kalerkantho


হজের খরচ বৃদ্ধি মন্ত্রিসভায় অনুমোদন

নার্স ও ধাত্রী নিয়োগে কোটা প্রথা শিথিল

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



নার্স ও ধাত্রী নিয়োগে কোটা প্রথা শিথিল

ছবি : কালের কণ্ঠ

সিনিয়র স্টাফ নার্স ও মিডওয়াইফ (ধাত্রী) পদে সরাসরি নিয়োগের ক্ষেত্রে মুক্তিযোদ্ধা কোটার কোনো পদ যোগ্য প্রার্থীর অভাবে পূরণ করা না গেলে সেগুলো জাতীয় মেধাতালিকা থেকে পূরণ করা হবে একবারের জন্য। গতকাল সোমবার মন্ত্রিসভা বৈঠকে নার্স ও ধাত্রী নিয়োগে মুক্তিযোদ্ধা কোটাপ্রথা একাকালীন শিথিল করার প্রস্তাব অনুমোদন হয়। চার হাজার সিনিয়র স্টাফ নার্স ও ছয় শ ধাত্রী নিয়োগ করার জন্য ওই প্রস্তাব দিয়েছিল স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।

মন্ত্রিপরিষদসচিব জানিয়েছেন, সিনিয়র স্টাফ নার্স ও মিডওয়াইফ (ধাত্রী) নিয়োগের ক্ষেত্রে একবারের জন্য পদ সংরক্ষণের বিধান শিথিল করা হয়েছে।

এ ছাড়া হজের খরচ বাড়িয়ে সরকারি ব্যবস্থাপনায় হজে যেতে দুটি প্যাকেজ অনুমোদন করেছে মন্ত্রিসভা। প্যাকেজ-১-এর আওতায় হজে যেতে এবার তিন লাখ ৯৭ হাজার ৯২৯ টাকা এবং প্যাকেজ-২-এর আওতায় তিন লাখ ৩১ হাজার ৩৫৯ টাকা খরচ হবে। গত বছরের তুলনায় প্যাকেজ-১-এ খরচ ১৬ হাজার ৪২১ টাকা এবং প্যাকেজ-২ এর খরচ ১২ হাজার ৪ টাকা বেড়েছে।

গতকাল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে তাঁর তেজগাঁওয়ের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভা বৈঠকে এসব প্যাকেজ অনুমোদন করা হয়। পরে সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত ব্রিফিংয়ে মন্ত্রিপরিষদসচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম মন্ত্রিসভার বিভিন্ন সিদ্ধান্তের কথা জানান।

শিগগিরই বেসরকারি ব্যবস্থাপনার দুটি হজ প্যাকেজ ঘোষণা করবে হজ এজেন্সি মালিকদের সংগঠন—হাব। মন্ত্রিপরিষদসচিব জানিয়েছেন, সুবিধার ধরন অনুযায়ী বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় হজে যেতে টাকার অঙ্কে হেরফের হবে।

হজের খরচ বাড়ল : বিমান ভাড়া বৃদ্ধির বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রিপরিষদসচিব জানান, ডলারের দাম বেড়েছে, সব মিলিয়ে খুব বেশি বাড়ানো হয়নি। গতবার মোট বিমান ভাড়া ছিল এক লাখ ২৪ হাজার ৭২৩ টাকা। এবার ১৪ হাজার টাকার মতো বেড়েছে।

২০১৫, ২০১৬ ও ২০১৭ সালে যাঁরা হজ করেছেন বা হজে যাওয়ার ভিসা পেয়েও হজ করেননি, তাঁরা যদি এবার হজে যেতে চান তাহলে অতিরিক্ত দুই হাজার ১০০ রিয়াল পরিশোধ করতে হবে। যাঁরা হজ করেছেন তাঁদের হজে যেতে নিরুৎসাহিত করতেই এই অতিরিক্ত অর্থ দিতে হবে বলে জানিয়েছেন মন্ত্রিপরিষদসচিব।

