kalerkantho


মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সাতজনের মধ্যে ছয়জন

রংপুরে খাদেম হত্যার দায়ে ৭ জঙ্গির মৃত্যুদণ্ড

ছয়জন খালাস

রংপুর অফিস   

১৯ মার্চ, ২০১৮ ০০:০০



রংপুরে খাদেম হত্যার দায়ে ৭ জঙ্গির মৃত্যুদণ্ড

রংপুরের কাউনিয়ায় মাজারের খাদেম রহমত আলী হত্যার দায়ে নব্য জেএমবির আঞ্চলিক কমান্ডার মাসুদ রানাসহ সাত জঙ্গির মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। সেই সঙ্গে প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

রংপুরের বিশেষ জজ আদালতের বিচারক নরেশ চন্দ্র সরকার গতকাল রবিবার দুপুরে আলোচিত ওই হত্যা মামলার রায় দেন। তবে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় জঙ্গি নেতা জাহাঙ্গীর আলম ওরফে রাজীব গান্ধীসহ ছয়জনকে খালাস দেওয়া হয়েছে।

মৃত্যুদণ্ড পাওয়া আসামিরা হলো নব্য জেএমবির রংপুর অঞ্চলের কমান্ডার ও পীরগাছা উপজেলার পশুয়া টাঙ্গাইলপাড়ার বাসিন্দা মাসুদ রানা ওরফে মামুন ওরফে মন্ত্রী (৩৩), ওই জঙ্গি সংগঠনের সদস্য ও একই এলাকার বাসিন্দা ইছাহাক আলী (৩৪), লিটন মিয়া ওরফে রফিক (৩২) ও চান্দু মিয়া (২০) এবং গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার হলদিয়ার চরের সাখাওয়াত হোসেন ওরফে রাহুল (৩০), গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জের বিজয় ওরফে আলী ওরফে দর্জি (৩০) ও দিনাজপুরের বিরামপুরের সরওয়ার হোসেন সাবু ওরফে মিজান (৩৩)। তাদের মধ্যে চান্দু মিয়া পলাতক এবং বাকিরা কারাবন্দি।

এই আসামিদের মধ্যে মাসুদ রানা, এছাহাক আলী, লিটন মিয়া ও সাখাওয়াত হোসেন আবার জাপানি নাগরিক কুনিও হোশি হত্যা মামলায়ও মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত। রংপুরেরই আদালত গত বছর কুনিও হোশি হত্যার মামলার রায় দিয়েছেন।

এদিকে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় খাদেম হত্যা মামলার আসামি জাহাঙ্গীর আলম ওরফে রাজীব গান্ধী, গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জের সাদাত ওরফে রতন মিয়া (২৩) ও তৌফিকুল ইসলাম সবুজ (৩৫), আবু সাঈদ (৩০), বাবুল আখতার ওরফে বাবুল মাস্টার (৩৫) এবং বগুড়ার শাজাহানপুরের নজিবুল ইসলাম মোল্লা ওরফে বাদল ওরফে বাঁধনকে (২৫) খালাস দেওয়া হয়েছে। তাদের মধ্যে নজিবুল ইসলাম পলাতক এবং বাকিরা কারাবন্দি ছিল।

রায় ঘোষণার আগে পলাতক দুই আসামি বাদে ১১ জনকে কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে আদালতে নেওয়া হয়।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী বিশেষ জজ আদালতের পিপি অ্যাডভোকেট রথীশ চন্দ্র ভৌমিক জানান, এই মামলায় বাদীসহ ৪৬ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে পলাতক এক জঙ্গিসহ সাতজনের ফাঁসির আদেশ দিয়েছেন বিচারক। রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘আমরা প্রত্যাশিত রায় পেয়েছি। এ রায়ের মাধ্যমে অন্য জঙ্গিরা ধর্মের নামে মানুষ হত্যার মতো অপরাধ থেকে বিরত থাকবে বলে আশা করছি।’

রায় ঘোষণার পর মামলার বাদী, নিহত খাদেম রহমত আলীর ছেলে অ্যাডভোকেট শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘ন্যায়বিচার  পেয়েছি। তবে সবার সাজা হওয়া উচিত ছিল।’

আর আসামিপক্ষে মামলা পরিচালনা করেন অ্যাডভোকেট আবুল হোসেনসহ কয়েকজন আইনজীবী। আসামিপক্ষের আইনজীবী আবুল হোসেন বলেন, ‘ন্যায্য বিচার হয়নি। এ রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করা হবে।’

আদালত সূত্রে জানা গেছে, খাদেম রহমত আলী পীরবাদে বিশ্বাসী ছিলেন। তাঁর বাড়ির কাছে তাঁর বাবা আব্দুস সাত্তারের নামে মাজার আছে। রহমত আলী ওই মাজারের খাদেম ছিলেন। এ ছাড়া তিনি ঢাকার কেরানীগঞ্জে ঈমান আল সুরেশ্বরী নামে এক পীরের মুরিদ ছিলেন। রহমত আলী তাঁর বাবার মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রতিবছর ২১ নভেম্বর মাজার প্রাঙ্গণে ওরসের আয়োজন করতেন। জঙ্গিরা তা বন্ধ করতে একাধিকবার হুমকি দিয়েছিল তাঁকে। তা উপেক্ষা করে তিনি ওরসের আয়োজন করছিলেন। ২০১৫ সালের ওরসের ১১ দিন আগে তাঁকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়।

২০১৫ সালের ১০ নভেম্বর রাতে রংপুরের কাউনিয়া উপজেলার টেপামধুপুর ইউনিয়নের চৈতার মোড় এলাকায় মাজারের খাদেম রহমত আলীকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে ও গলা কেটে হত্যা করে জঙ্গিরা। এ ঘটনায় নিহত খাদেমের ছেলে শফিকুল ইসলাম বাদী হয়ে হত্যা মামলা করেন।

তদন্ত শেষে পুলিশ ওই মামলায় নব্য জেএমবির ১৪ সদস্যের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগ দাখিল করে। এর মধ্যে দুই আসামি—পঞ্চগড়ের নজরুল ইসলাম ওরফে বাইক হাসান ২০১৬ সালের ১ আগস্ট রাতে রাজশাহীতে এবং কুড়িগ্রামের সাদ্দাম হোসেন ২০১৭ সালের ৫ জানুযারি রাজধানীর মোহাম্মদপুর বেড়িবাঁধ এলাকায় বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়। নিহত দুই জঙ্গিকে বাদ দিয়ে গত বছরের ১৬ আগস্ট ১২ জনের নামে অভিযোগ গঠন করেন আদালত।

তবে অভিযোগ গঠনের পর মামলার বাদী নারাজি দিয়ে পুনঃ তদন্তের দাবি জানান। কিন্তু আদালত বাদীর আবেদন খারিজ করে দেন। পরে উচ্চ আদালতে আপিল করলে আদালত পুনঃ তদন্ত করে ৪০ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে রংপুরের পুলিশকে নির্দেশ দেন। পরে উচ্চ আদালতের নির্দেশে মামলার পুনঃ তদন্ত শেষে গত বছরের ৩০ ডিসেম্বর ১৩ জঙ্গির বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। নতুন করে জঙ্গি বিজয়কে এই মামলায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। গত ১৯ ফেব্রুয়ারি মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়।



মন্তব্য