kalerkantho


অর্থ জালিয়াতির মামলার চার্জশিটে জালিয়াতি!

নীলফামারীতে গ্রেপ্তার ৩

নীলফামারী প্রতিনিধি   

২৪ এপ্রিল, ২০১৮ ০০:০০



অর্থ জালিয়াতির মামলার চার্জশিটে জালিয়াতি!

নীলফামারীর প্রধান ডাকঘরের অর্থ আত্মসাৎ মামলার অভিযোগপত্র (চার্জশিট) নিয়ে জালিয়াতি হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, ওই মামলায় দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) যে অভিযোগপত্র দেয়, তা সরিয়ে মামলার নথিতে ভুয়া অভিযোগপত্র সংযোজন করা হয়েছিল।

এ অভিযোগে জেলা জজ আদালতের দায়রা সহকারী মো. ইসমাইল হোসেনসহ (৩৩) তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্য দুজন হলেন ওই মামলার আসামি ও প্রধান ডাকঘরের তৎকালীন কর্মচারী তছলিম উদ্দিন (৬৫) ও নীলফামারী জজ আদালতের আইনজীবী সহকারী আবুল কাশেম (৬০)।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, অর্থ আত্মসাতের ঘটনাটি ঘটে ২০০৫ সালে। নীলফামারীর প্রধান ডাকঘরের সঞ্চয় ব্যাংকের চার কোটি ৩২ লাখ টাকা জালিয়াতি হয়। এ ঘটনায় মামলা হয় দুটি। পরে মামলা দুটি তদন্তের দায়িত্ব পায় দুদক।

দুদক ২০১৬ সালের আগস্টে পাঁচজনের নামে অভিযোগপত্র দাখিল করে। কিন্তু জেলা জজ আদালতের দায়রা সহকারী মো. ইসমাইল হোসেন গ্রহণ খাতায় অভিযোগপত্র দাখিল হিসেবে দেখান তার প্রায় দুই মাস পর (৩১ অক্টোবর)। এর মধ্যে তিনি মূল অভিযোগপত্র সরিয়ে ভুয়া অভিযোগপত্র মামলার নথিতে যুক্ত করেন। আর ভুয়া অভিযোগপত্রে  পাঁচজনের মধ্যে দুজনের নাম বাদ দেওয়া হয়।

এরপর ২০১৭ সালের ৬ মার্চ আদালতে মামলা দুটির শুনানি শুরু হলে অভিযোগপত্রের গরমিলের বিষয়টি সামনে আসে। তখন আদালত বিষয়টি যাচাই করতে দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয় দিনাজপুরের উপপরিচালক বরাবর পাঠানোর আদেশ দেন। যাচাইয়ে ভুয়া অভিযোগপত্র সংযোজনের বিষয়টি প্রমাণিত হয়।

নীলফামারী সদর থানার ওসি বাবুল আকতার জানান, অভিযোগপত্র জালিয়াতির ঘটনায় জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেসির ভারপ্রাপ্ত নাজির সোহেল শাহ বাদী হয়ে গত ১৯ এপ্রিল একটি মামলা করেন। ওই মামলায় গতকাল সোমবার ইসমাইল হোসেন, আবুল কাশেম ও তছলিম উদ্দিনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তছলিম উদ্দিন অর্থ আত্মসাৎ মামলারও আসামি। ইসমাইল হোসেন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন বলেও জানান ওসি।



মন্তব্য