kalerkantho


বিশ্বকাপের বজ্র আঁটুনিতে রুশদের হাঁসফাঁস

৯ জুন, ২০১৮ ০০:০০



বিশ্বকাপের বজ্র আঁটুনিতে রুশদের হাঁসফাঁস

বিশ্বকাপ দেখতে গোটা বিশ্ব থেকে ধেয়ে আসছে পর্যটকের স্রোত, আসছে গোটা বিশ্বের গণমাধ্যম। আগামী দেড়টা মাস গণমাধ্যম, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম—সব জায়গাতেই কথা হবে রাশিয়া বিশ্বকাপ নিয়ে। বিশ্ববাসীর সামনে  নিজেদের ইমেজ তুলে ধরতে ভ্লাদিমির পুতিন প্রশাসনও তৎপর। তাদের এই তৎপরতার জন্যই নাভিশ্বাস সাধারণ রুশদের!

রাশিয়ায় নিযুক্ত আর্জেন্টাইন রাষ্ট্রদূত রিকার্দো এরনেস্তো লোগারিও জানিয়েছেন, আর্জেন্টিনা থেকে বিশ্বকাপ দেখতে আসছেন ২০ হাজার ফুটবলভক্ত। ব্রাজিল থেকে আসবেন ৬০ হাজার ফুটবলভক্ত! এভাবে অংশগ্রহণকারী ৩২ দেশের ভক্ত-সমর্থকদের সংখ্যাই তো হবে কয়েক লাখ। এর বাইরে সাংবাদিক, সম্প্রচারকর্মীসহ কাজের খাতিরে যাঁরা যাবেন, তাঁদের সংখ্যাটাও কম নয়। বিশাল এই মানব মহাসম্মেলনে যেন কোনো গোলমাল না বাধে, এ জন্য পুতিন প্রশাসন বাড়তি সজাগ রেখেছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীকে। অ্যালকোহলযুক্ত পানীয় বিক্রিতে নেওয়া হয়েছে বিশেষ ব্যবস্থা। এসব নিয়ম-কানুনে স্থানীয় রুশরা হয়ে উঠেছেন বিরক্ত!

ম্যাচের দিন ও তার আগের দিনগুলোতে অ্যালকোহলিক পানীয় এবং কাচের বোতলে যেকোনো পানীয় বিক্রিই নিষিদ্ধ করা হয়েছে স্টেডিয়ামের আশপাশের ফ্যানজোনগুলোতে। সেই সঙ্গে যে শহরে ম্যাচ হচ্ছে সেই শহরের প্রধান প্রধান এলাকার ফ্যানজোনগুলোতেও কার্যকর হবে এই ‘নিরস’ ব্যবস্থা! সোভিয়েত আমলে পুলিশের মাতালদের ধরে নিয়ে আটকে রাখার যে প্রথা চালু ছিল, মুক্তবাজার অর্থনীতির রাশিয়াতেও সেই একই ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনছে বিশ্বকাপ। শুধু তা-ই নয়, ভিনদেশি হোক কিংবা অন্য শহর থেকে আসা রুশ নাগরিক, তাদের কোনো বিশ্বকাপের স্বাগতিক শহরে পা রাখার তিন দিনের ভেতরে পুলিশের কাছে গিয়ে নাম নিবন্ধন করতে হবে। দেখাতে হবে পরিচয়পত্র আর থাকার জায়গা আছে এমন প্রমাণ। অতীতে রুশরা কেউ যদি এক শহর থেকে অন্য শহরে ৯০ দিনের বেশি সময়ের জন্য যেত, তাহলে তাকে নতুন জায়গায় গিয়ে নিবন্ধন করতে হতো। অবশ্য এমন আইন বাস্তবে প্রয়োগ করা হতো কমই। তবে বিশ্বকাপের জন্যই এখন কড়াকড়িভাবেই প্রয়োগ হচ্ছে নিবন্ধন আইনের।

প্রেসিডেন্ট পুতিন তাঁর ডিক্রি জারি করে বিশ্বকাপের সময় সব রকমের প্রতিবাদ সমাবেশ আয়োজন নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছেন। খেলাধুলার বাইরে সব রকমের সামাজিক কর্মকাণ্ড, সমাবেশ করার আগে স্থানীয় কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে করতে হবে এবং বেঁধে দেওয়া সময়সীমার মধ্যে করতে হবে। এতে করে খুবই অসুবিধায় আছেন অনুষ্ঠান আয়োজকরা। বেশ কিছু সংগীত উৎসবের দিন-তারিখ পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে।

হোটেল রুম, সার্ভিস অ্যাপার্টমেন্টের ভাড়া তো বহুগুণে বেড়েছেই, কর্তৃপক্ষ নিয়ন্ত্রণ করে দিয়েছেন দলবদ্ধ ভ্রমণকারীদের সংখ্যাও। দলবেঁধে ভ্রমণ রাশিয়ানদের খুব জনপ্রিয় একটি বিনোদন। বিশ্বকাপের খেলা চলবে এমন শহরে সাইট-সিয়িং করতে আসা পর্যটকদের বাসও ঢোকা নিষেধ, জলেও নামানো যাবে না কোনো প্রমোদতরী। সুনির্দিষ্ট কিছু জায়গায় ওড়ানো যাবে না ড্রোন, ওপর দিয়ে যেতে পারবে না বিমান বা হেলিকপ্টার। বিশেষ সেনা দল মোবাইল জ্যামার নিয়ে পাহারা দেবে স্টেডিয়াম। মস্কোর যানজট আরো বাড়বে কারণ অনেক রাস্তাই যে থাকবে বন্ধ!

বাইরে আগুন জ্বালিয়ে বারবিকিউ করাও হয়েছে নিষিদ্ধ। করা যাবে না ক্যাম্প ফায়ারও। খোলা আকাশের নিচে টেবিল পেতে চুলা জ্বালিয়ে খাবারদাবার রান্না করে খাওয়া বা পিকনিকের আয়োজন করাও চলবে না। অথচ গ্রীষ্মের দিনে আত্মীয়স্বজন নিয়ে এভাবে খাওয়াটা যে রুশদের ঐতিহ্য! সব মিলিয়ে রুশদের জীবনযাত্রায় বড়সড় ধাক্কাই দিয়েছে বিশ্বকাপ। এএফপি



মন্তব্য