kalerkantho


সু চির ঘনিষ্ঠ মিয়ানমারের প্রেসিডেন্টের পদত্যাগ

কূটনৈতিক প্রতিবেদক   

২২ মার্চ, ২০১৮ ০০:০০



সু চির ঘনিষ্ঠ মিয়ানমারের প্রেসিডেন্টের পদত্যাগ

রোহিঙ্গা ইস্যুতে মিয়ানমার নিয়ে অব্যাহত বৈশ্বিক সমালোচনার মধ্যে গতকাল বুধবার পদত্যাগ করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট তিন কিয়াও। স্টেট কাউন্সেলর অং সান সু চি অস্ট্রেলিয়া সফর শেষে গতকালই দেশে ফেরার পরপরই তিন কিয়াও পদত্যাগ করেন। সু চির অত্যন্ত ঘনিষ্ঠজন ও আস্থাভাজন হিসেবে পরিচিত কিয়াওয়ের আকস্মিক পদত্যাগের ফলে সংবিধান অনুযায়ী দেশটিকে আগামী সাত কর্মদিবসের মধ্যে নতুন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন করতে হবে। ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট হিসেবে এরই মধ্যে দায়িত্ব নিয়েছেন সাবেক লেফটেন্যান্ট জেনারেল ও ভাইস প্রেসিডেন্ট-১ মিন্ট সুয়ে।

এদিকে প্রেসিডেন্টের পদত্যাগের পর মিয়ানমার পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষের স্পিকার উইন মিন্টও পদত্যাগ করেছেন। ইরাবতী পত্রিকার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রেসিডেন্টের পরপরই স্পিকারের পদত্যাগের খবরে গুঞ্জন রয়েছে যে সু চির আরেক ঘনিষ্ঠ উইন মিন্টই নতুন প্রেসিডেন্ট হতে যাচ্ছেন।

ইরাবতী পত্রিকার অনলাইনে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তিন কিয়াও এক ফেসবুক বার্তায় তাঁর পদত্যাগের কথা জানিয়েছেন। তিনি এর কারণ হিসেবে বিশ্রাম নেওয়ার কথা বলেছেন।

২০১৬ সালে ব্যাপক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে অং সান সু চির দল ন্যাশনাল লীগ ফর ডেমোক্রেসি সরকার গঠনের পর তিন কিয়াও ছিলেন দেশটির পার্লামেন্ট নির্বাচিত প্রথম প্রেসিডেন্ট। তবে মৃদুভাষী এই ব্যক্তিকে সমালোচকরা ডাকতেন ‘পুতুল প্রেসিডেন্ট’ নামে। সংবিধান অনুযায়ী তিনি মিয়ানমারের রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করলেও বাস্তবে তাঁর কতটা ক্ষমতা ছিল বা কাজে লাগাতে পেরেছেন তা নিয়ে জোরালো প্রশ্ন আছে। কারণ সু চি নির্বাচনী প্রচারণার সময়ই জানতেন যে বিদেশি বিয়ে করায় তিনি মিয়ানমারের প্রেসিডেন্ট হতে পারবেন না। সে সময়ই সু চি নিজেকে প্রেসিডেন্ট পদের ঊর্ধ্বে রাখার ঘোষণা দিয়েছিলেন।

তিন কিয়াওয়ের অসুস্থতার খবর মিয়ানমারে গোপন কিছু নয়। স্বাস্থ্যগত সমস্যার কারণে তিনি গত বছর থেকে রাষ্ট্রীয় অনেক আনুষ্ঠানিকতায় অংশ নেওয়া থেকে বিরত থেকেছেন। এ ছাড়া তিনি বিদেশে চিকিৎসাও নিয়েছেন। এদিক থেকে তিন কিয়াওয়ের পদত্যাগ আকস্মিক হলেও অপ্রত্যাশিত ছিল না। বিশেষ করে, পদত্যাগের আগেই প্রেসিডেন্ট ভবন থেকে তাঁর ব্যক্তিগত মালপত্র নিজ বাড়িতে স্থানান্তরের বিষয়টি সরকারি কর্মচারীরা জানতেন।

কিয়াওয়ের অসুস্থতার খবরটি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনায় আসে গত বছর সেপ্টেম্বর মাসে সু চির নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ অধিবেশন বর্জনকে কেন্দ্র করে। ইরাবতীর প্রতিবেদনেই বলা হয়েছিল, সু চি সে সময় মিয়ানমারে জরুরি অবস্থা জারির আশঙ্কায় দেশ ছাড়েননি। কারণ প্রেসিডেন্ট কিয়াও তখন অসুস্থতার কারণে বিদেশে চিকিৎসা নিচ্ছিলেন। অন্যদিকে রাখাইন রাজ্যে কথিত জঙ্গি হামলার পরিপ্রেক্ষিতে সেনাবাহিনী দেশে জরুরি অবস্থা জারির জন্য চাপ দিচ্ছিল এবং সু চি এর বিরোধী ছিলেন। সু চি সে সময় নেপিডো ছেড়ে নিউ ইয়র্কে গেলে ভাইস প্রেসিডেন্ট-১ মিন্ট সুয়েকে দায়িত্ব দিয়ে যেতে হতো। সাবেক শীর্ষ ওই সেনা কর্মকর্তাকে সু চি বিশ্বাস করেননি।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর বিশ্লেষণে বলা হচ্ছে, খুব নাটকীয় কিছু না ঘটলে সু চি মনোনীত ব্যক্তিই মিয়ানমারের পরবর্তী প্রেসিডেন্ট হতে যাচ্ছেন। তবে কয়েক দশক ধরে ক্ষমতার কেন্দ্রে থাকা মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী এখন আবার এ ক্ষেত্রে নতুন করে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করে কি না সেদিকে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টি আছে। গত কয়েক মাসে মিয়ানমারে নতুন করে সামরিক জান্তার উত্থানের ঝুঁকিও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় উড়িয়ে দেয়নি।

এদিকে অস্ট্রেলিয়া সফরে রোহিঙ্গা ইস্যুতে প্রবল চাপের মুখে পড়ে সহযোগিতা চাওয়া সু চির জন্য আগামী মাসগুলোতে আরো চাপ অপেক্ষা করছে। ব্রিটিশ পার্লামেন্টের আন্তর্জাতিক উন্নয়নবিষয়ক কমিটি গত মঙ্গলবার এক বৈঠকে লন্ডনে আগামী মাসে অনুষ্ঠেয় কমনওয়েলথের সরকারপ্রধান পর্যায়ের সম্মেলনে রোহিঙ্গা সংকটকে অগ্রাধিকারমূলক ইস্যু হিসেবে গ্রহণ করতে যুক্তরাজ্যের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে। ঢাকাস্থ পশ্চিমা কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, রোহিঙ্গা ইস্যুতে মিয়ানমারের ওপর চাপ বাড়ানোর সর্বাত্মক চেষ্টা চলছে।

 

 

 



মন্তব্য