kalerkantho


এবার দেশ থেকে মাদক নির্মূল

প্রধানমন্ত্রীর কঠোর ঘোষণা

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২১ মে, ২০১৮ ০০:০০



এবার দেশ থেকে মাদক নির্মূল

খুলনা সিটি করপোরেশনের নবনির্বাচিত মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেক ও কাউন্সিলররা গতকাল গণভবনে প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনাকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান। ছবি : পিআইডি

জঙ্গি দমনের পর এবার দেশ থেকে মাদক নির্মূলে কঠোর হওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, ‘আমরা যেমন জঙ্গিবাদকে দমন করেছি। আমরা অঙ্গীকার করেছি, এই মাদক থেকে দেশকে উদ্ধার করব।’

খুলনার নবনির্বাচিত মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেক ও কাউন্সিলররা গতকাল রবিবার গণভবনে শুভেচ্ছা জানাতে এলে শেখ হাসিনা এসব কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আপনারা নিশ্চয়ই লক্ষ করছেন যে মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান কিন্তু শুরু হয়ে গেছে।’

সমাজের বিভিন্ন স্তরে মাদক গেড়ে বসেছে বলে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে দীর্ঘদিন ধরে বলা হচ্ছে। সম্প্রতি বিভিন্ন স্থানে মাদকচক্রের বিরুদ্ধে বিভিন্ন বাহিনীর অভিযান দেখা যাচ্ছে। শনিবার রাতে ছয় জেলায় ছয়জন পুলিশের কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়; তাদের চারজনই মাদক বিক্রেতা বলে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে।

সম্প্রতি র‌্যাবের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীসহ একাধিক অনুষ্ঠানে মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। গতকাল গণভবনের অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, ‘মাদকের জন্য একেকটা পরিবার যে কষ্ট পায়, যেভাবে একেকটা পরিবার ধ্বংস হয়ে যায়...। কাজেই এবার মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান। আমরা সমস্ত আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, গোয়েন্দা সংস্থা এবং র‌্যাবকে আমরা বিশেষ দায়িত্ব দিয়েছি। যেখানেই মাদক, সেখানেই কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং সেই কঠোর ব্যবস্থা নিচ্ছি।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের ছেলেমেয়েরা লেখাপড়া শিখবে, সুন্দর জীবন পাবে, সুন্দরভাবে বাঁচবে। তারা কেন বিপথে গিয়ে নিজের জীবন ও পরিবারকে ধ্বংস করবে?’

অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রীকে ফুলের তৈরি নৌকা দিয়ে শুভেচ্ছা জানান খুলনার মেয়র তালুকদার আবদুল খালেক। এ সময় তাঁর সঙ্গে দলীয় কর্মী ও সমর্থকদের পাশাপাশি আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, শেখ হেলাল এমপি ও দলের কেন্দ্রীয় ও খুলনার নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

গত ১৫ মে অনুষ্ঠিত খুলনা সিটির নির্বাচনে বিজয়ী হওয়ায় নবনির্বাচিত মেয়র ও খুলনাবাসীকে শুভেচ্ছা জানান শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ‘দলের নেতাকর্মীরা ঐক্যবদ্ধ থাকলে যেকোনো নির্বাচনে জয়লাভ আওয়ামী লীগের জন্য কোনো কঠিন কাজ নয়, তা আবার প্রমাণিত হয়েছে।’

আওয়ামী লীগের ওপর জনগণের আস্থা থাকার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা সরকারে এসে দিনবদলের সনদ বাস্তবায়নের মাধ্যমে বিগত ৯ বছরে দেশের মানুষকে উন্নত জীবন দিতে সক্ষম হয়েছি।’ তিনি বলেন, ‘জনগণের ভোট ও সমর্থন আওয়ামী লীগের পক্ষে রয়েছে। যতগুলো আন্তর্জাতিক সংস্থা সার্ভে করেছে, তারা দেখেছে গণমানুষের আস্থার জায়গায় আওয়ামী লীগের অবস্থান অনেক ওপরে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, নির্বাচন কমিশন পুরোপুরি স্বাধীনভাবে তাদের দায়িত্ব পালন করেছে। তারা দলীয় এমপি-মন্ত্রীদের নির্বাচনী প্রচারে অংশগ্রহণ করতে দেয়নি উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘নির্বাচন কমিশনের যে রকম নিয়ম, তাতে আমাদের হাত-পা বাঁধা।’

শেখ হাসিনা বলেন, ভারত ও যুক্তরাজ্যে এ ধরনের নির্বাচনী প্রচারে প্রধানমন্ত্রী পর্যন্ত অংশগ্রহণ করে থাকেন।

খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচন অত্যন্ত সুষ্ঠু হয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এত সুষ্ঠু নির্বাচন বাংলাদেশে কবে হয়েছে? তার পরও যারা এই নির্বাচন নিয়ে কথা বলে তাদের আমি এই জবাব দিতে চাই—বাংলাদেশে নির্বাচন নিয়ে যে খেলা, সিল মারা, ভোটের বাক্স চুরি করাসহ যত অপকর্ম হয়েছে তা শুরু করে গেছেন জিয়াউর রহমান।’

প্রধানমন্ত্রী জিয়াউর রহমানের হ্যাঁ-না ভোট থেকে শুরু করে খালেদা জিয়ার ’৯৬-এর ১৫ ফেব্রুয়ারির ভোটারবিহীন নির্বাচন, মাগুরা, মিরপুর এবং ঢাকা-১০ নির্বাচনে ভোট চুরির অভিযোগ তোলেন। তিনি বলেন, ‘জিয়াউর রহমান অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করে নিজেকে রাষ্ট্রপতি ঘোষণার মাধ্যমে দেশে হত্যা, ক্যু ও ষড়যন্ত্রের রাজনীতির সূচনা করেন।’

প্রধানমন্ত্রী খুলনা এবং মোংলা এলাকার উন্নয়নে তাঁর সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপ তুলে ধরে বিএনপি আমলে বন্ধ হয়ে যাওয়া কলকারখানা চালু, বিদেশে চিংড়ি রপ্তানি পুনরায় শুরু ও যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নের কথা উল্লেখ করেন।

প্রধানমন্ত্রী ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত করে মধ্যম আয়ের দেশ এবং ২০৪১ সাল নাগাদ উন্নত করে গড়ে তোলায় তাঁর রাজনৈতিক অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।



মন্তব্য