kalerkantho


অঙ্ক একটাই—আজ জিতলেই ফাইনালে

১৬ মার্চ, ২০১৮ ০০:০০



অঙ্ক একটাই—আজ জিতলেই ফাইনালে

আজ বিকেলে যখন বাংলাদেশ দলের টিম বাসটা হোটেলের গাড়ি-বারান্দা ছাড়বে, তখন ভেতরে বসে থাকা প্রত্যেক যাত্রীই জানবেন, মাঝের সময়টাই ঠিক করে দেবে কেমন হবে ফেরাটা। হয় তাঁরা ফিরবেন ফাইনালে যাওয়ার তৃপ্তির হাসি নিয়ে, অথবা ছিটকে যাওয়ার ব্যর্থতার গ্লানি সঙ্গে করে। এই আসা-যাওয়ার মাঝের ৪০টি ওভার, ২৪০টি বলই ঠিক করে দেবে, এ যাত্রায় শ্রীলঙ্কায় এটাই কি তাঁদের শেষ রাত নাকি ১৮ তারিখ সন্ধ্যার ফাইনালে থাকছেন মাহমুদ উল্লাহরা। জিতলে ফাইনালে, হারলে দেশে ফেরার ফ্লাইট। বাঁচা-মরার এই ম্যাচেই বাংলাদেশ কাল শেষ মুহূর্তে দলে ফিরে পেয়েছে সাকিব আল হাসানকে, যাঁর উপস্থিতিই দলকে জোগাতে পারে জয়ের উদ্দীপনা।

টি-টোয়েন্টিতে ছন্দে থাকা দলের ভালো খেলা, পাওয়ার প্লে কাজে লাগানো, হাতুরাসিংহের বাংলাদেশের দলের অন্ধিসন্ধি সব জানাশোনা; এই সবই এখন অতীত। হয় শ্রীলঙ্কার চেয়ে ১ রান বেশি করতে হবে, অথবা তাদের নিজেদের চেয়ে ১ রান হলেও কম করতে দিতে হবে। শ্রীলঙ্কার সঙ্গে আগের ম্যাচটিতে বাংলাদেশ তো ছিল আরো কোণঠাসা। ব্যাট করতে নামার আগে লক্ষ্য ছিল হিমালয়ের মতোই অলঙ্ঘনীয়। কিন্তু মুশফিক-তামিম-লিটনের ব্যাটে চড়ে সেই হিমালয়ও তো জয় করেছে বাংলাদেশ। ভারতের সঙ্গে হারে আত্মবিশ্বাস একটু টলে গেছে বটে, তবে একেবারে তলানিতে তো এসে ঠেকেনি। তাহলে কি আরেকবার হবে না লঙ্কা বিজয়? দেশ ছেড়ে আসার আগে ফাইনালে খেলার প্রতিশ্রুতি কি স্রেফ মিছে আশার ছলনা হয়েই রয়ে যাবে। নিশ্চয়ই না। নিজেদের ‘ব্র্যান্ড বাংলাদেশ’ ক্রিকেটটা খেললেই তো আরো একবার সম্ভব প্রেমাদাসার ভরা গ্যালারিকে স্তব্ধ করে দেওয়া। শুধু জ্বলে উঠতে হবে সবাইকে, একসঙ্গে।

বাংলাদেশের অধিনায়ক মাহমুদ উল্লাহ মনে করেন, নিজেদের মাঠে ফাইনালের এমন সমীকরণের সামনে দাঁড়িয়ে চাপে থাকবে শ্রীলঙ্কাই, ‘চাপের কথা বললে শ্রীলঙ্কাই সেটা বেশি অনুভব করবে। তাদের দর্শক, তাদের মাঠ। প্রত্যাশা বেশি। আবার দর্শকের সমর্থনও একটা শক্তি।’ সেই প্রত্যাশার চাপে নুয়ে পড়ার শঙ্কা অবশ্য উড়িয়ে দিচ্ছেন শ্রীলঙ্কার কোচ চন্দিকা হাতুরাসিংহে, ‘খুবই গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ, তবে আমরা স্বাভাবিক প্রস্তুতিই নিচ্ছি। আমরা তাদের সঙ্গে কাছাকাছি সময়ে অনেকগুলো ম্যাচ খেলেছি। আমরা ওদের সম্পর্কে অনেক কিছু জানি, ওরাও আমাদের সম্পর্কে জানে। দুই দলের মধ্যে চমকে দেওয়ার মতো কোনো জায়গা নেই।’ তবে শেষ পর্যন্ত চমক একটা দিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড, এই ম্যাচের জন্যই তারা দেশ থেকে গতকাল শ্রীলঙ্কায় পাঠিয়েছে সাকিব আল হাসানকে।

