kalerkantho


চার মহাসড়কে যানজটে নাকাল মানুষ

►মেঘনা সেতু এলাকায় দুর্ভোগ
►সফিপুর বাজার পার হতেই দেড় ঘণ্টা

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১৯ মে, ২০১৮ ০০:০০



চার মহাসড়কে যানজটে নাকাল মানুষ

ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের গাজীপুরের কালিয়াকৈরের সফিপুর বাজার এলাকা গতকাল শুধু নয়, প্রতিদিনই এভাবে যানজটে স্থবির হয়ে থাকে। ছবি : কালের কণ্ঠ

রোজার প্রথম দিন গতকাল শুক্রবার দেশের গুরুত্বপূর্ণ চার মহাসড়কে তীব্র যানজটের কবলে পড়ে মানুষ। এর মধ্যে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া অংশে ১৩ কিলোমিটার যানজট সৃষ্টি হয়। ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের গাজীপুরের কালিয়াকৈরের সফিপুর বাজার অতিক্রম করতে সময় লেগে যায় এক থেকে দেড় ঘণ্টা। ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের হবিগঞ্জের মাধবপুরে গতকাল সৃষ্টি হয় সাত কিলোমিটার যানজট। দৌলতদিয়া-খুলনা মহাসড়ক এলাকার দৌলতদিয়া ঘাটেও দীর্ঘ যানজটে আটকা পড়ে নাকাল হয় মানুষ। আমাদের প্রতিনিধিদের পাঠানো সংবাদ—

মুন্সীগঞ্জ : ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ঢাকামুখী গজারিয়া অংশে মেঘনা সেতু থেকে ভবেরচর পর্যন্ত ১৩ কিলোমিটার অংশে যানজট তৈরি হয়। গতকাল ভোর থেকে এই যানজটের সৃষ্টি হয়। এর ফলে ঢাকা অভিমুখী পণ্যবাহী ট্রাক আটকা পড়ায় বিপুল ক্ষতির মুখে পড়ে ব্যবসায়ীরা। যাত্রী ও পরিবহন শ্রমিকরা মারাত্মক দুর্ভোগ পোহায়। তবে এই মহাসড়কের ঢাকা থেকে চট্টগ্রামমুখী অংশে কোনো যানজট ছিল না। দুই দিন আগেও গজারিয়ার অদূরে কুমিল্লার দাউদকান্দিতে মহাসড়কের উভয় পাশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়েছিল। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গতকাল ওই অংশে কোনো যানজট ছিল না।

মহাসড়কে মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া অংশে অতিরিক্ত গাড়ির চাপে এমন যানজটের সৃষ্টি হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। এর মধ্যে পণ্যবাহী যানবাহনই বেশি। রোজা শুরুর প্রথম দিনে মহাসড়কে যানজট দেখা দেওয়ায় যাত্রীসাধারণ চরম ভোগান্তির শিকার হয়। ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানজটে আটকে থেকে বিরক্ত ও অধৈর্য হয়ে পড়ে যাত্রীরা। আটকে পড়া যানবাহনের মধ্যে পণ্যবাহী ট্রাক, প্রাইভেট কার ও যাত্রীবাহী বাসের সংখ্যাই ছিল বেশি। তবে ঢাকামুখী গাড়ির চাপ বেশি থাকায় মহাসড়কের  এই অংশে ছিল যানজটে ঠাসা। কিন্তু মহাসড়কের চট্টগ্রামমুখী অংশে তেমন যানজট ছিল না।

ভবেরচর হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. আলমগীর হোসেন জানান, অতিরিক্ত গাড়িই যানজটের প্রধান কারণ। যানবাহনের ৯৯ শতাংশ পণ্যবাহী। যানজট নিরসনে হাইওয়ে পুলিশ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

কালিয়াকৈর (গাজীপুর) : ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের গাজীপুরের কালিয়াকৈরের সবচেয়ে ব্যস্ততম এলাকা সফিপুর বাজার। এ বাজারের ওপর দিয়ে রাজধানী থেকে উত্তরবঙ্গ ও সাভারগামী  যানবাহনসহ স্থানীয় প্রায় ১০টি আঞ্চলিক সড়কের শত শত যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উদাসীনতা, ব্যাটারি ও সিএনজিচালিত অটোরিকশা, ইজি বাইক চলাচল, যত্রতত্র গাড়ি পার্কিং, সড়কের ওপর ভাসমান দোকানপাট এবং আঞ্চলিক সড়কগুলোর মোড়ে সিএনজিচালিত অটোরিকশার স্ট্যান্ড থাকার কারণে নিত্যদিন এই যানজট লেগে থাকে। এর ফলে এক কিলোমিটার সড়ক (সফিপুর বাজার) অতিক্রম করতে সময় লাগে এক থেকে দেড় ঘণ্টা। তবে এই যানজট নিরসনে পুলিশের কোনো মাথাব্যথা নেই। সফিপুর বাজারের কিছু দূরে মৌচাক পুলিশ ফাঁড়ি থাকলেও তারা কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না।

