kalerkantho


রাজনীতি

আ. লীগে আত্মবিশ্বাস বাড়ছে

আবদুল্লাহ আল মামুন   

৯ মার্চ, ২০১৮ ০০:০০



আ. লীগে আত্মবিশ্বাস বাড়ছে

রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে মোকাবেলার ক্ষেত্রে ধারাবাহিক সাফল্যে আত্মবিশ্বাস বাড়ছে সরকার ও ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের। মাঠে বিএনপির উপস্থিতিকে দুর্বল মনে করে বেশ স্বস্তিতে রয়েছে সরকার। টানা তৃতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসার বিষয়ে আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতৃত্ব বেশ আশাবাদী। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি আসুক বা না-ই আসুক, তাদের এখন আর শক্ত প্রতিপক্ষ মনে করছে না আওয়ামী লীগ। বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া সাজা নিয়ে কারাগারে যাওয়ার পরবর্তী পরিস্থিতিতে সরকার ও আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারকদের এমন উপলব্ধি হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রে জানা গেছে।

সূত্র মতে, সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে আওয়ামী লীগের উচ্চপর্যায়ের নেতাদের এক ঘরোয়া বৈঠকে দলের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ের ব্যাপারে আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তিনি বিএনপিকে মোকাবেলায় নিজেদের সামর্থ্যের বিষয়েও ইতিবাচক মনোভাব দেখান। ওই বৈঠকে খালেদা জিয়া জেলে যাওয়ার পর দেশের পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়। 

দলীয় সূত্রে জানা যায়, সর্বশেষ গত ৭ই মার্চ সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আওয়ামী লীগের জনসভায় বিপুলসংখ্যক মানুষের উপস্থিতিতে উজ্জীবিত দলটির নীতিনির্ধারকরা। আওয়ামী লীগের মাঠপর্যায়েও এ নিয়ে বেশ উচ্ছ্বাস দেখা গেছে।

আড়মোড়া ভেঙে সক্রিয় হয়ে উঠেছে দলটির নেতাকর্মীরা। খালেদা জিয়া রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করতে কক্সবাজার যাওয়ার সময় ব্যাপক মানুষের উপস্থিতি দেখে বেশ অস্বস্তিতে ছিল সরকার ও আওয়ামী লীগ। গত বুধবারের ওই জনসভার পর তাদের মনোবল চাঙ্গা হয়েছে। আওয়ামী লীগের নেতারা এই জনসভাকে নির্বাচনী প্রচারের ক্ষেত্রে একটি ‘টার্নিং পয়েন্ট’ হিসেবে দেখছেন।

এ বিষয়ে আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য ও বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ কালের কণ্ঠকে বলেন, আওয়ামী লীগের জন্য উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ অপেক্ষা করছে। নেতাকর্মীরা উজ্জীবিত, তারা নির্বাচনী প্রচারণার জন্য প্রস্তুত। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের জনসভা সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়া বঙ্গবন্ধুর এই ঐতিহাসিক ভাষণ প্রচার করতে দেননি। সেই ভাষণ এখন আন্তর্জাতিক সম্পদ। সেই স্বীকৃতি দেশের মানুষ উদ্‌যাপন করছে।’ 

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ গতকাল বৃহস্পতিবার কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘দেশের মানুষ যে আওয়ামী লীগ সরকারের ওপর আস্থাশীল গতকালের (বুধবার) জনসভায় তার প্রতিফলন দেখা গেছে।’ তিনি বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণে ছিল মুক্তিযুদ্ধের দিকনির্দেশনা। জিয়া ক্ষমতায় এসে এই ভাষণ প্রচার নিষিদ্ধ করেছিলেন। ভাষণ প্রচার করতে গিয়ে নেতাকর্মীরা নির্যাতনের শিকার হয়। সেই ভাষণ এখন বিশ্ব ঐতিহ্যের দলিল। এই স্বীকৃতি উদ্‌যাপন করেছে দেশের মানুষ। সারা দেশে এই আনন্দ-উচ্ছ্বাস ছড়িয়ে পড়েছে।’

খালেদা জিয়ার সাজা হওয়া এবং কারাগারে যাওয়াকে কেন্দ্র করে বিএনপি বড় ধরনের আন্দোলনে নামতে পারে বলে আশঙ্কা ছিল আওয়ামী লীগের। সারা দেশে সহিংসতার আশঙ্কাও ছিল। এ ছাড়া আন্তর্জাতিক মহল বিষয়টি নিয়ে কী প্রতিক্রিয়া দেখায়, সেটি নিয়েও ভাবনায় ছিল সরকার। কিন্তু বিএনপি সরকারকে চাপে ফেলার মতো তেমন কোনো কর্মসূচি দিতে পারেনি। আর আন্তর্জাতিক মহলও খালেদা জিয়ার জেলে যাওয়ায় তেমন প্রতিক্রিয়া দেখায়নি। যদিও বিএনপির সম্ভাব্য সহিংসতা মোকাবেলা করতে সরকারের সর্বাত্মক প্রস্তুতি ছিল। সাংগঠনিক প্রস্তুতিও নিয়ে রেখেছিল আওয়ামী লীগ। 

দলীয় সূত্র মতে, আওয়ামী লীগ এখন পুরোপুরি নির্বাচনমুখী। দলের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এরই মধ্যে কয়েকটি বিভাগীয় শহরে জনসভায় বক্তৃতা করেছেন। ওই সব জনসভায় মানুষের উপস্থিতি আগের চেয়ে অনেক বেড়েছে। এদিকে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতারা বিভিন্ন দলে বিভক্ত হয়ে সারা দেশ সফর করছেন। আগামী জাতীয় নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীর পক্ষ থেকে যাঁরা পোলিং এজেন্ট থাকবেন, তাঁদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার কাজ শুরু হয়েছে। দলীয় প্রার্থী বাছাইয়ের লক্ষ্যেও অব্যাহত আছে জরিপ কার্যক্রম। এরই মধ্যে অনেককে সবুজ সংকেত দিয়ে নির্বাচনী এলাকায় পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।



মন্তব্য