kalerkantho

পেনাল্টিতে জিতল সুইডেন

১৯ জুন, ২০১৮ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



পেনাল্টিতে জিতল সুইডেন

হলুদ জার্সিতে মাঠে খেলছে সুইডেন, সেটা দেখে হয়তো অনেকেই খুঁজছে নীল জার্সির ইতালিকে। ইউরোপের বাছাই পর্বে প্লে-অফে তো এই সুইডেনই বিদায় করে দিয়েছে ইতালিকে! দুই লেগে ১৮০ মিনিটের খেলায় ইতালি আর সুইডেনের ভাগ্যকে আলাদা করেছিল জ্যাকব জোহানসনের গোল। চোটের কারণে জোহানসনের খেলা হচ্ছে না বিশ্বকাপে, তবে তাঁর গোলে ভর করে বিশ্বকাপে আসা সুইডেন ঠিকই জয়ের দেখা পেয়েছে প্রথম ম্যাচে। পেনাল্টি থেকে আন্দ্রেস গ্র্যাংকউইস্টের করা একমাত্র গোলে সুইডিশরা হারিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়াকে। ফলে এফ গ্রুপে সমীকরণটা কঠিন হয়ে গেল মেক্সিকোর কাছে হেরে বিশ্বকাপ শুরু করা জার্মানির।

১৯৫৮ বিশ্বকাপটা পেলের আগমনী বার্তা, ওয়েলসের একমাত্র বিশ্বকাপ উপস্থিতির কারণে ফুটবলপ্রেমীদের মনে থাকবে। তবে সুইডিশরা মনে রেখেছে তাদের বিশ্বকাপ আয়োজনের স্মৃতিকে। সেবারই তো উদ্বোধনী ম্যাচে মেক্সিকোকে হারিয়ে শুভ সূচনা করেছিল স্বাগতিকরা। এরপর হলুদ জার্সিধারীরা সাতবার খেলেছে বিশ্বকাপ, কিন্তু ৬০ বছরে কখনোই তারা পারেনি বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচটা জিততে। সেই খরা ঘুচল গ্র্যাংকউইস্টের গোলে। গোলশূন্য প্রথমার্ধের পর দ্বিতীয়ার্ধে, ম্যাচের ৬৩ মিনিটে ক্লাসেনকে করা লির স্লাইডিং ট্যাকলে ভিডিও রেফারির সাহায্য নেন রেফারি। রিপ্লে দেখে জানান পেনাল্টির সংকেত। সুইডিশ অধিনায়ক  গ্র্যাংকউইস্ট নিজেই স্পট কিক নেন এবং গোল করেন। ২০০২ সালে, নাইজেরিয়ার বিপক্ষে হেনরিক লারসেন পেনাল্টি থেকে গোল করার পর গ্র্যাংকউইস্টই কাল বিশ্বকাপে পেনাল্টি থেকে গোল করা প্রথম সুইডিশ ফুটবলার।

এই একটি মাত্র গোল বাদ দিলে অবশ্য দুটো দলের পারফরম্যান্সকে আলাদা করা কঠিন। সুইডেনের কাছে বলের দখল ছিল ম্যাচের ৫২% সময়ে, দক্ষিণ কোরিয়ার কাছে ৪৮% সময়ে। সুইডেন ফাউল করেছে ২০টি, দক্ষিণ কোরিয়া ২৩টি। সুইডেন কর্নার পেয়েছে ৬টা, দক্ষিণ কোরিয়া ৫টা। এশিয়ার দেশ হলেও বেশ পাল্লা দিয়েই লড়েছে কোরিয়ানরা। গোলমুখী প্রচেষ্টা ছিল ৫টি। এখানে অবশ্য এগিয়ে সুইডেন, তাদের প্রচেষ্টা ১৫ বার। ম্যাচের শেষ সময়ে দারুণ একটা সমতা ফেরানোর সুযোগই পেয়েছিল দক্ষিণ কোরিয়া, হোয়াং হিচ্যানের পয়েন্ট ব্ল্যাংক হেডটা একটু ডান দিক ঘেঁষে গেলেই হয়তো সুইডিশদের ৬০ বছরের অপেক্ষাটা আরো বেড়ে যেত।

এশিয়ার দলগুলো সামর্থ্য, শক্তি ও কৌশলে ইউরোপের দলের চেয়ে বেশ পিছিয়ে। মাঠে সেই প্রমাণই দেখা গেছে। তবে সেই সঙ্গে চোখে পড়েছে দুই দলেরই গোল করার সামর্থ্যের অভাব। একজন জ্লাতান ইব্রাহিমোভিচকে নিশ্চিতভাবেই মিস করেছেন সুইডেন সমর্থকরা। এফ গ্রুপে মেক্সিকো ও সুইডেন, দুই দলই একটি করে ম্যাচ জিতে গ্রুপের অঙ্কটা জমিয়ে দিয়েছে। এখান থেকে জার্মানিকে পরের রাউন্ডে জায়গা পেতে হলে পরের দুটো ম্যাচে জয়ের বাইরে অন্য কিছু ভাবার কোনো অবকাশ নেই। অন্যদিকে ২০০২ সালে সেমিফাইনাল খেলা কোরিয়ানদের এবার হয়তো গ্রুপ পর্ব উতরানোটাই হবে কঠিন। ফিফা

মন্তব্য