kalerkantho


খালেদার জামিন ৮ মে পর্যন্ত স্থগিত, মুক্তির দাবিতে কর্মসূচি

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২০ মার্চ, ২০১৮ ০০:০০



খালেদার জামিন ৮ মে পর্যন্ত স্থগিত, মুক্তির দাবিতে কর্মসূচি

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে হাইকোর্টের দেওয়া জামিন ৮ মে পর্যন্ত স্থগিত করেছেন আপিল বিভাগ। একই সঙ্গে হাইকোর্টের জামিন আদেশের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও রাষ্ট্রপক্ষের আপিল শুনানির দিন আগামী ৮ মে ধার্য করা হয়েছে। প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বে আপিল বিভাগের চার বিচারপতির বেঞ্চ গতকাল সোমবার সর্বসম্মতভাবে এ আদেশ দিয়েছেন। এর ফলে এ সময়ের মধ্যে কারাগার থেকে মুক্তি পাচ্ছেন না খালেদা জিয়া।

আদালত ওই আদেশ দেওয়ার পর দুপুরে রাজধানীর ফকিরাপুল এলাকায় তাৎক্ষণিক বিক্ষোভ ও ঝটিকা মিছিল করেছে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল। বিএনপিপন্থী কয়েকজন আইনজীবী সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি ভবন থেকে মিছিল বের করেন। খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে দুই দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বিএনপি। কর্মসূচির মধ্যে আছে ২০ মার্চ সারা দেশে বিক্ষোভ এবং ২৯ মার্চ সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জনসভা।

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন, খালেদা জিয়ার জামিন স্থগিতের আদেশে সরকারের ইচ্ছাই প্রতিফলিত হয়েছে। গতকাল আপিল বিভাগ আদেশ দেওয়ার আড়াই ঘণ্টা পর বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ফখরুল বলেন, ‘ক্ষোভের সঙ্গে বলছি, এই আদেশে সরকারের যে ইচ্ছা, সেই ইচ্ছাই প্রতিফলিত হয়েছে।’

হাইকোর্টের জামিন আদেশের বিরুদ্ধে দুদক ও রাষ্ট্রপক্ষকে লিভ টু আপিল বা আপিল করার অনুমতির আবেদন মঞ্জুর করে গতকাল আদেশ দেন দেশের সর্বোচ্চ আদালত। এতে দুই সপ্তাহের মধ্যে আপিলের সারসংক্ষেপ এবং ৭ মের মধ্যে পেপারবুক জমা দিতে দুদক ও রাষ্ট্রপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দুদক ও রাষ্ট্রপক্ষের সারসংক্ষেপ জমা দেওয়ার পরবর্তী দুই সপ্তাহের মধ্যে খালেদা জিয়ার আইনজীবীদের তাঁদের বক্তব্যের সারসংক্ষেপ দিতে বলা হয়েছে। দুদক ও রাষ্ট্রপক্ষের আপিল আগামী ৮ মে কার্যতালিকার শীর্ষে থাকবে বলে আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে।

আদালত প্রথমে ২২ মে শুনানির দিন ধার্য করলেও খালেদা জিয়ার আইনজীবীদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তা এগিয়ে ৮ মে করা হয়। এর পরও শুনানির দিন ১২ এপ্রিলের আগে ধার্য করার জন্য খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা আরেক দফা চেষ্টা করেন, তবে তাঁরা সফল হননি।

আদেশের পর দুদকের আইনজীবী খুরশীদ আলম খান সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, ‘আমরা আপিল করার অনুমতি পেয়েছি। এখন হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে আপিল দাখিল করা হবে। এ আপিলের ওপর শুনানিতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করব। জামিনের জোরালো বিরোধিতা করা হবে।’

