kalerkantho


নেতাকর্মীদের শেখ হাসিনা

উন্নত দেশ গড়তে সব ধরনের ত্যাগ স্বীকার করুন

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৯ মার্চ, ২০১৮ ০০:০০



উন্নত দেশ গড়তে সব ধরনের ত্যাগ স্বীকার করুন

বাংলাদেশকে উন্নত ও সমৃদ্ধ রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলতে সব ধরনের ত্যাগ স্বীকার করার জন্য দলীয় নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বেঁচে থাকলে স্বাধীনতার ১০ বছরের মধ্যে বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশে পরিণত হতো বলে বিশ্বাস করি।’

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মবার্ষিকী ও জাতীয় শিশু দিবস উপলক্ষে গতকাল রবিবার বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আওয়ামী লীগ আয়োজিত আলোচনাসভায় বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, ‘জাতির পিতার জন্মদিন উপলক্ষে আজ এটাই আমাদের প্রতিজ্ঞা হবে, আওয়ামী লীগের প্রতিটা নেতাকর্মী, যারা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শে বিশ্বাসী, নিজেদের জীবনের সব কিছু ত্যাগের বিনিময়ে হলেও এই দেশকে উন্নত ও  সমৃদ্ধ করে গড়ে তুলব, ইনশাআল্লাহ। আজকের দিনে সেই প্রতিজ্ঞাটাই আমরা নিচ্ছি।’

বর্তমান সরকারের টানা দুই মেয়াদ সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘২০১৪ সালে ক্ষমতায় আসতে পেরেছিলাম বলে মানুষ উন্নয়নের সুফল পাচ্ছে। উন্নয়নের ধারাবাহিকতা রক্ষা হয়েছে। যদি আমরা আসতে না পারতাম তাহলে সব কাজ নষ্ট করে দিত। যেটা ২০০১ সালে বিএনপি-জামায়াত জোট ক্ষমতায় আসার পর করেছিল।’

বাঙালির অধিকার প্রতিষ্ঠায় বঙ্গবন্ধুর সুদীর্ঘ সংগ্রামের চিত্র তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, ‘স্বাধীনতার পর মাত্র সাড়ে তিন বছরের মধ্যে সব শর্ত পূরণ করেই বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশকে স্বল্পোন্নত দেশের স্বীকৃতি অর্জনে সক্ষম হয়েছিলেন। সেখান থেকে আজ আমরা উন্নয়নশীল দেশের পথে আসতে পেরেছি। ৩৭ বছর পর এসে আমরা সেই কাজ করতে পারলাম। ’৭৫-এর ১৫ আগস্ট জাতির জীবনে না এলে এটা আমরা আরো আগেই করতে পারতাম। একাত্তরের পরাজিত শক্তি এ দেশকে ব্যর্থ করতে চেয়েছে।’

বিএনপি অ্যাডহক ভিত্তিতে কর্মসূচি নিয়েছে জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘দেশ এর সুফল পায়নি, তারা এর সুফল পেয়েছে। আমরা ক্ষমতায় এসেই বঙ্গবন্ধুর পদাঙ্ক অনুসরণ করে পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা নিই। সেই সঙ্গে একটা টার্গেট করলাম, ২০২০ সালে আমরা জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী এবং ২০২১ সালে স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী পালন করব। এর মধ্যে দেশটাকে একটা জায়গায় নিয়ে যেতে চাই। সেই লক্ষ্য সামনে নিয়েই আমরা প্যাকেজ পরিকল্পনা প্রণয়ন করলাম। আজ বাজেট চার গুণ বৃদ্ধি করেছি।’

তিনি বলেন, ‘মানুষের জন্য আন্তরিকতা নিয়ে কাজ করলে কাজ করা যায়, আমরা সেটা প্রমাণ করেছি। এরই মধ্যে জাতিসংঘ আমাদের স্বীকৃতি দিয়েছে। ৩৭ বছর সময় লাগল গ্র্যাজুয়েশন করতে। যারা এত দিন ঋণ নিতে গেলে নানা ধরনের শর্ত দিত সেটা এখন আর তারা করতে পারবে না। আজ আমরা উন্নয়নশীল দেশ আমাদের ঋণ পেতে কোনো সমস্যা হবে না, হয়তো একটু সুদ বেশি দিতে হবে। তাতে কিছু আসে যায় না, ওটুকু আমরা দিতে পারব।’

সরকারপ্রধান বলেন, ‘আজ ঋণ নেওয়া প্রজেক্ট নেওয়া সেই কাজ বাস্তবায়ন করে দেশকে দ্রুত উন্নয়নের পথে আরো এগিয়ে নিয়ে গিয়ে মূল টার্গেট ২০২১ সালে মধ্যম আয়ের দেশ এবং ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশ হবে উন্নত সমৃদ্ধ দেশ। সেই লক্ষ্য আমরা অর্জন করতে পারব।’ তিনি বলেন, ‘আজ জাতির পিতার জন্মদিনেই আমাদের সেই সুখবর এসেছে। বাংলাদেশ এখন উন্নয়নশীল দেশ। এর থেকে বড় প্রাপ্তি আর কিছু হতে পারে না।’

আগামী ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবস এবার একটু ভিন্ন আকারে বিস্তৃত পরিসরে উদ্যাপন করা হবে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এবারের স্বাধীনতা দিবস আমরা যথাযোগ্য মর্যাদার সঙ্গে ভিন্ন আঙ্গিকে করব। উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে মর্যাদার সঙ্গে স্বাধীনতা দিবস পালন করব। কারণ যারা মুক্তিযুদ্ধকালীন বলেছিল, বাংলাদেশ স্বাধীন হয়ে কী করবে। ওরা তো স্বাধীন হলে একটা বটমলেস বাসকেট হবে। আজ তাদের সেই জবাবটা আমরা দিয়ে দিয়েছি, বটমলেস বাসকেট না বাংলাদেশ আজ উন্নয়নশীল দেশ।’ তিনি বলেন, ‘পঁচাত্তরের খুনি এবং একাত্তরের দালালরা একই সূত্রে গাঁথা, একই বৃন্তের ফুল, এটা মাথায় রাখতে হবে। একাত্তরের পরাজিত শক্তি ও পঁচাত্তরের খুনিদের মধ্যে কোনো তফাত নেই।’

আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘বড় নেতারা মাঝেমধ্যে টালমাটাল হয়েছে; কিন্তু তৃণমূলের নেতারা সব সময় আমার পাশে ছিল। সব হারিয়ে দেশে ফিরে মানুষের ভালোবাসা পেয়েছি।’

আলোচনাসভায় অন্যদের মধ্যে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী, উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু ও বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী ও সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম, শিল্পী হাশেম খান, কথাসাহিত্যিক সেলিনা হোসেন প্রমুখ বক্তব্য দেন। সভা পরিচালনা করেন আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ।

 



মন্তব্য