kalerkantho


প্রধানমন্ত্রী বললেন

ঘাটতি থেকে দেশকে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ করেছে আ. লীগ

বঙ্গবন্ধু কৃষি স্বর্ণপদক পেলেন নাজিমউদ্দিন চৌধুরী

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২ মার্চ, ২০১৮ ০০:০০



ঘাটতি থেকে দেশকে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ করেছে আ. লীগ

রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে বঙ্গবন্ধু জাতীয় কৃষি পুরস্কার গ্রহণ করেন জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের সচিব নাজিমউদ্দিন চৌধুরী। ছবি : বাসস

আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় এসে দেশকে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ করেছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বিএনপির সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘তারা (বিএনপি) ক্ষমতায় থাকতে কৃষি খাত পিছিয়ে পড়েছিল। সার চাওয়ায় কৃষককে হত্যা করেছিল বিএনপি সরকার। কিন্তু আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসে কৃষকের ঘরে ঘরে সার পৌঁছে দিয়েছে; খাদ্য ঘাটতির দেশকে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ করেছে। এ দেশে আর কোনো মানুষ না খেয়ে থাকবে না।’

গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে বঙ্গবন্ধু কৃষি পুরস্কার ১৪২৩ বিতরণকালে প্রধান অতিথির ভাষণে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী নারায়ণ চন্দ্র চন্দ বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘সরকারের ধারাবাহিকতা থাকার কারণে কৃষিসহ প্রতিটি ক্ষেত্রে উন্নয়ন দৃশ্যমান হচ্ছে।’ খাদ্য উৎপাদন বাড়াতে আওয়ামী লীগ সরকারের নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগের কথা বলতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী ২০০৫-০৬ ও ২০১৬-১৭ অর্থবছরের উৎপাদনের পরিসংখ্যান তুলে ধরেন অনুষ্ঠানে। তিনি বলেন, ২০০৫-০৬ অর্থবছরে দেশে যেখানে দুই কোটি ৮০ লাখ মেট্রিক টন খাদ্যশস্য উৎপাদন হয়েছিল, ২০১৬-১৭ অর্থবছরে তা প্রায় তিন কোটি ৮৭ লাখ মেট্রিক টনে উন্নীত হয়েছে। ধান উৎপাদনে বাংলাদেশ বর্তমানে বিশ্বে চতুর্থ স্থানে রয়েছে।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘দেশের লোকসংখ্যা বাড়তেই থাকবে। সেই সঙ্গে খাদ্যের উৎপাদনও বাড়াতে হবে। কিন্তু জমির পরিমাণ ঠিক সেই হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে না।’ এ কারণে তিনি কৃষি গবেষণা বাড়ানোর পাশাপাশি পরিকল্পিত শিল্পায়নের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন। তিনি বলেন, ‘ইতিমধ্যে আমরা নির্দেশ দিয়েছি দুই ফসলি বা তিন ফসলি জমি কোনোভাবেই এ কাজে ব্যবহার করা যাবে না। অন্য জমিগুলোতে আমরা শিল্পায়ন থেকে শুরু করে যা যা করার করব। এটা আমাদের পরিকল্পিতভাবে করতে হবে।’

নতুন প্রজন্মকে কৃষিকাজে আগ্রহী করতে সংশ্লিষ্টদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের ছেলে-মেয়েদের আমরা লেখাপড়া শেখাচ্ছি। এখন লেখাপড়া শেখার পর অনেকে আর জমিতে কাজ করতে যেতে চাইছে না। আমি বলব, আমাদের ছেলে-মেয়েরা যাতে কৃষিকাজে অন্তত আন্তরিক হয় সে জন্য তাদের শিক্ষাব্যবস্থায় কৃষির ব্যবহারিক শিক্ষাটা যেন থাকে, সেদিকে লক্ষ্য রাখার জন্য আমি বিশেষভাবে আহ্বান জানাচ্ছি।’

