kalerkantho

রাজনীতিবিদদের ঈদ

শুভেচ্ছার নামে নির্বাচনী প্রচার

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১৯ জুন, ২০১৮ ০০:০০ | পড়া যাবে ১২ মিনিটে



শুভেচ্ছার নামে নির্বাচনী প্রচার

জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে থাকায় এবার ঈদে বিভিন্ন এলাকায় নির্বাচনী আমেজ তৈরি হয়েছে। মন্ত্রী-এমপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের বেশির ভাগ প্রভাবশালী নেতা ঈদ উপলক্ষে বরাবরের মতো যার যার নির্বাচনী এলাকায় গেছেন। তবে এবার ঈদ ঘিরে বিভিন্ন দলের মনোনয়নপ্রত্যাশী নেতারাও জনসংযোগ চালিয়েছেন শুভেচ্ছা বিনিময়ের নামে। কোথাও কোথাও আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জাতীয় পার্টি, জাসদসহ বিভিন্ন দলের নেতাদের নামে পোস্টার ও ব্যানার টানানো হয়েছে। তবে বেশির ভাগ প্রচারপত্র ছিল ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের নেতাদের নামে।

আওয়ামী লীগের বেশ কয়েকজন কেন্দ্রীয় নেতা ঈদের দিন দুপুর পর্যন্ত ঢাকায় অবস্থান করেন। ওই দিন সকালে তাঁরা গণভবনে দলীয় সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ঈদের শুভেচ্ছা জানান। তাঁদের মধ্যেও অনেকেই দুপুরের পর নিজ জেলায় চলে যান। ঈদের দিন গণভবনে প্রধানমন্ত্রীকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম, মতিয়া চৌধুরী, আব্দুর রাজ্জাক, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক, সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, আন্তর্জাতিক সম্পাদক শাম্মী আখতার, কার্যনির্বাহী সদস্য এস এম কালাম, এ বি এম রিয়াজুল কাওছার, মারুফা আক্তার পপি প্রমুখ।

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনসহ সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরামের বেশির ভাগ সদস্যই এবার ঢাকায় ঈদ উদ্যাপন করেছেন। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ তাঁর নির্বাচনী এলাকা নোয়াখালীতে এবং স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য তরিকুল ইসলাম নিজ এলাকা যশোরে ঈদ করেন। দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় ঈদের দিন ঢাকায় থাকলেও বিকেলে তাঁর নির্বাচনী এলাকা কেরানীগঞ্জের সাধারণ মানুষের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, নজরুল ইসলাম খান, বরকতউল্লা বুলু, আবদুল আউয়াল মিন্টু, এ জেড এম জাহিদ হোসেন, আহমেদ আজম খান, জয়নুল আবদিন ফারুক, আফরোজা আব্বাস সুলতানা আহমেদসহ বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের কেন্দ্রীয় নেতারা ঈদের দিন দুপুর সোয়া ১২টার দিকে পুরনো কারাগারের কাছে যান। কারাগারের মূল ফটক থেকে প্রায় আধাকিলোমিটার দূরে পুলিশ তাঁদের আটকে রাখে। দলের দুই শতাধিক নেতাকর্মীও সেখানে অবস্থান নিয়ে দলীয় চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে স্লোগান দেয়।

এর আগে সকাল সাড়ে ১১টায় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নেতৃত্বে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, নজরুল ইসলাম খান শেরে বাংলা নগরে জিয়াউর রহমানের কবরে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও ফাতেহা পাঠ করেন। ওই সময় আরো উপস্থিত ছিলেন দলের ভাইস চেয়ারম্যান বরকতউল্লা বুলু, আবদুল আউয়াল মিন্টু, অধ্যাপক এ জেড এম জাহিদ হোসেন, আহমেদ আজম খান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য জয়নুল আবদিন ফারুক, যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবীর খোকন, কেন্দ্রীয় নেতা কামরুজ্জামান রতন, হাবিবুল ইসলাম হাবিব, তাইফুল ইসলাম টিপু, অঙ্গসংগঠনের কাজী আবুল বাশার, মুন্সি বজলুল বাসিত আনজু, আহসানুউল্লাহ হাসান, আনোয়ার হোসেইন, নুরুল ইসলাম খান নাসিম, শায়রুল কবির খান, মোরতাজুল করীম বাদরু, মামুন হাসান, আবদুল কাদের ভূঁইয়া জুয়েল, মামুনুর রশীদ মামুন, আকরামুল হাসান প্রমুখ।

