইডিশ অধিনায়ক  গ্র্যাংকউইস্ট নিজেই স্পট কিক নেন এবং গোল করেন। ২০০২ সালে নাইজেরিয়ার বিপক্ষে হেনরিক লারসেন পেনাল্টি থেকে গোল করার পর গ্র্যাংকউইস্টই কাল বিশ্বকাপে পেনাল্টি থেকে গোল করা প্রথম সুইডিশ ফুটবলার।

এই একটি মাত্র গোল বাদ দিলে অবশ্য দুটো দলের পারফরম্যান্সকে আলাদা করা কঠিন। সুইডেনের কাছে বলের দখল ছিল ম্যাচের ৫২% সময়ে, দক্ষিণ কোরিয়ার কাছে ৪৮% সময়ে। সুইডেন ফাউল করেছে ২০টি, দক্ষিণ কোরিয়া ২৩টি। সুইডেন কর্নার পেয়েছে ছয়টা, দক্ষিণ কোরিয়া পাঁচটা। এশিয়ার দেশ হলেও বেশ পাল্লা দিয়েই লড়েছে কোরিয়ানরা। গোলমুখী প্রচেষ্টা ছিল পাঁচটি। এখানে অবশ্য এগিয়ে সুইডেন, তাদের প্রচেষ্টা ১৫ বার। ম্যাচের শেষ সময়ে দারুণ একটা সমতা ফেরানোর সুযোগই পেয়েছিল দক্ষিণ কোরিয়া, হোয়াং হিচ্যানের পয়েন্ট ব্ল্যাংক হেডটা একটু ডান দিক ঘেঁষে গেলেই হয়তো সুইডিশদের ৬০ বছরের অপেক্ষাটা আরো বেড়ে যেত।

 

মন্তব্য