kalerkantho


চট্টগ্রামে সংঘর্ষ বোমা বিস্ফোরণ ছাত্রলীগের সম্মেলন পণ্ড

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম   

২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



চট্টগ্রামে সংঘর্ষ বোমা বিস্ফোরণ ছাত্রলীগের সম্মেলন পণ্ড

ছাত্রলীগের সংঘর্ষে তছনছ চট্টগ্রাম ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তন। ছবি : কালের কণ্ঠ

চট্টগ্রাম উত্তর জেলা ছাত্রলীগের সম্মেলন শুরুর কিছুক্ষণ পরেই সংগঠনের কয়েকটি পক্ষের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ ও বোমা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এ কারণে সম্মেলন পণ্ড হয়ে গেছে। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে চট্টগ্রাম ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে অতিথি হয়ে আসা মন্ত্রী, সংসদ সদস্য ও আওয়ামী লীগ নেতাদের সামনে এ ঘটনা ঘটে।

একাধিক আওয়ামী লীগ নেতার নামে স্লোগান-পাল্টাস্লোগান দেওয়াকে কেন্দ্র করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির একপর্যায়ে সংঘর্ষ বেধে যায়। এ সময় হাতাহাতি, ব্যাপক চেয়ার ছোড়াছুড়ি হয়। বাইরেও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। কাজীর দেউড়ি এলাকায় দোকানপাট বন্ধ হয়ে যায়। নগরের লালখানবাজার থেকে কাজীর দেউরি সড়কে কিছুক্ষণ যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। দুপুর ২টার দিকে যানবাহন চলাচল শুরু হলেও বিকেল পর্যন্ত ছাত্রলীগের বিভিন্ন পক্ষ সড়কে অবস্থান নিয়ে মিছিল করে। সংঘর্ষে সংগঠনের বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী আহত হয়েছে। তাদের মধ্যে পাঁচজনকে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে বলে হাসপাতাল ফাঁড়ির পুলিশ জানিয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, সকাল সাড়ে ১১টার দিকে ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে ছাত্রলীগ চট্টগ্রাম উত্তর জেলা শাখার বার্ষিক সম্মেলন শুরু হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য, গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন। বিশেষ অতিথি ছিলেন আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ও সাবেক মন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ, চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহসভাপতি ও রেলপথ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি এ বি এম ফজলে করিম চৌধুরী, সংসদ সদস্য মাহফুজুর রহমান মিতা, চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য নুরুল আলম চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এম এ সালাম, ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক এস এম জাকির হোসাইন, ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুল হায়দার চৌধুরী রোটন প্রমুখ।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রাম উত্তর জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি বখতেয়ার সাঈদ ইরানের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আবু তৈয়বের সঞ্চালনায় সম্মেলনের প্রথম পর্ব শুরু হয়। এ পর্বে ছিল আলোচনা। শুরু থেকে স্থানীয় আওয়ামী লীগের একাধিক নেতার নামে তাঁদের অনুগত ছাত্রলীগকর্মীরা স্লোগান ও পাল্টাস্লোগান দিতে শুরু করে। ছাত্রলীগ নেতা এস এম জাকির হোসাইন বক্তব্য দেওয়ার সময় আবার বিশৃঙ্খলা শুরু হয়। দুপুর সোয়া ১২টার দিকে একই কমিটির সহসভাপতি সাকিব হোসেন সুইন বক্তব্য দেওয়ার সময় অনুষ্ঠানস্থলের বাঁ পাশে একটি হাতবোমার (ককটেল) বিস্ফোরণ হয়। একপর্যায়ে ছাত্রলীগের বিভিন্ন পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি ও ধাওয়াধাওয়ি শুরু হয়। বিভিন্ন এলাকার কর্মীদের মিছিল নিয়ে সম্মেলনস্থলে প্রবেশ করতে দেখা যায়।

দফায় দফায় সংঘর্ষ ও বিশৃঙ্খলার পর দুপুর ১টা পর্যন্ত সম্মেলনের কাজ শুরু করা না যাওয়ায় প্রধান অতিথি ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেনসহ অতিথিরা সম্মেলনস্থল ত্যাগ করেন। অতিথিরা চলে যাওয়ার পর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটের আশপাশের সড়ক অবরোধ করে যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দেয় ছাত্রলীগকর্মীরা।

উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে চট্টগ্রাম জেলা পরিষদ কার্যালয়ে আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতা বৈঠকে বসেন। কয়েক ঘণ্টা বৈঠকের পর নেতারা সেখান থেকে চলে যান। কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ পরবর্তী সময়ে সংগঠনের চট্টগ্রাম উত্তর জেলা শাখার নতুন কমিটি ঘোষণা করবেন বলে সংগঠন সূত্রে জানা যায়।

একাধিক ছাত্রলীগ নেতা জানান, সম্মেলন পণ্ড করতেই সংগঠনের একটি অংশ পরিকল্পিতভাবে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেছে। কারণ গুঞ্জন ওঠে, সম্মেলনের আগেই একটি পক্ষ নিজেদের মতো করে নতুন নেতৃত্ব ঠিক করেছে।

অবশ্য সম্মেলন পণ্ডের পর চট্টগ্রাম উত্তর জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আবু তৈয়ব সাংবাদিকদের বলেন, ‘জামায়াত-শিবিরের বিরুদ্ধে বক্তব্য দেওয়ার সময় আগুন-সন্ত্রাসীরা বহিরাগত হিসেবে এসে হামলা করেছে। জামায়াত-শিবিরের কর্মীরা সম্মেলনস্থলে ঢুকে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে।’

উল্লেখ্য, এর আগের দিন সোমবার বিকেলে নগরের লালদীঘি মাঠে চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রলীগ আয়োজিত এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরীর স্মরণসভায় সংগঠনের কয়েকটি পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়।



মন্তব্য