রাষ্ট্রপক্ষে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেন, নিম্ন আদালতের নথি পর্যালোচনা করেই আদেশ দিয়েছেন আপিল বিভাগ। এখন আপিল করা হবে। এ আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত খালেদা জিয়া কারাগার থেকে মুক্তি পাচ্ছেন না। তিনি বলেন, ‘অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণের পরও নিম্ন আদালত খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছরের জেল দিয়ে অনেক মহানুভবতার পরিচয় দিয়েছেন। অথচ হাইকোর্ট তা বিবেচনায় না নিয়েই জামিন দিয়েছেন, যা সঠিক হয়নি বলে আমরা মনে করি।’ তিনি আরো বলেন, আপিল বিভাগের আদেশ নিয়ে খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা যে বক্তব্য দিয়েছেন, তা রাজনৈতিক বক্তব্য। আদেশের বিষয়টি রাজনীতিকরণ করার চেষ্টা করছেন তাঁরা।

খালেদা জিয়ার আইনজীবী ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেন, ‘আপিল বিভাগের এ আদেশ কিছুটা নজিরবিহীন। পাঁচ বছরের সাজার ক্ষেত্রে হাইকোর্টের জামিনের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগের এ ধরনের আদেশ কখনো শুনিনি, প্রত্যাশাও করিনি।’

আরেক আইনজীবী অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন বলেন, ‘এ আদেশ অনভিপ্রেত। এই আদেশকে নজিরবিহীন বলতে বাধ্য হচ্ছি। কারণ অতীতে এজাতীয় আদেশ কখনো দেননি আপিল বিভাগ।’ তিনি বলেন, নিম্ন আদালতকে সরকার গ্রাস করে ফেলছে। এখন উচ্চ আদালতকে ধীরে ধীরে গ্রাস করার চেষ্টা করছে। সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি জয়নুল আবেদীন আরো বলেন, এজাতীয় আদেশের ফলে বিচারপ্রার্থী মানুষরা আশাহত হলে বিচার বিভাগের ওপর জনগণের আস্থা থাকবে না।

গত ১২ মার্চ হাইকোর্ট খালেদা জিয়াকে চার মাসের জামিন দেন। ওই জামিন আদেশের বিরুদ্ধে দুদক ও রাষ্ট্রপক্ষ নিয়মিত লিভ টু আপিল আবেদন করে। জামিন স্থগিতের আদেশ প্রত্যাহারের জন্য খালেদা জিয়ার পক্ষে আবেদন দাখিল করা হয়। ওই তিনটি আবেদনের ওপর একসঙ্গে শুনানি হয় গত রবিবার। গতকাল এ বিষয়ে আদেশের জন্য দিন ধার্য ছিল।

গতকাল সকাল ৯টা ১৮ মিনিটে চার বিচারপতি এজলাসে বসার পর প্রধান বিচারপতি আদেশ ঘোষণা করেন। আদেশ শুনে খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা স্তব্ধ হয়ে যান। আদেশ শেষ হলে কার্যতালিকায় ৪ নম্বরে থাকা মামলার শুনানি শুরু হয়। তখনো সামনের সারিতে চুপচাপ বসেছিলেন খালেদা জিয়ার সিনিয়র আইনজীবীরা। তাঁদের পেছনে থাকা অপেক্ষাকৃত কনিষ্ঠ আইনজীবী ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন, ব্যারিস্টার নওশাদ জামির, ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, ব্যারিস্টার মীর হেলালউদ্দিন সিনিয়র আইনজীবীদের আদালতে কিছু বলার জন্য চাপ দিতে থাকেন। কিন্তু সিনিয়র আইনজীবীরা কিছু বলতে নারাজ। এরই মধ্যে ৪ নম্বর মামলার শুনানি শেষে আদালত আদেশ দেন। এরপর জয়নুল আবেদীন দাঁড়িয়ে আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, ‘আমি দুঃখিত, আপনারা যে আদেশ দিয়েছেন, তা বুঝতে পারিনি।’

জবাবে প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘আমরা সর্বসম্মত আদেশ দিয়েছি।’

জয়নুল আবেদীন বলেন, ‘এটা শুনতে আসিনি। কী কারণে, কোন যুক্তিতে লিভ টু আপিল আবেদন গ্রহণ করা হলো, সে বিষয়ে যথাযথ আদেশ শুনতে চাই।’