চট্টগ্রাম থেকে নূপুর দেব জানান, এবার ঈদে প্রায় সব বর্তমান ও সাবেক সংসদ সদস্য ছিলেন এলাকায়। শুধু সাতকানিয়া-লোহাগাড়া আসনের সংসদ সদস্য আওয়ামী লীগের আবু রেজা নেজাম উদ্দীন নদভী দুবাইয়ে ঈদ করেন। অনেক নেতার বাড়িতে ছিল মেজবানসহ বিভিন্ন আয়োজন। ঈদ শুভেচ্ছার পাশাপাশি সেরেছেন নির্বাচনী যোগাযোগের কাজও। মহানগর আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি প্রয়াত এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরীর বাসভবনে গতকাল সোমবার দুটি গরু জবাই করে মেজবানের আয়োজন করা হয়েছে। মহানগর, ৪৪টি সাংগঠনিক এবং ১৬ থানা আওয়ামী লীগের দলীয় নেতাকর্মীদের সৌজন্যে ওই মেজবানের আয়োজন করা হয়। এতে ১৪ দলের নেতারাও অংশ নেন। গত রাতে যুবলীগ, ছাত্রলীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের নেতাকর্মীদের সৌজন্যে আরেকটি মেজবানের আয়োজন করা হয়। ঈদের দিন ও পরদিন আরো পাঁচটি গরুর মেজবান ছিল মহিউদ্দিন চৌধুরীর বাসভবনে। ছিল খাসি ও মুরগিও। বাবার অবর্তমানে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ব্যারিস্টার মহীবুল হাসান চৌধুরী নওফেল অতিথিদের ঈদ শুভেচ্ছা জানান। নগরের কোতোয়ালি ও বাকলিয়া আসনে তাঁর পক্ষে মনোনয়ন চেয়ে দলীয় কর্মীরা পোস্টার-ব্যানার টানিয়েছে বিভিন্ন এলাকায়।

এদিকে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য, গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেনের নির্বাচনী এলাকা মিরসরাইয়েও ছিল ব্যাপক আয়োজন। ঈদের দিন সকালে মিরসরাইয়ের ধুম ইউনিয়নের ঈদগাহ ময়দানে নামাজ আদায়ের পর বাড়িতে যান তিনি। পরদিন তিনি নিজ নির্বাচনী এলাকায় অবস্থান করে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।

প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী নুরুল ইসলাম বিএসসি, সাবেক মন্ত্রী ও বর্তমান সংসদ সদস্য ডা. আফছারুল আমীন, ভূমি প্রতিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ, সাবেক মন্ত্রী ও বর্তমান এমপি ড. হাছান মাহমুদ, রেলপথ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি এ বি এম ফজলে করিম চৌধুরী, এম এ লতিফ, দিদারুল আলমসহ দলীয় এমপিরা নিজেদের নির্বাচনী এলাকায় ঈদ করেছেন।

জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য, বন ও পরিবেশ মন্ত্রী ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, একই দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য জিয়া উদ্দীন আহমেদ বাবলু এমপি এবং বাংলাদেশ জাসদের কার্যকরী সভাপতি মইন উদ্দীন খান বাদল এমপিও নিজ এলাকায় ঈদ করেছেন।

এ ছাড়া সিটি মেয়র ও মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছির উদ্দীন ঈদ জামাতের পর নিজ বাসভবনে দলীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। সেখানে সেমাইয়ের পাশাপাশি নানা খাবারের আয়োজন ছিল।

রাজশাহী থেকে রফিকুল ইসলাম জানান, ঈদ ঘিরে প্রচারে ব্যস্ত সময় পার করেন স্থানীয় সংসদ সদস্যসহ মনোনয়নপ্রত্যাশী নেতারা। তানোর-গোদাগাড়ী আসনের বর্তমান এমপি ফারুক চৌধুরী ঈদের কয়েক দিন আগে থেকেই নির্বাচনী এলাকার মানুুষের সঙ্গে কুশলবিনিময় করেন। তিনি গোদাগাড়ীর বিভিন্ন এলাকার মানুষের মাঝে নগদ অর্থও বিতরণ করেন। তবে পারিবারিক সমস্যার কারণে এবার ঈদ করেন ঢাকায়। এ আসনে মনোনয়নপ্রত্যাশী অন্য নেতারাও ঈদ ঘিরে নানাভাবে প্রচার চালান। রাজশাহী-২ আসনের এমপি ফজলে হোসেন বাদশা তাঁর নির্বাচনী এলাকার মানুষের মাঝে কিছু অনুদান দেন এবং অর্থ বিতরণ করেন। তিনি ঈদের দিন নামাজ শেষে স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কুশলবিনিময় করেন।

এখানে নামাজ আদায় করেন সাবেক মেয়র এ এইচ এম খায়রুজ্জামান লিটন, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও মহানগর বিএনপির সভাপতি মিজানুর রহমান মিনু, রাজশাহী-৬ আসনের এমপি ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম, রাসিকের বর্তমান মেয়র মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল। তাঁরাও নামাজ শেষে মুসল্লিদের সঙ্গে কুশলবিনিময় করেন। প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম তাঁর নির্বাচনী এলাকায়ও প্রচার চালান কয়েক দিন আগে থেকেই। এমনকি বাঘায় গণসাহরির ব্যবস্থা করেন তিনি।