বাংলাদেশ থেকে এবার এক লাখ ২৭ হাজার ১৯৮ জন হজ করতে পারবেন। এর মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় সাত হাজার ১৯৮ জন এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় এক লাখ ২০ হাজার জন। চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী ২১ আগস্ট হজ হতে পারে।

গতকালের বৈঠকে জাতীয় হজ ও ওমরাহ নীতিও অনুমোদন করা হয়েছে। এ নীতিতে এবার কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছে জানিয়ে মন্ত্রিপরিষদসচিব বলেন, প্রাক-নিবন্ধন করতে এনআইডি থাকার বাধ্যবাধকতা থাকলেও প্রবাসীরা পাসপোর্টের মাধ্যমে প্রাক-নিবন্ধন করতে পারবেন। এখন থেকে নিবন্ধনকারীদের পুলিশ ভেরিফিকেশন লাগবে না।

নার্স ও ধাত্রী নিয়োগে কোটা শিথিল : পাবলিক সার্ভিস কমিশনের বিভিন্ন নিয়োগে ৩০ শতাংশ মুক্তিযোদ্ধা কোটা, ১০ শতাংশ নারী কোটা, ১০ শতাংশ জেলা কোটা ও ৫ শতাংশ ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী কোটা রয়েছে। জেলা, নারী ও ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী কোটার পদ পূরণে সংরক্ষণ করার কোনো বিধি-নিষেধ নেই। অর্থাৎ এসব পদে উপযুক্ত প্রার্থী না পাওয়া গেলে তা শূন্য রাখার বা সংরক্ষণ করার কোনো নিয়ম নেই; কিন্তু মুক্তিযোদ্ধা কোটায় যোগ্য প্রার্থী না পাওয়া গেলে সেসব পদ শূন্য রাখার বা সংরক্ষণ করার সিদ্ধান্ত রয়েছে মন্ত্রিসভার। ২০১০ সালে মন্ত্রিসভা এ সিদ্ধান্ত নেয়। কয়েক বছর ধরে পাবলিক সার্ভিস কমিশন সরকারকে দফায় দফায় জানিয়েছে, মুক্তিযোদ্ধা কোটা সংরক্ষণের কারণে অনেক পদ শূন্য থাকছে। এ সংকট কারিগরি ও পেশাগত বিসিএসে প্রকট আকার ধারণ করেছে। সাধারণ বিসিএসেও অনেক পদ শূন্য থাকছে। এর আগে ৩৪তম বিসিএস ও ৩৫তম বিসিএসের জন্য কোটা শিথিল করা হয়েছিল। এমনকি গত বছর মুক্তিযোদ্ধা কোটা শিথিল করে প্রায় ১০ হাজার সিনিয়র স্টাফ নার্স নিয়োগ করে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে তীব্র নার্স সংকট নিরসনের জন্য এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। এবারও দ্বিতীয় শ্রেণির চার হাজার সিনিয়র স্টাফ নার্সের সঙ্গে ছয় শ ধাত্রী নিয়োগ দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে। পদ দুটি দ্বিতীয় শ্রেণির কারিগরি ও পেশাগত পদ।

আরো অনুমোদন : এ ছাড়া ‘শিশু (সংশোধন) আইন, ২০১৮’-এর খসড়ার চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। এই সংশোধন অনুযায়ী এখন প্রত্যেক জেলা সদরে এক বা একাধিক শিশু আদালত কাজ করবে। মূলত নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালই এই শিশু আদালত হিসেবে কাজ করবে।

মন্ত্রিসভা বৈঠকে ‘বাংলাদেশ সরকারি কর্মচারী কল্যাণ বোর্ড (সংশোধন) আইন, ২০১৮’ ‘বস্ত্র আইন, ২০১৮’ ‘জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ আইন, ২০১৮’-এর খসড়ার চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়। এ ছাড়া মহেশখালীতে এক হাজার ৩২০ মেগাওয়াট কয়লাভিত্তিক তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড ও চীনের একটি কম্পানির মধ্যে যৌথ উদ্যোগে কম্পানি গঠনের খসড়া অনুমোদন করেছে মন্ত্রিসভা।


মন্তব্য