kalerkantho


রোহিঙ্গাদের ওপর মানবতাবিরোধী অপরাধ

সু চির বিরুদ্ধে অস্ট্রেলিয়ায় মামলা দায় মুক্তিতে রক্ষা

কূটনৈতিক প্রতিবেদক   

১৮ মার্চ, ২০১৮ ০০:০০



সু চির বিরুদ্ধে অস্ট্রেলিয়ায় মামলা দায় মুক্তিতে রক্ষা

ছবি : ইন্টারনেট

রোহিঙ্গাদের ওপর সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধে অস্ট্রেলিয়ায় মামলা হলেও দায়মুক্তির কারণে বিচার থেকে বেঁচে গেছেন দেশটিতে সফররত মিয়ানমারের স্টেট কাউন্সেলর ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী অং সান সু চি। ব্রিটিশ পত্রিকা দ্য গার্ডিয়ানের অনলাইনে প্রকাশিত প্রতিবেদনে এ কথা জানানো হয়েছে।

গার্ডিয়ানের ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অস্ট্রেলিয়ার পাঁচজন আইনজীবী গত শুক্রবার সু চির বিরুদ্ধে মামলা করেন। কিন্তু অস্ট্রেলিয়ার অ্যাটর্নি জেনারেল ক্রিস্টিয়ান পর্টার গতকাল শনিবার বলেছেন, বিদেশি সরকারপ্রধান ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী সু চির পূর্ণ দায়মুক্তি থাকায় তাঁকে গ্রেপ্তার, আটক, বিচার বা কারাদণ্ডাদেশ দেওয়া সম্ভব নয়।

উল্লেখ্য, আসিয়ান-অস্ট্রেলিয়া বিশেষ শীর্ষ সম্মেলন উপলক্ষে সু চি অস্ট্রেলিয়া সফর করছেন। বিচার সম্ভব না হলেও সু চির বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলাকে বেশ তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা বলে মনে করছেন কূটনীতিকরা। এর আগে গত ১৩ মার্চ গণহত্যা প্রতিরোধবিষয়ক জাতিসংঘের বিশেষ উপদেষ্টা অ্যাডামা ডিয়েং ঢাকায় সংবাদ সম্মেলন করে বলেছেন, মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে যে মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটিত হয়েছে, তা স্পষ্ট।

গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়, রোহিঙ্গা নিধনের ঘটনায় অস্ট্রেলিয়ার একটি ফেডারেল আদালতের বিচারকসহ পাঁচজন আইনজীবী শুক্রবার মেলবোর্নের ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সু চির বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটনের অভিযোগ আনেন। অন্য একটি দেশের সরকারপ্রধানের বিরুদ্ধে ওই মামলা চলার জন্য দেশটির অ্যাটর্নি জেনারেলের সম্মতি আবশ্যিক ছিল। কিন্তু অস্ট্রেলিয়ার অ্যাটর্নি জেনারেল ক্রিস্টিয়ান পর্টার আইনি ব্যাখ্যা দিয়ে জানান, ওই মামলা চলতে পারে না।

ক্রিস্টিয়ান পর্টার বলেন, ‘প্রথাগত আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী রাষ্ট্রপ্রধান, সরকারপ্রধান ও পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা বিদেশে ফৌজদারি অপরাধে বিচারের মুখোমুখি হওয়া থেকে দায়মুক্তি পেয়ে থাকেন। সেই ক্ষেত্রে অং সান সু চির পূর্ণ দায়মুক্তি আছে। তাই তাঁকে আটক, গ্রেপ্তার বা আদালতের নির্দেশনার মুখোমুখি হতে হবে না।’

সু চি মিয়ানমারের প্রেসিডেন্ট না হলেও কার্যত রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান। বিদেশি বিয়ে করায় মিয়ানমারের আইন অনুযায়ী সু চির প্রেসিডেন্ট হওয়ার সুযোগ না থাকায় ‘স্টেট কাউন্সেলর’ নামে একটি পদ সৃষ্টি করে তিনি তাতে আসীন হন। এ ছাড়া তিনি তাঁর সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্বও পালন করছেন।

সু চির বিরুদ্ধে মামলা করা আইনজীবীরা শুক্রবার এক বিবৃতিতে বলেছিলেন, ‘মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী বিচারবহির্ভূত হত্যা, গুম, নির্যাতন, ধর্ষণ, বেআইনি আটক, ব্যক্তিগত সম্পত্তি ও গ্রাম ধ্বংসের মাধ্যমে ধারাবাহিকভাবে যে অপরাধ করেছে, তার ব্যাপক ও বিশ্বাসযোগ্য তথ্য আছে। অথচ সু চি তা অস্বীকার করছেন।’

বিবৃতিতে আরো বলা হয়, ‘সু চি তাঁর অবস্থান থেকে কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠায় ব্যর্থ হয়েছেন। অভিযোগ আছে, রোহিঙ্গাদের জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত ও দেশত্যাগে বাধ্য করতে তিনি মিয়ানমার বাহিনীকে অনুমতি দিয়েছেন।’

গত বছরের ২৫ আগস্টের পর থেকে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাদের ওপর নিরাপত্তা বাহিনী ও মিলিশিয়াদের বর্বর নিধনযজ্ঞের পরিপ্রেক্ষিতে প্রায় সাত লাখ রোহিঙ্গা প্রাণ বাঁচাতে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে।


মন্তব্য