রাজশাহী-৩ আসনের এমপি আয়েন উদ্দিন, রাজশাহী-৪ আসনের এমপি এনামুল হক, রাজশাহী-৫ আসনের এমপি আব্দুল ওয়াদুদ দারাও নিজ নিজ নির্বাচনী এলাকায় ঈদের নামাজ আদায় করেন এবং ঈদ ঘিরে নানাভাবে প্রচার চালান। তবে ঈদ ঘিরে অনুদানের ঝাঁপি খুলে বসেন রাজশাহী-৪ আসনের এমপি এনামুল হক। তিনি প্রায় ৩৫ হাজার নেতাকর্মী ও সাধারণ ভোটারের মাঝে শাড়ি-লুঙ্গি এবং নগদ অর্থ বিতরণ করেন।

বরিশাল থেকে মঈনুল ইসলাম সবুজ জানান, বরিশাল-১ আসনের এমপি ও পার্বত্য শান্তিচুক্তি বাস্তবায়ন কমিটির আহ্বায়ক আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ্ গৌরনদী উপজেলার কেন্দ্রয়ী ঈদগাহে ঈদের নামাজ আদায় করেন। পরে তিনি আগৈলঝাড়ায় তাঁর গ্রামের বাড়িতে দলীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। বরিশাল-২ আসনের এমপি ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট তালুকদার মো. ইউনুস বানারীপাড়ায় ঈদের নামাজ আদায় করেন। পরে তিনি বানারীপাড়া ও উজিরপুর উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ও ওয়ার্ডে গিয়ে সাধারণ মানুষের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। বরিশাল-৩ আসনের সংসদ সদস্য ওয়ার্কার্স পার্টির শেখ মো. টিপু সুলতান মুলাদীতে ঈদের নামাজ আদায় করেন। সেখানে তিনি ১৪ দলের নেতাকর্মীসহ সাধারণ মানুষের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। বরিশাল-৪ আসনের এমপি স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক পংকজ নাথ হিজলা ও মেহেন্দীগঞ্জে অবস্থান নিয়ে নেতাকর্মীসহ সাধারণ মানুষের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। বরিশাল-৫ আসনের সংসদ সদস্য জেবুন্নেছা আফরোজ নগরের ডেঙ্গু সড়কে নিজ বাসভবনে অবস্থান নিয়ে মহানগর ও সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। বরিশাল-৬ আসনের এমপি ও জাতীয় পার্টির ভাইস চেয়ারম্যান নাসরিন জাহান রতনা আমিন এবং পটুয়াখালী সদর আসনের এমপি ও জাতীয় পার্টির মহাসচিব রুহুল আমিন হাওলাদার বাকেরগঞ্জ উপজেলা সদরে ‘পল্লী ভবনে’ দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।

বিএনপি নেতাদের মধ্যে বরিশাল সদর আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব মজিবর রহমান সরোয়ার নগরের পশ্চিম কাউনিয়া সৈয়দা মজিদুন্নেসা মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে, বরিশাল-১ আসনের সাবেক এমপি বিএনপি নেতা জহির উদ্দিন স্বপন গৌরনদীর সরিকল গ্রামে, বরিশাল-৪ আসনের সাবেক এমপি মেজবাহ উদ্দিন ফরাদ মেহেন্দীগঞ্জে ঈদের নামাজ আদায় করেন। তাঁরা নিজ নিজ এলাকায় থেকে দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।

চাঁদপুর থেকে ফারুক আহম্মদ জানান, চাঁদপুর-১ আসনের এমপি ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মহীউদ্দীন খান আলমগীর এবং আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রত্যাশী ও এনবিআরের সাবেক চেয়ারম্যান মো. গোলাম হোসেন পৃথকভাবে অনুসারীদের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। চাঁদপুর-৩ সদর আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রত্যাশী এবং দলের কেন্দ্রীয় ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী সমর্থকদের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। চাঁদপুর-৪ আসনের এমপি ড. মোহাম্মদ শামছুল হক ভূঁইয়া দলীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন এবং নির্বাচনী এলাকার বিভিন্ন স্থান ঘুরে মতবিনিময় করেন। এই আসনে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা সাবেক এমপি লায়ন মো. হারুনুর রশিদ এবং কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য মো. মোতাহার হোসেন পাটোয়ারী পৃথকভাবে প্রেস ক্লাবে গিয়ে স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। তাঁরা মূলত নেতাকর্মীদের পুলিশি হয়রানি এবং প্রকাশ্যে সভা-সমাবেশ করতে বাধা দেওয়ার অভিযোগ করেন।