অনুষ্ঠানে ৩২ জন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের মধ্যে বঙ্গবন্ধু কৃষি পুরস্কার ১৪২৩ প্রদান করেন প্রধানমন্ত্রী। এর মধ্যে পাঁচটি স্বর্ণ, ৯টি রোপ্য ও ১৮টি ব্রোঞ্জপদক প্রদান করা হয়। স্বর্ণ, রৌপ্য ও ব্রোঞ্জপদকপ্রাপ্তদের মাঝে পদকের সঙ্গে নগদ এক লাখ টাকা, ৫০ হাজার টাকা এবং ২৫ হাজার টাকার চেক প্রদান করা হয়। পুরস্কারের ক্যাটাগরিতে ক্রপ অ্যাগ্রিকালচার, মৎস্য, প্রাণিসম্পদ ও বনায়ন অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। দেশে মাছের উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি মাছ রপ্তানি করে জাতীয় অর্থনীতিতে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ মৎস্য অধিদপ্তরকে স্বর্ণপদকে ভূষিত করা হয়।

ব্যক্তিপর্যায়ে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে খামার স্থাপন করে অনুকরণীয় নজির স্থাপনের মাধ্যমে কৃষিতে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ আলহাজ মো. মকবুল হোসেন এমপি স্বর্ণপদক লাভ করেন। প্রতিকূল পরিবেশে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে কৃষি খামার স্থাপনের জন্য জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের সচিব নাজিমউদ্দিন চৌধুরী, বাংলাদেশ কৃষি ও কৃষি সহায়ক গবেষণার মাধ্যমে ফসলের মানোন্নয়ন ও নতুন জাত উদ্ভাবনে কাঙ্ক্ষিত জিন প্রতিস্থাপন পদ্ধতি উদ্ভাবনের স্বীকৃতিস্বরূপ কৃষি গবেষণা ক্যাটাগরিতে প্রফেসর রাখহরি সরকার এবং প্রচলিত কৃষি পণ্যের পাশাপাশি অপ্রচলিত কৃষিপণ্য উৎপাদনের স্বীকৃতিস্বরূপ মো. আমিনুল ইসলাম প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে স্বর্ণপদক গ্রহণ করেন।

বঙ্গবন্ধু জাতীয় কৃষি স্বর্ণপদক পাওয়া নাজিমউদ্দিন চৌধুরী সরকারি কর্মকর্তা হলেও দীর্ঘদিন কৃষিসংশ্লিষ্ট কাজেও জড়িত। ভোলার মনপুরা উপজেলার ঢালচরে পৈতৃক জমিতে গড়ে তুলেছেন ওশেন ফার্ম। এই ফার্মে বহুমুখী পণ্য উৎপাদন করা হয়। এর মধ্যে রয়েছে ধান, ডাল, সূর্যমুখী, মহিষ, গরু, ভেড়া, ছাগল, হাঁস, মুরগিসহ কৃষির বিভিন্ন শস্য। সর্বপ্রথম নাজিমউদ্দিন ঢাকার জোয়ার সাহারায় হর্টিকালচার গড়ে তোলেন। এরই ধারাবাহিকতায় ২০০২ সালে মনপুরায় এ প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন।

নাজিমউদ্দিন চৌধুরী কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘এই স্বর্ণপদক পেয়ে আমি খুবই আনন্দিত। এতে কাজের প্রতি আমার আগ্রহ আরো বৃদ্ধি পাবে।’ তিনি আরো বলেন, ‘ওশেন ফার্মের নিজস্ব সোলার প্যানেল আছে, মহিষের গোবর দিয়ে দুটি বায়োগ্যাস প্ল্যান্ট করা হয়েছে। তা থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়। এটি একটি সফল কৃষি উদ্যোগ। আমার এ প্রতিষ্ঠান অনেকের জন্য অনুকরণীয় হতে পারে।’



মন্তব্য