kalerkantho


রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে জাতিসংঘের সহায়তা চেয়েছে মিয়ানমার

কূটনৈতিক প্রতিবেদক   

২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে জাতিসংঘের সহায়তা চেয়েছে মিয়ানমার

ফাইল ছবি

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনপ্রক্রিয়ায় কৌশলে জাতিসংঘকে যুক্ত করার উদ্যোগ নিয়েছে মিয়ানমার। দেশটির আন্তর্জাতিক সহযোগিতাবিষয়ক মন্ত্রী কিয়াও টিন গতকাল মঙ্গলবার জেনেভায় জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদের অধিবেশনে এ তথ্য দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, গত ২৩ ফেব্রুয়ারি মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়ক ও জাতিসংঘ শরণার্থী সংস্থার (ইউএনএইচসিআর) কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভের সঙ্গে বৈঠক করেছে। বৈঠকে রাখাইন রাজ্যের সব সম্প্রদায়ের জীবিকা ও উন্নয়ন এবং বাস্তুচ্যুত ব্যক্তিদের সম্মানের সঙ্গে প্রত্যাবাসন ও পুনর্বাসনের সরকারি উদ্যোগে জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি ইউ (এনডিপি) ও ইউএনএইচসিআরকে যৌথভাবে সহযোগিতা করতে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।

মিয়ানমারের মন্ত্রী আরো বলেন, মিয়ানমার এরই মধ্যে এক হাজার দুই শর বেশি বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গার তথ্য যাচাই শেষে প্রত্যাবাসনের জন্য বাংলাদেশকে দিয়েছে। এ ছাড়া বাংলাদেশের দেওয়া আট হাজার রোহিঙ্গার বিষয়ে আরো বিস্তারিত তথ্য চেয়েছে।

রোহিঙ্গাদের ওপর নির্যাতন-নিপীড়নকে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের ‘জাতিগত নিধনযজ্ঞ’ ও ‘গণহত্যা’ অভিহিত করার ব্যাপারে আপত্তি জানান মিয়ানমারের মন্ত্রী। তিনি বলেন, এগুলো অপপ্রচার। নির্যাতন-নিপীড়নের ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট তথ্য থাকলে মিয়ানমার কাউকে ছাড় দেবে না। গণতন্ত্র ও মানবাধিকারের জন্য সংগ্রাম করে আসা মিয়ানমারের নেতারা কোনো দিন তাঁদের দেশে ‘জাতিগত নিধনযজ্ঞ’ ও ‘গণহত্যা হতে দেবেন না। সম্প্রতি রাখাইন রাজ্যে গণকবরের সন্ধান মেলার ঘটনার দিকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, সামরিক পুলিশসহ ১৬ জনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এটি জবাবদিহির সুস্পষ্ট লক্ষণ। মিয়ানমার যে কাউকে দায়মুক্তি দিচ্ছে না, এটি তারই প্রমাণ। 

জার্মানির বার্লিনে গত সোমবার অনুষ্ঠিত মিয়ানমারের গণহত্যাবিষয়ক সম্মেলনে মিয়ানমার প্রতিনিধিকে যোগ দিতে না দেওয়ার বিষয়টি তুলে ধরে মন্ত্রী কিয়াও টিন বলেন, সম্মেলনের বিষয়বস্তু অবাস্তব। তিনি রাখাইন রাজ্যে মানবিক সংকটের জন্য কথিত জঙ্গিগোষ্ঠীকে আরসাকে দায়ী করেন। তিনি বলেন, আরসা জঙ্গিদের সহিংসতার কারণেই প্রাণ ভয়ে রোহিঙ্গারা দেশ ছেড়েছে। আরসা জঙ্গিরা রোহিঙ্গাদের হুমকি ও মিথ্যা তথ্য দেওয়ার পাশাপাশি নানা প্রলোভন দেখিয়েছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন।

মিয়ানমারের মন্ত্রী বলেন, নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর যখন হামলা হয় তখন সন্ত্রাসীদের নির্মূল করা ছাড়া তাদের কিছুই করার থাকে না। এটি কোনোভাবে ধর্মীয় সংঘাত নয়। মিয়ানমার কোনো ধরনের সন্ত্রাসকেই ছাড় দেবে না।

মিয়ানমারের মন্ত্রী বাংলাদেশের সঙ্গে তাঁর দেশের প্রত্যাবাসন চুক্তি সই এবং এর বাস্তবায়নের অগ্রগতি মানবাধিকার পরিষদকে জানান। তিনি বলেন, আনান কমিশনের সুপারিশগুলোকে রূপরেখা হিসেবে মিয়ানমার গ্রহণ করেছে। রাখাইন রাজ্যের উন্নয়ন, বাস্তুচ্যুতদের প্রত্যাবাসন ও শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান নিশ্চিত করতে মিয়ানমার কাজ করছে।



মন্তব্য