প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘আমরা নিম্ন আদালতের রায়সহ যাবতীয় নথি পর্যালোচনা করেই আদেশ দিয়েছি।’

একপর্যায়ে মাহবুব উদ্দিন খোকন বলেন, দুদক ও সরকার একাকার হয়ে গেছে। খালেদা জিয়া যাতে নির্বাচন করতে না পারেন, সে জন্য সরকারের উদ্দেশ্য এই আদেশের মাধ্যমে সফল হলো।

এরপর জয়নুল আবেদীন আদেশ সংশোধনের জন্য আদালতকে বারবার অনুরোধ জানাতে থাকেন। তিনি আগামী ১২ এপ্রিলের আগেই শুনানির দিন ধার্য করার আবেদন জানান। তখন আদালত আগের আদেশ সংশোধন করে ৮ মে পর্যন্ত জামিন স্থগিত করেন। ৮ মে শুনানির দিন ধার্য করে আদালত বলেন, ‘এদিন শুনানি সম্পন্ন না হলেও পরদিন ৯ মের মধ্যে এ মামলা নিষ্পত্তি করা হবে এ নিশ্চয়তা দিচ্ছি।’ আদালতের ওই আদেশ শুনে বিএনপিপন্থী কিছু আইনজীবী কেঁদে ফেলেন। ওই সময় বিএনপির মহাসচিব সেখানে উপস্থিত ছিলেন।

বিএনপিপন্থী আইনজীবীরা আদালতকক্ষ থেকে বেরিয়ে আইনজীবী সমিতি ভবনে যান। কিছুক্ষণ পর কয়েকজন আইনজীবী মিছিল বের করেন। তাঁরা গ্যাংওয়ে দিয়ে সুপ্রিম কোর্টের মূল ভবনের দিকে এগোলে গেটে তাঁদের আটকে দেওয়া হয়। ফলে ওই আইনজীবীরা মিছিল নিয়ে ফিরে যান। এরপর সিনিয়র আইনজীবীরা সমিতি ভবনে সভাপতির কক্ষে জরুরি বৈঠকে বসেন। বৈঠক শেষে তাঁরা আবার আদালতে ফিরে যান। ১১টা ৪০ মিনিটে বিচারপতিরা এজলাসে বসার পরই ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার আদালতে বলেন, ‘আমি সর্বাত্মক ক্ষমা চাচ্ছি। সকালে যে আদেশ দিয়েছেন তা প্রত্যাহার করে ১২ এপ্রিলের আগে শুনানির জন্য বিনীতভাবে নিবেদন জানাচ্ছি।’

জবাবে প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘আমরা সর্বসম্মতভাবে আদেশ দিয়েছি। ছুটির পরেই ৮ মে রাখা হয়েছে। ওই দিন তালিকার শীর্ষে থাকবে।’

ওই সময় জমির উদ্দিন সরকার বলেন, ‘ফল কী হবে, সেটা নিয়ে কিছু বলার নেই। তবে আপনাদের কাছে করজোড়ে নিবেদন করছি, ১২ এপ্রিলের আগে দিন নির্ধারণ করতে।’ তিনি বারবার অনুরোধ জানাতে থাকেন।

তখন প্রধান বিচারপতি আপিল বিভাগের অন্য বিচারপতিদের সঙ্গে পরামর্শ করেন। এরপর তিনি বলেন, ‘আগেই আমরা সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত দিয়েছি। আপনাদের অনুরোধে শুনানি এগিয়ে এনে আদেশ দিয়েছি। এখন আর এটা পরিবর্তন করা সম্ভব নয়।’  

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫ গত ৮ ফেব্রুয়ারি খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেন। ২০ ফেব্রুয়ারি আপিল আবেদন দাখিল করেন খালেদা জিয়া। গত ২২ ফেব্রুয়ারি সেটি গ্রহণ করেন হাইকোর্ট। পরে চার যুক্তিতে গত ১২ মার্চ চার মাসের জামিন দেন।

‘কফিনের শেষ পেরেক’ : সর্বোচ্চ আদালতে খালেদা জিয়ার জামিন স্থগিতের আদেশে সরকারের ইচ্ছাই প্রতিফলিত হয়েছে বলে মনে করছে বিএনপি। গতকাল আপিল বিভাগ আদেশ দেওয়ার পর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন।