চাঁদপুর-৫ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রত্যাশী ইঞ্জিনিয়ার সফিকুর রহমান সাধারণ মানুষের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।

চাঁদপুর-২ আসনের এমপি এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া (বীরবিক্রম), চাঁদপুর-৫ আসনের এমপি এবং মুক্তিযুদ্ধে অন্যতম সেক্টর কমান্ডার মেজর (অব.) রফিকুল ইসলাম (বীর-উত্তম) ঈদের কয়েক দিন আগে নিজ নিজ এলাকায় এসে নেতাকর্মীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। সংসদ সদস্য ও সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. দীপু মনি ওমরাহ পালন করতে সৌদি আরবে থাকায় আজ মঙ্গলবার দেশে ফিরে চাঁদপুর ও হাইমচরে দলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে ঈদপরবর্তী শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন।

সিলেট থেকে আহমেদ নূর জানান, সিটি নির্বাচন এবং জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে থাকায় এবার ঈদ অন্য রকম মাত্রা পায়। মন্ত্রী, এমপির পাশাপাশি মেয়র ও কাউন্সিলরসহ বিভিন্ন পদে মনোনয়নপ্রত্যাশী নেতাদের প্রচার ছিল চোখে পড়ার মতো। শাহি ঈদগাহে ঈদের জামাতে অংশ নেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত, সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী, সাবেক মেয়র বদরউদ্দিন আহমদ কামরান, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ, জাতিসংঘে বাংলাদেশ মিশনের সাবেক স্থায়ী প্রতিনিধি ও সিলেট-১ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রত্যাশী ড. এ কে আব্দুল মোমেনসহ রাজনীতিক, পেশাজীবীসহ সর্বস্তরের কয়েক হাজার মানুষ।

অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত মুসল্লিদের সঙ্গে কোলাকুলি ও কুশল বিনিময় করেন। তিনি কোনো বক্তব্য দেননি। বিকেলেই তিনি ঢাকায় চলে যান।

এদিকে সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচনে যাতে ‘ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং’ না হয় এমনটা প্রত্যাশা করেছেন মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী। শনিবার সিলেটের শাহি ঈদগাহে নামাজ আদায় শেষে এক বক্তব্যে সিলেটবাসীর উদ্দেশে তিনি এ প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

ঈদের পরদিন রাতে সিলেট জেলা ও মহানগর মহিলা আওয়ামী লীগ এবং বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতাকর্মীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন সিলেট-১ আসনে মনোনয়নপ্রত্যাশী ড. এ কে আব্দুল মোমেন।

রংপুর থেকে স্বপন চৌধুরী জানান, রংপুরের ছয় এমপির মধ্যে চারজনই এবার ঢাকায় ঈদ উদ্যাপন করেছেন। রংপুরে দুজন নেতা ছাড়া আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির বড় নেতারা এলাকায় ছিলেন অনুপস্থিত। এ ছাড়া বিএনপির কোনো নেতাকেও ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময় করতে দেখা যায়নি। এতে হতাশা প্রকাশ করেছে তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীরা। রংপুর-১ (গঙ্গাচড়া) আসনের এমপি এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী জাতীয় পার্টির জেলা সভাপতি মসিউর রহমান রাঙ্গা ঈদের আগে থেকে গঙ্গাচড়া উপজেলা সদরে অবস্থান করেন। তিনি ঈদের দিন সকালে বুড়িরহাট ঈদগাহে নামাজ আদায় করে মুসল্লিদের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। দিনভর গঙ্গাচড়াসহ আশপাশের এলাকায় গিয়ে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। তবে এ আসনে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির কোনো নেতাকে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করতে দেখা যায়নি।

রংপুর-২ আসনের এমপি আওয়ামী লীগের আবুল কালাম মো. আহসানুল হক চৌধুরী ডিউক ঈদের নামাজ আদায় করেছেন নিজের গ্রামের বাড়ি বদরগঞ্জের চৌধুরীপাড়ায় পারিবারিক ঈদগাহে। দুপুর পর্যন্ত ওই এলাকাসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন তিনি। সবার কাছে তিনি দোয়া এবং ভোটও চেয়েছেন।

রংপুর-৩ (সদর) আসনের এমপি জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এইচ এম এরশাদ। তিনি সাধারণত ঈদুল ফিতর ঢাকায় উদ্যাপন করেন। সে কারণে রংপুরে আসেননি। তবে তাঁর পক্ষে রংপুর সিটি মেয়র ও মহানগর জাপার সভাপতি মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা ঈদের নামাজ শেষে দলের নেতাকর্মীসহ সাধারণ মানুষের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেছেন।

মন্তব্য