kalerkantho


যেসব লক্ষ্য অর্জন কঠিন হবে

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৮ মার্চ, ২০১৮ ০০:০০



যেসব লক্ষ্য অর্জন কঠিন হবে

আফ্রিকার স্থলবেষ্টিত দেশ বতসোয়ানা স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে উন্নয়নশীল দেশের কাতারে উন্নীত হওয়ার আগে তাদের জিডিপির অনুপাতে রাজস্ব আদায়ের হার ৫০ শতাংশে উন্নীত করে। উল্টোদিকে বাংলাদেশে এখন জিডিপির অনুপাতে কর আদায়ের হার মাত্র ১৩ শতাংশ। তাই বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে উন্নয়নশীল দেশের যোগ্যতা অর্জনের স্বীকৃতিপত্র পেলেও রাজস্ব আদায়ের হার বাড়ানো বেশ চ্যালেঞ্জই হবে বলে মত বিশেষজ্ঞদের। রাজস্ব আদায় বাড়াতে নতুন ভ্যাট আইন কার্যকরের উদ্যোগ নেওয়া হলেও দুই বছরের জন্য তা স্থগিত রয়েছে। অর্থনীতিবিদরা বলছেন বিদেশনির্ভরতা কমিয়ে অভ্যন্তরীণ রাজস্ব আদায়ের হার ও করের পরিধি বাড়াতে।

স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে বের হয়ে উন্নয়নশীল দেশের কাতারে উন্নীত হওয়ার পর অগ্রাধিকারমূলক বাজার সুবিধা (জিএসপি), সহজ শর্তে বিদেশি ঋণসহ বেশ কিছু সুযোগ-সুবিধা হারাবে বাংলাদেশ। সে জন্য এখন থেকেই বিকল্প অর্থায়নে উৎস, অভ্যন্তরীণ অর্থায়ন বাড়ানোসহ বেশ কয়েকটি পরামর্শ দিয়েছেন অর্থনীতিবিদ ও ব্যবসায়ীরা। তবে এসব লক্ষ্য অর্জন বেশ কঠিন হবে বলেও মত দেন তাঁরা। ব্যবসায়ীরাও বলছেন, উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত হওয়ার যোগ্যতা অর্জন হওয়ায় এখনই আত্মতুষ্টিতে ভুগলে হবে না। বাংলাদেশকে আরো সামনে যেতে হবে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, বাংলাদেশে সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর তুলনায় অনেক কম। বিদেশি বিনিয়োগ বাড়ানোর কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন এফবিসিসিআই সভাপতি শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন।

বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) সর্বশেষ তথ্য বলছে, বাংলাদেশে বিদেশি বিনিয়োগ মোট জিডিপির ১ থেকে ১.৫ শতাংশের মধ্যে অবস্থান করছে। গত অর্থবছর বিদেশি বিনিয়োগ এসেছে ২০০ কোটি ডলারের কিছু বেশি। এই হার কয়েক বছর ধরে একই অবস্থানে আছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, বিদেশি বিনিয়োগ বাড়াতে হলে ওয়ানস্টপ সার্ভিস কার্যকর করতে হবে। বিদ্যুৎ, গ্যাসসহ সড়ক অবকাঠামো উন্নয়ন করতে হবে। রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে হবে। মালদ্বীপ, বতসোয়ানা ও কেপ ভাদ্রের মতো দেশগুলো উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত হওয়ার পর বিদেশি বিনিয়োগ বাড়িয়েছে। এখানো উল্টো চিত্র বাংলাদেশের। তাই রাজস্ব আদায়ের হার বাড়ানো ও বিদেশি বিনিয়োগ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিতে বলেছেন পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক আহসান এইচ মনসুর।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেল, স্বল্পোন্নত দেশের ধারণাটি আসে জাতিসংঘ থেকে ১৯৬০ সালে। স্বল্পোন্নত দেশগুলোর তালিকা তৈরি করা হয় ১৯৭১ সালে। কোনো দেশ এলডিসির তালিকা থেকে বের হতে চাইলে তিনটি সূচক পূরণের শর্ত নির্ধারণ করে দেওয়া হয় ওই সময়। সেগুলো হলো মাথাপিছু জাতীয় আয়, মানবসম্পদ সূচক ও অর্থনৈতিক ভঙ্গুরতা। এ পর্যন্ত ৫২টি দেশ স্বল্পোন্নত দেশের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে, যার মধ্যে বতসোয়ানা, কেপ ভার্দে, মালদ্বীপ, সামোয়া ও ইকুয়েটোরিয়াল গিনি—এই পাঁচটি দেশ এলডিসি থেকে বের হয়েছে। বাংলাদেশে এখন মোট জনগোষ্ঠীর ৬৫ শতাংশ তরুণ। তাদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করাও চ্যালেঞ্জ হবে।

বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, ‘আমাদের রপ্তানি শুধু পোশাকশিল্পনির্ভর। স্বাধীনতার পর এত বছরেও আমরা বিকল্প কোনো রপ্তানিমুখী শিল্প দাঁড় করাতে পারিনি।’ তাই আমাদেরকে এখন থেকে পোশাকশিল্পের বিকল্প দাঁড় করানোর পরামর্শ দেন তিনি। একই সঙ্গে প্রয়োজন যেসব দেশ থেকে আমরা সুযোগগুলো পাই, তাদের সঙ্গে সমঝোতা করা। যাতে তারা আরো কয়েক বছর এসব সুবিধা অব্যাহত রাখে।



মন্তব্য