ফখরুল বলেন, ‘মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষার স্থল সর্বোচ্চ আদালত থেকে আমরা ন্যায় থেকে বঞ্চিত হয়েছি, খালেদা জিয়া বঞ্চিত হয়েছেন। দেশনেত্রীকে এভাবে বন্দি করে রাখার একটাই উদ্দেশ্য—গণতন্ত্রকে চূড়ান্তভাবে কবর দিয়ে দেওয়া। চালু একটি কথা আছে, কফিনের শেষ পেরেকটি মেরে দেওয়া। কফিনে শেষ পেরেকটি মারা হয়েছে আজকে। আওয়ামী লীগ সরকার বিচার বিভাগের ওপর ভর করে, ব্যবহার করে এভাবে মানুষের অধিকারগুলোকে হরণ করে নিচ্ছে।’

খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য দেশের সব রাজনৈতিক দল, সামাজিক সংগঠন, গণতন্ত্রকামী মানুষকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানান মির্জা ফখরুল।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘খালেদা জিয়াকে কারাগারে দীর্ঘদিন রেখে দেওয়ার অর্থই হচ্ছে তাদের মতো করে একতরফা নির্বাচন দেখিয়ে আবার ক্ষমতায় চলে আসা। ক্ষমতাসীন দলের সাধারণ সম্পাদক এরই মধ্যে বলেছেন, এটা এখন আনুষ্ঠানিকতা মাত্র। এটা ডিসাইডেড, ডান।’

ফখরুল বলেন, ‘খুলনায় দলের ধর্মবিষয়ক সহসম্পাদক নজরুল ইসলাম বাবুকে তিন দিন আগে তুলে নেওয়ার পর এখনো তার খোঁজ নেই। কিছুদিন আগে তেজগাঁও ছাত্রদলের নেতা জাকির হোসেন মিলন যে মারা গেল তার পরিবারের ইন্টারভিউ করার জন্য গতকাল কোনো একটি বিদেশি সংবাদমাধ্যম চেষ্টা করেছিল; কিন্তু সেকেন্ডের মধ্যে সেখানে পুলিশ ঘিরে ফেলেছে। পরিবারের সদস্যরা সেখানে থাকতে পারেনি।’

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন দলের নেতা মির্জা আব্বাস, নজরুল ইসলাম খান, আবদুল আউয়াল মিন্টু, অধ্যাপক এ জেড এম জাহিদ হোসেন, আবদুস সালাম, রুহুল কবীর রিজভী, খায়রুল কবীর খোকন প্রমুখ।

ছাত্রদলের ঝটিকা মিছিল : আদালতের আদেশের পর গতকাল দুপুরে ফকিরাপুল এলাকায় তাৎক্ষণিক বিক্ষোভ মিছিল করে ছাত্রদলের ২৫-৩০ জন নেতাকর্মী। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, মিছিলটি ফকিরাপুল পানির ট্যাংকের সামনের সড়কে বের হয়। ওই সময় সংক্ষিপ্ত সমাবেশও করে তারা। ছাত্রদলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মামুনুর রশিদ মামুনের নেতৃত্বে ১০ মিনিট স্থায়ী মিছিল ও সমাবেশে অংশ নেন সংগঠনের সহসভাপতি ইখতিয়ার কবির, জয়দেব জয়, হুমায়ুন কবির, যুগ্ম সম্পাদক কাজী মোখতার হোসেন, মিয়া মো. রাসেল, মিজানুর রহমান, সাহিত্য ও প্রকাশনা সম্পাদক মিনহাজুল ইসলাম, সহসাধারণ সম্পাদক জহিরুল ইসলাম, সহসাংগঠনিক সম্পাদক আফরোজা খানম, পাঠাগার সম্পাদক মেহেদী হাসান, বৃত্তি ও ছাত্র কল্যাণ সম্পাদক কাজী রওনকুল ইসলাম প্রমুখ।



মন্তব্য