kalerkantho


তুষার তাণ্ডবে বিপর্যস্ত ইউরোপ, নিহত ৫৬

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

৩ মার্চ, ২০১৮ ০০:০০



তুষার তাণ্ডবে বিপর্যস্ত ইউরোপ, নিহত ৫৬

ভয়াবহ ঠাণ্ডা আর তুষারপাতে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে ইউরোপের বড় একটি অংশ। ছবিটি ইতালির মিলান থেকে গতকাল তোলা। ছবি : এএফপি

প্রবল তুষারঝড় ও ভারি তুষারপাতে ইউরোপের একটি বড় অংশ বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। এতে এ পর্যন্ত মৃত্যু হয়েছে অন্তত ৫৬ জনের। সড়ক, রেল ও বিমান যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ার পাশাপাশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ হয়ে গেছে।

এই বৈরী আবহাওয়া স্থান, কালভেদে ভিন্ন নামে পরিচিতি পেয়েছে। যুক্তরাজ্যে একে ‘দ্য বিস্ট ফ্রম দি ইস্ট’, নেদারল্যান্ডসে ‘সাইবেরিয়ান বিয়ার’ এবং সুইডেনে ‘স্নো ক্যানন’ নামে ডাকা হচ্ছে।

পোল্যান্ডে ২১ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। দেশটিতে গৃহহীনরা ঠাণ্ডার কারণে অতিরিক্ত অ্যালকোহল পান করলে এত বেশিসংখ্যক মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। রবিবার থেকে স্লোভাকিয়ায় ছয়জন এবং চেক প্রজাতন্ত্রে সাতজনের মৃত্যু হয়েছে। স্পেনে গৃহহীনসহ মোট তিনজনের মৃত্যুর কথা জানিয়েছেন দেশটির কর্মকর্তারা। এ ছাড়া লিথুনিয়ায় পাঁচজন, ফ্রান্সে চারজন এবং সার্বিয়া, ইতালি, স্লোভেনিয়া ও রোমানিয়ায় দুজন করে মানুষের মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া যুক্তরাজ্য ও নেদারল্যান্ডসে দুজনের মৃত্যু হয়েছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডাব্লিউএইচও) সতর্ক করে বলেছে, ঠাণ্ডায় দরিদ্র, গৃহহীন ও অভিবাসীদের অবস্থা সবচেয়ে শোচনীয় হবে। ঠাণ্ডাজনিত অসুস্থতা বিশেষ করে বয়োজ্যেষ্ঠ, শিশু এবং যারা দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত কিংবা যারা দীর্ঘদিন ধরে শারীরিক কিংবা মানসিক সমস্যায় ভুগছে, তারা এখন সবচেয়ে ঝুঁকিতে আছে।

তুষারঝড়ের তাণ্ডবে আয়ারল্যান্ডে যোগাযোগব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে বিমানসহ বেশির ভাগ পরিবহন। আজ শনিবার সকালের আগ পর্যন্ত তা সচল হওয়ার কোনো লক্ষণ নেই। এরই মধ্যে ২৪ হাজার অফিস ও বাড়ি বিদ্যুত্হীন হয়ে পড়েছে। সুইজারল্যান্ডের জেনেভা বিমানবন্দরের কার্যক্রম বৃহস্পতিবার সকালে বন্ধ করা হয়। পরে রানওয়ে থেকে বরফ সরিয়ে কার্যক্রম সচল করা হয়।

ফ্রান্সের মঁপেলিয়ে শহরের কাছে প্রায় দুই হাজার গাড়ি আটকে পড়েছে। অনেক চালকই সেখানে ২৪ ঘণ্টার বেশি সময় ধরে অবস্থান করছে বলে তথ্য পাওয়া গেছে।

আমস্টারডামের শিফল বিমানবন্দরেও শৈত্যপ্রবাহের ব্যাপক প্রভাব পড়েছে। কেএলএম এয়ারলাইনসের বেশ কয়েকটি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। কয়েকটি ছেড়েছে দেরিতে। মধ্য ইতালির বেশ কয়েকটি সড়ক এবং রেল যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেছে। এ ছাড়া লন্ডন, প্যারিস ও ব্রাসেলসের মধ্যে চলাচলকারী ইউরোস্টারের রেলসেবা বিঘ্নিত হয়েছে।

ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে তিন হাজার গৃহহীনের জন্য আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে ইউরোপের বিভিন্ন এলাকায় তাপমাত্রা বাড়ার প্রত্যাশা করা হচ্ছে। তবে পর্তুগাল ও ফ্রান্সের ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া ‘এমা’ ঝড় আঘাতের শঙ্কায় আছে আয়ারল্যান্ড ও ইংল্যান্ড। সূত্র : বিবিসি।


মন্তব্য