যাত্রীবাহী বাসের চালক আয়নাল মিয়া বলেন, ‘আগে যানজটে আটকা পড়তাম কোনাবাড়ীতে। এখন সফিপুরেও প্রচণ্ড যানজট হয়। সফিপুর মানেই এক ঘণ্টা দেরি।’ তিনি যানজটের জন্য কিছু যানবাহনের চালককে দোষারোপ করেন। নজরুল ইসলাম নামের এক যাত্রী বলেন, সফিপুর বাজার এলাকায় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কোনো ভূমিকা না থাকায় এ যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে।

সালনা কোনাবাড়ী হাইওয়ে থানা পুলিশের ওসি বাসুদেব সিনহা বলেন, ‘চন্দ্রা ও কোনাবাড়ী এলাকার যানজট নিরসনে আমাদের ব্যস্ত থাকতে হয়। জনবল কম থাকাতে সফিপুর বাজার এলাকায় যানজট নিরসনে কাজ করা যাচ্ছে না।’

হবিগঞ্জ : জেলার মাধবপুর উপজেলার আন্দিউড়ায় পাথরবোঝাই ট্রাক ও মোরগবোঝাই পিকআপ ভ্যানের মুখোমুুখি সংঘর্ষের ঘটনায় গতকাল সকাল থেকে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে তিন ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ থাকে। এর ফলে উভয় দিকে প্রায় সাত কিলোমিটার যানজট সৃষ্টি হয়।

শায়েস্তাগঞ্জ হাইওয়ে থানার ওসি মো. জসিম উদ্দিন খন্দকার জানান, গতকাল সকালে সিলেট থেকে ঢাকামুখী মালামালবোঝাই একটি ট্রাক এবং ঢাকা থেকে সিলেটমুখী একটি পিকআপ ভ্যানের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এ সময় মুরগির গাড়িটি পার্শ্ববর্তী খাদে গিয়ে পড়ে আর ট্রাকটি রাস্তায় উল্টে যায়। এতে উভয় গাড়িতে থাকা দুজন আহত হয়। এ সময় ট্রাকটির মালামাল রাস্তায় পড়ে থাকায় দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে যান চলাচল স্বাভাবিক করে। দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হওয়ায় উভয় দিক থেকে আসা কয়েক শ গাড়ি রাস্তায় আটকে পড়লে যাত্রীরা পড়ে চরম দুর্ভোগে।

গোয়ালন্দ (রাজবাড়ী) : গত ১১ মে থেকে টানা সাত দিন দৌলতদিয়া ঘাট এলাকায় কোনো যানজট ছিল না। তখন ছোট-বড় মিলিয়ে মোট ১৭টি ফেরি সার্বক্ষণিক সচল রেখে ঘাটে আসা গাড়িগুলো দ্রুত পারাপার করা হয়। কিন্তু গত বৃহস্পতিবার রাত থেকে হঠাৎ গাড়ির চাপ বৃদ্ধি ও ফেরি সংকট সৃষ্টি হওয়ায় দৌলতদিয়া ঘাটে ফের দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হয়েছে। গতকাল দুপুরে দেখা যায়, ফেরিঘাটের জিরো পয়েন্ট থেকে দৌলতদিয়া-খুলনা মহাসড়কের ইউনিয়ন বোর্ড পর্যন্ত চার কিলোমিটার রাস্তার এক পাশে ঢাকাগামী পণ্যবাহী ট্রাক ও কাভার্ড ভ্যান, অন্য পাশে সাইনবোর্ড পর্যন্ত এক কিলোমিটার রাস্তায় বাসের দীর্ঘ সারি।

বিআইডাব্লিউটিসির দৌলতদিয়া ঘাট অফিস সূত্র জানায়, ব্যস্ততম এই নৌপথে কমপক্ষে ১০টি রো রো (বড়) ফেরি সার্বক্ষণিক সচল রাখা প্রয়োজন। কিন্তু বর্তমানে সেখানে বড় ফেরি রয়েছে মাত্র আটটি। এর মধ্যে ইঞ্জিন সমস্যার কারণে বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান ও খানজাহান আলী ফেরি দুটি বিকল হয়ে আছে।

বিআইডাব্লিউটিসির দৌলতদিয়া ঘাট ম্যানেজার মো. খোরশেদ আলম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে কালের কণ্ঠকে বলেন, ফেরি সংকটের পাশাপাশি ঢাকাগামী বিভিন্ন গাড়ির চাপ বেড়ে যাওয়ায় দৌলতদিয়া ঘাটে এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

 

 



মন্তব্য