kalerkantho


রোহিঙ্গা ইসু্যুতে ঢাকায় ট্রাম্পের উপদেষ্টা

নৃশংসতার বিচার নিশ্চিত করতে তৎপর যুক্তরাষ্ট্র

বাংলাদেশ মানবিক সহায়তার মডেল

কূটনৈতিক প্রতিবেদক   

৫ মার্চ, ২০১৮ ০০:০০



নৃশংসতার বিচার নিশ্চিত করতে তৎপর যুক্তরাষ্ট্র

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাদের ওপর সংঘটিত নৃশংসতার জবাবদিহি ও বিচার নিশ্চিত করতে যুক্তরাষ্ট্র কাজ করছে বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উপদেষ্টা লিসা কার্টিস।

গতকাল রবিবার দুপুরে ঢাকায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের লিসা বলেন, রোহিঙ্গা সংকটের মতো মানবিক বিপর্যয়ে বাংলাদেশের ভূমিকা বিশ্বে মানবিক সহায়তার মডেল হয়ে থাকবে। রোহিঙ্গা ইস্যু যুক্তরাষ্ট্রের ট্রাম্প প্রশাসনের কাছে অগ্রাধিকার। রোহিঙ্গাদের ওপর নৃশংসতার তথ্য-উপাত্ত যুক্তরাষ্ট্র সংগ্রহ করছে এবং এ ধরনের নৃশংসতার পুনরাবৃত্তি ঠেকানো নিশ্চিত করতেও কাজ করছে। এ ছাড়া রোহিঙ্গাদের স্বেচ্ছায় ও নিরাপদে তাদের প্রকৃত বসতভূমি রাখাইন রাজ্যে ফেরত পাঠানোর অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টিতে মিয়ানমার সরকারকে যুক্তরাষ্ট্র চাপ দিয়ে যাচ্ছে।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের উপসহকারী ও জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিলের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক জ্যেষ্ঠ পরিচালক লিসা কার্টিস তিন দিনের বাংলাদেশ সফরের শেষ দিন গতকাল দুপুরে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলীর সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকের পর নৃশংসতার তথ্য-উপাত্ত যুক্তরাষ্ট্র সংগ্রহ করছে এবং এ ধরনের নৃশংসতার পুনরাবৃত্তি ঠেকানো নিশ্চিত করতেও কাজ করছে। এ ছাড়া রোহিঙ্গাদের স্বেচ্ছায় ও নিরাপদে তাদের প্রকৃত বসতভূমি রাখাইন রাজ্যে ফেরত পাঠানোর অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টিতে মিয়ানমার সরকারকে যুক্তরাষ্ট্র চাপ দিয়ে যাচ্ছে।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের উপসহকারী ও জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিলের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক জ্যেষ্ঠ পরিচালক লিসা কার্টিস তিন দিনের বাংলাদেশ সফরের শেষ দিন গতকাল দুপুরে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলীর সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকের পর সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘রোহিঙ্গাদের জন্য বাংলাদেশের প্রচেষ্টা এবং মানবিক বিপর্যয় মোকাবেলায় বাংলাদেশিদের মানবিক প্রচেষ্টার আমরা সত্যিই প্রশংসা করি।’ তিনি বলেন, ‘আমরা বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে কাজ করা অব্যাহত রাখব এবং রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর জন্য তাদের সহায়তা উদ্যোগে সহযোগিতা দেব। আর আমরা শরণার্থীদের (রোহিঙ্গাদের) স্বেচ্ছায় ও নিরাপদে ফিরে যাওয়ার পরিবেশ সৃষ্টির লক্ষ্যে বার্মিজ (মিয়ানমার) সরকারের ওপর চাপ অব্যাহত রাখব।’

মিয়ানমার পরিস্থিতি সম্পর্কে জানতে চাইলে লিসা কার্টিস বলেন, ‘এ ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো জবাবদিহি, যা ঘটেছে তার তথ্য-উপাত্ত আমাদের সংরক্ষণ করা প্রয়োজন। নৃশংসতা সংঘটিত হয়েছে। আমাদের নিশ্চিত করতে হবে, যারা নৃশংসতা ঘটিয়েছে তাদের জবাবদিহি আছে। নতুন করে নৃশংসতা প্রতিরোধের বিষয়টিও আমাদের নিশ্চিত করতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘রোহিঙ্গারা যাতে স্বেচ্ছায় ও নিরাপদে তাদের বাসভূমি রাখাইন রাজ্যে ফিরে যেতে পারে সে জন্য অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি করতে মিয়ানমার সরকারের প্রতি চাপ দেওয়া প্রয়োজন। যুক্তরাষ্ট্র এসব বিষয়ে কাজ অব্যাহত রাখছে।’

লিসা কার্টিস বলেন, যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের সঙ্গে আরো বৃহৎ পরিসরে জোরালো সম্পর্ক চায়। যুক্তরাষ্ট্র তার ইন্দো-প্যাসিফিক কৌশলে বাংলাদেশকে গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে বিবেচনা করে। তাই এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী।

বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত মার্শা বার্নিকাটও এ সময় লিসা কার্টিসের সঙ্গে ছিলেন। গত শুক্রবার বাংলাদেশে আসার পর লিসা কার্টিস কক্সবাজার পরিদর্শনে যান। গত শনিবার তিনি সেখানে রোহিঙ্গা শিবির পরিদর্শন করেন।


মন্তব্য