kalerkantho


ব্রাসেলসে মগেরিনি ও মাহমুদ আলী বৈঠক

রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে ইইউ পাশে আছে

কূটনৈতিক প্রতিবেদক    

৩ মার্চ, ২০১৮ ০০:০০



রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে ইইউ পাশে আছে

রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে রাজনৈতিক ও মানবিকভাবে পুরোপুরি সক্রিয় আছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। ইউরোপের ২৮টি দেশের জোটের পররাষ্ট্র ও নিরাপত্তা নীতিবিষয়ক হাইরিপ্রেজেন্টেটিভ ফেদেরিকা মগেরিনি গতকাল শুক্রবার ব্রাসেলসে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলীর সঙ্গে বৈঠকে এ কথা জানান। তিনি রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়ায় বাংলাদেশের জনগণ ও সরকারেরও ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। বৈঠকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাহমুদ আলী মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ, বিশেষ করে ওই দেশটির সামরিক বাহিনীর ওপর আন্তর্জাতিক চাপ বাড়ানোর অনুরোধ জানিয়েছেন। বৈঠকে বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও আলোচনা হয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন এক্সটার্নাল অ্যাকশন সার্ভিসের ওয়েবসাইটে গতকাল এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ খবর দেওয়া হয়।

ইইউ হাইরিপ্রেজেন্টেটিভ বাংলাদেশের জনগণ ও সরকারের মানবিক ভূমিকা ও মহানুভবতার জোরালো প্রশংসা করেছেন। তিনি বলেন, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে বাংলাদেশ ও মিয়ানমার যে দ্বিপক্ষীয় চুক্তি সই করেছে তার আলোকে রোহিঙ্গাদের নিজ বসতভূমিতে স্বেচ্ছায়, নিরাপদ ও সম্মানজনক প্রত্যাবাসনের সুযোগ সৃষ্টি হওয়া উচিত। তিনি প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক হাইকমিশনারকে (ইউএনএইচসিআর) পুরোপুরি সম্পৃক্ত করার প্রয়োজনীয়তা পুনর্ব্যক্ত করেন।

ইইউ জানায়, গতকালের বৈঠকে মাহমুদ আলী ও ফেদেরিকা মগেরিনি বাংলাদেশে রাজনৈতিক পরিস্থিতিসহ বাংলাদেশ-ইইউ সম্পর্কের বিভিন্ন দিক নিয়েও আলোচনা করেন। ইইউ স্থিতিশীলতার স্বার্থে বাংলাদেশে অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন প্রত্যাশা করে আসছে। বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন বর্জন করায় এবং অর্ধেকেরও বেশি সংসদীয় আসনে প্রার্থীরা ভোটের আগেই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়ায় ইইউ ওই নির্বাচনে পর্যবেক্ষক পাঠায়নি। তবে ইইউ আগামী নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করতে আগ্রহী।

এদিকে ঢাকায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলেছে, রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে ইইউ বাংলাদেশকে পূর্ণ সহযোগিতা দেওয়ার আশ্বাস পুনর্ব্যক্ত করেছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাহমুদ আলী ইইউ হাইরিপ্রেজেন্টেটিভকে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে দ্বিপক্ষীয় চুক্তি ও সম্পৃক্ততাগুলোর বিষয়ে অবহিত করেন। তিনি রোহিঙ্গাদের সম্মান ও নিরাপত্তা নিয়ে ফিরে যাওয়ার অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টিতে মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ বিশেষ করে সামরিক বাহিনীর ওপর আন্তর্জাতিক চাপ বাড়ানোর ওপর জোর দেন।

বৈঠকে অন্যদের মধ্যে ইইউ ও বেলজিয়ামে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত শাহাদাত হোসেন, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ইইউ ও পশ্চিম ইউরোপ অনুবিভাগের মহাপরিচালক মোহাম্মদ খোরশেদ খাস্তগীর উপস্থিত ছিলেন। ফেদেরিকা মগেরিনি গত সোমবার ইইউ দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের কাউন্সিলে নেওয়া মিয়ানমারবিষয়ক সিদ্ধান্তগুলো পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাহমুদ আলীকে জানান। ইইউ পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের কাউন্সিল মিয়ানমারের ওপর বিদ্যমান অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা এবং সামরিক বাহিনীর (তাতমাদো) জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অবরোধ আরো জোরদারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এ ছাড়া ইইউতে মিয়ানমারের বাণিজ্য সুবিধা পর্যালোচনা করতে বাণিজ্য কাউন্সিলের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে।

এর আগে গতকাল পররাষ্ট্রমন্ত্রী ব্রাসেলসে বেলজিয়ামের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী দিদিয়ার রেইন্ডারসের সঙ্গেও দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেছেন। দিদিয়ার রেইন্ডারস রোহিঙ্গা সংকটে বাংলাদেশের ভূমিকার প্রশংসা করেন। এ ছাড়া তিনি মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের অব্যাহত মানবাধিকার লঙ্ঘনে উদ্বেগ জানান। বেলজিয়ামের উপপ্রধানমন্ত্রী মালিতে চার বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী নিহত হওয়ার ঘটনায় বাংলাদেশকে গভীর শোক ও সমবেদনা জানান। তিনি বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশের জোরালো ভূমিকারও প্রশংসা করেন।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাহমুদ আলী ব্রাসেলসে বাংলাদেশ হাউসে আয়োজিত নৈশভোজ অনুষ্ঠানে ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সদস্যদের (এমইপি) সঙ্গেও মতবিনিময় করেন। তিনি রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন চুক্তি ও রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধানে আনান কমিশনের সুপারিশগুলোর পূর্ণ বাস্তবায়নে মিয়ানমারকে বাধ্য করতে এমইপিদের সহায়তা চান। এমইপিরা মিয়ানমারের ওপর চাপ অব্যাহত রাখার বিষয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে আশ্বাস দিয়েছেন।



মন্তব্য