গতকাল দুপুর পর্যন্ত শ্রীলঙ্কা দলের ভাবনায় ছিলেন না সাকিব, এখন আঙুলের চোট থেকে কতটা সেরে উঠে তিনি আদৌ খেলতে পারবেন কিনা, সেই সংশয়টা রয়েই যাচ্ছে শ্রীলঙ্কা দলে। কারণ সাকিব থাকা মানেই বাংলাদেশের টিম কম্বিনেশনে পরিবর্তন, বাড়তি একজন বোলার বা ব্যাটসম্যানের জায়গা হয়ে যাওয়া একাদশে। তাতে করে ভেস্তে যেতে পারে হাতুরাসিংহের পরিকল্পনা। বাংলাদেশের কোচ কোর্টনি ওয়ালশও খোলাসা করে কিছু বলেননি সাকিবের ব্যাপারে, ‘আমরা আসরের শুরু থেকেই সাকিবকে দলের সঙ্গে চাইছিলাম, সে সব সময়ই দলের অংশ ছিল। আমরা জানতাম কোনো একটা সুযোগ থাকলেই সে দলে ফিরতে চাইবে। সাকিব ফিট হলে দলে আমরা তাকে স্বাগত জানাব।’ সাকিবের আগমনবার্তাটা যতটা আশার বাণী শোনাচ্ছে, ততটাই হতাশ করছে লোয়ার মিডল অর্ডারের ব্যাটিং আর ডেথ ওভারের বোলিং। প্রত্যাশা অনুযায়ী খেলতে পারছেন না সাব্বির রহমান, একাদশে যাঁর উপস্থিতি টি-টোয়েন্টির বিশেষজ্ঞ ব্যাটসম্যান হিসেবেই। মেহেদী হাসান মিরাজের বোলিংটা ঠিকঠাক, কিন্তু ব্যাটিংটা একদমই মেটাতে পারে না সময়ের দাবি। ভারতের সঙ্গে ম্যাচের পর অবশ্য ছয় ব্যাটসম্যান আর পাঁচ বোলারের সমন্বয়েই একাদশ গড়ার পক্ষে ছিলেন। তবে সাকিব চলে আসায় নিঃসন্দেহে বাড়তি একটা সুবিধাই পেয়ে যাবে বাংলাদেশ। চমৎকার ফর্মে থাকা রুবেল হোসেন, মুস্তাফিজুর রহমান, উইকেট না পেলেও রান আটকানো বোলিং করা নাজমুল হোসেন অপু, অফ স্পিনার মেহেদী হাসান মিরাজের সঙ্গে সাকিবও বোলিং করলে এই পাঁচজন মিলেই করতে পারবেন ২০ ওভার। সেই সঙ্গে তামিম, লিটন, সৌম্যর পর ইনফর্ম মুশফিক; এরপরই সাকিব ও মাহমুদ উল্লাহ ব্যাট করলে বাংলাদেশের ব্যাটিং গভীরতাটা বাড়বে। ভারতের বিপক্ষে টেল এন্ডারদের নিয়েই লড়াই করেছেন মুশফিক, শ্রীলঙ্কার বিপক্ষেও মিরাজকে স্ট্রাইক থেকে দূরে রাখতে পেশিতে টান পড়ার পরও নিয়েছেন ডাবলস। এভাবেই সাকিব দলে এসে যাওয়া মানেই ব্যাটিং বোলিং দুই বিভাগেই নিশ্চিন্ত নির্ভরতা।

গতকাল সন্ধ্যায় কলম্বো পৌঁছানো সাকিবের খেলা নিয়ে অবশ্য এখনো ধোঁয়াশা। কোচ ওয়ালশ জানিয়েছেন, ‘আসার পর দলের অন্য সবার মতোই সাকিবের চোট পরখ করে দেখা হবে। যদি সে ফিট থাকে তাহলে অবশ্যই খেলবে, এই নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই।’ তবে গতকাল দেরিতে পৌঁছানোয় আর ফিটনেস টেস্ট করা সম্ভব হয়নি, ম্যাচের আগেই নেওয়া হবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত। ফিট হলে সাকিব অধিনায়কত্ব করবেন নাকি মাহমুদ উল্লাহর অধীনে সাধারণ খেলোয়াড় হিসেবে খেলবেন, এই ব্যাপারেও সিদ্ধান্তে পৌঁছানো বাকি।

বৃষ্টিতে পয়েন্ট ভাগাভাগি হলে বা কোনো কারণে খেলা পরিত্যক্ত হলে দেখা হবে রান রেট। আর এখন পর্যন্ত নেট রান রেটে শ্রীলঙ্কা এগিয়ে আছে। আবহাওয়া বার্তা বলছে, দুপুরে হালকা বৃষ্টির সম্ভাবনা আছে, তবে গতকাল কলম্বোর আকাশে ছিল ঝকঝকে রোদ, সেই সঙ্গে ভ্যাপসা গরমও। খেলা না হলে তাই ক্ষতি বাংলাদেশেরই।

সব আশঙ্কাকে উড়িয়ে দিয়ে খেলাটা হোক—এটাই প্রত্যাশা বাংলাদেশ দলের। দলের সেরা খেলোয়াড়কে ছাড়াই তো টি-টোয়েন্টিতে এখন পর্যন্ত বাংলাদেশের সেরা জয়টা পাওয়া হয়ে গেছে। আর আজ যখন সাকিব সঙ্গে আছেন, তাহলে আর ভয় কি!


মন্তব্য