kalerkantho


রমজানে ব্যবসায়ীদের করণীয়

মুফতি শাহেদ রহমানি   

২০ মে, ২০১৮ ০০:০০



রমজানে ব্যবসায়ীদের করণীয়

রমজান অর্জনের মাস। কেউ পুণ্য অর্জন করে। আর কেউ সম্পদ অর্জন করে। রমজান এলেই অসাধু ব্যবসায়ীরা প্রস্তুতি নিতে থাকে মুনাফাখোরির। সংযমের মাসে তারা অসংযমী হয়ে ওঠে। তাই প্রতি রমজানে দ্রব্যমূল্যের উত্তাপ বাড়ে। পবিত্র মাহে রমজানে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের চাহিদা বাড়ে। এক শ্রেণির সুযোগসন্ধানী কালোবাজারি, মজুদদার ও মুনাফাখোর ব্যবসায়ী পণ্য মজুদ রেখে বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে। মানুষের অযাচিত হস্তক্ষেপ থেকে বাজারপ্রক্রিয়াকে রক্ষার জন্য ইসলাম মজুদদারি, মুনাফাখোরি ও প্রতারণা নিষিদ্ধ করেছে। অধিক মুনাফার প্রত্যাশায় পণ্য মজুদ করাকে ইসলাম অবৈধ ঘোষণা করেছে। হানাফি মাজহাব মতে, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য মজুদ করা মাকরুহ তাহরিমি (হারাম সমতুল্য)। অন্য মাজহাব মতে এটি হারাম। কেননা এর ফলে সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা হ্রাস পায় এবং বহু মানুষ দুর্ভোগে পতিত হয়। এ প্রসঙ্গে মহানবী (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি ৪০ দিনের খাবার মজুদ রাখে, সে আল্লাহপ্রদত্ত নিরাপত্তা থেকে বেরিয়ে যায়।’ (মুসান্নাফে ইবনে আবি শায়বা, হাদিস : ২০৩৯৬)। আল্লামা ইবনে হাজর হাইতামি (রহ.) গুদামজাত করে মূল্যবৃদ্ধি করাকে কবিরা গুনাহ বলে উল্লেখ করেছেন। (নিহায়াতুল মুহতাজ : ৩/৪৫৬)

সাধারণ ভোক্তাদের জিম্মি করে বিত্তশালী হয়ে গেলেও কোনো লাভ নেই। এ সম্পদ দুনিয়ার জীবনেই অভিশাপ হয়ে দাঁড়াবে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘কেউ যদি খাদ্য গুদামজাত করে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে, আল্লাহ তাকে দুরারোগ্য ব্যাধি ও দারিদ্র্য দ্বারা শাস্তি দেন।’ (ইবনে মাজাহ, হাদিস : ২২৩৮)

মজুদদারি না করে সৎ নিয়তে ব্যবসা করা ইবাদত। এমন ব্যক্তির উপার্জন আল্লাহ তাআলা বরকতময় করে দেন। তাঁকে অপ্রত্যাশিত রিজিক দেন। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘খাঁটি ব্যবসায়ী রিজিকপ্রাপ্ত হয় আর পণ্য মজুদকারী অভিশপ্ত হয়।’ (ইবনে মাজাহ, হাদিস : ২১৫৩)

মহানবী (সা.) মানুষের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার জন্য মদিনায় ইসলামসম্মত বাজার প্রতিষ্ঠা করেছেন। বনু কায়নুকা গোত্রের ওই বাজার পরিচালনার দায়িত্ব তিনি নিজেই নিয়েছিলেন। এ বাজারটির বৈশিষ্ট্য ছিল—সেখানে কোনো ধরনের প্রতারণা, ঠকবাজি, ওজনে কম করা বা পণ্যদ্রব্য মজুদ করে মূল্যবৃদ্ধি করে জনগণকে কষ্ট দেওয়ার সুযোগ ছিল না। মহানবী (সা.) একদিন এক বিক্রেতার খাদ্যের স্তূপের সামনে দিয়ে যাচ্ছিলেন। তিনি তাঁর হাত ওই খাদ্যের স্তূপে প্রবেশ করান। এতে তাঁর হাত ভিজে যায়। তিনি অনুপযুক্ত (ভেজাল) খাদ্যের সন্ধান পান। তখন রাসুল (সা.) ইরশাদ করেন, ‘যে ব্যক্তি কাউকে ধোঁকা দেয় সে আমার উম্মত নয়।’ (মুসলিম শরিফ, হাদিস : ১০২)

বাংলাদেশে রমজানকে কেন্দ্র করে অসাধু ব্যবসায়ীদের দৌরাত্ম্য রোধ করতে শক্তিশালী রাষ্ট্রীয় মনিটরিং সেল গঠনের বিকল্প নেই।

লেখক : সিইও, সেন্টার ফর ইসলামিক ইকোনমিকস বাংলাদেশ, বসুন্ধরা, ঢাকা।



মন্তব্য