kalerkantho


কুমিল্লায় বাসে পেট্রলবোমায় হত্যা

খালেদার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা তামিলের নির্দেশ

জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় খালেদাকে হাজির করা হয়নি

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা ও কুমিল্লা   

২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



খালেদার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা তামিলের নির্দেশ

ফাইল ছবি

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে বাসে পেট্রলবোমা হামলায় হত্যার মামলায় বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়াসহ ৪৮ জনের বিরুদ্ধে জারি করা গ্রেপ্তারি পরোয়ানা আগামী ২৪ এপ্রিলের মধ্যে তামিলের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। গতকাল রবিবার মামলার ধার্য তারিখে কুমিল্লার অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ও ৫ নং আমলি আদালতের দায়িত্বপ্রাপ্ত বিচারক জয়নব বেগম এ আদেশ দেন।

এদিকে জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় গতকাল ধার্য দিনে খালেদা জিয়াকে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়নি। তাই ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫-এ বিচারাধীন এই মামলার যুক্তিতর্ক শুনানিও হয়নি। আজ সোমবার সকাল পর্যন্ত শুনানি মুলতবি করা হয়েছে। অন্তর্বর্তীকালীন জামিনে থাকা আসামির জামিনের মেয়াদও এক দিন বাড়ানো হয়েছে। রাজধানীর বকশীবাজারে কারা অধিদপ্তরের প্যারেড মাঠে স্থাপিত বিশেষ আদালতে খালেদা জিয়ার আইনজীবীদের আবেদনের ওপর শুনানি শেষে বিচারক ড. মো. আখতারুজ্জামান এই আদেশ দেন।

কুমিল্লা আদালতের পিপি মোস্তাফিজুর রহমান লিটন জানান, ইতিমধ্যে আদালতের আদেশের কপি পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, জেলার পুলিশ সুপার বরাবর এবং আসামিদের সংশ্লিষ্ট থানায় পাঠানো হয়েছে।

২০১৫ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার জগমোহনপুর এলাকায় একটি নৈশকোচে পেট্রলবোমা হামলায় আট যাত্রী নিহত হয়। ওই ঘটনায় হত্যা ও বিস্ফোরক আইনে দুটি পৃথক মামলা হয়। চৌদ্দগ্রাম থানার এসআই নুরুজ্জামান বাদী হয়ে ৭৭ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় খালেদা জিয়াসহ বিএনপির শীর্ষস্থানীয় ছয় নেতাকে হুকুমের আসামি করা হয়।

৭৭ জন আসামির মধ্যে তিনজন মারা যান, পাঁচজনকে চার্জশিট থেকে বাদ দেওয়া হয়। খালেদা জিয়াসহ অপর ৬৯ জনের বিরুদ্ধে কুমিল্লা আদালতে তদন্তকারী কর্মকর্তা ডিবির পরিদর্শক ফিরোজ হোসেন চার্জশিট দাখিল করেন। গত ২ জানুয়ারি হত্যা হামলায় খালেদা জিয়াসহ ৫৫ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন কুমিল্লার এই আদালত।

গতকাল মামলার ধার্য দিনে ৬৯ আসামির মধ্যে ২১ আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। অনুপস্থিত থাকায় খালেদা জিয়াসহ ৪৮ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা তামিলের নির্দেশ দেওয়া হয়। এই মামলায় ২৯ জন জামিনে এবং একজন জেলহাজতে আছেন।

খালেদা জিয়ার আইনজীবী কাইমুল হক রিংকু কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমরা জামিনের আবেদন তৈরি করে প্রস্তুত ছিলাম। কিন্তু বিএনপি চেয়ারপারসনকে শ্যোন অ্যারেস্ট দেখানো হয়নি।’ তিনি জানান, আদালত আগামী ২৪ এপ্রিলের আগে আগে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা তামিল করতে নির্দেশ দিয়েছেন। মামলার পরবর্তী তারিখ ২৫ এপ্রিল।

এদিকে ঢাকায় জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় গতকাল সকালে আদালতের কার্যক্রম শুরু হওয়ার পর খালেদা জিয়ার আইনজীবী সানাউল্লাহ মিয়া আদালতকে বলেন, ‘জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় সাজার রায়ের বিরুদ্ধে বিএনপি চেয়ারপারসনের আপিল শুনানির জন্য গ্রহণ করেছেন হাইকোর্ট। আজ (রবিবার) দুপুর ২টার সময় তাঁর জামিন আবেদনের ওপর শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে। তাই জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলার শুনানি আগামীকাল (সোমবার) পর্যন্ত মুলতবি করে খালেদা জিয়ার জামিনের মেয়াদ বাড়ানো হোক।’

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) বিশেষ পিপি মোশাররফ হোসেন কাজল ওই সময় আদালতকে বলেন, ‘খালেদা জিয়াকে যেহেতু আজ হাজির করা হয়নি সেহেতু মামলার যুক্তিতর্ক শুনানির জন্য সোমবার হাজির করার নির্দেশ দেওয়া হোক।’

খালেদা জিয়ার আইনজীবী আবদুল রেজাক খান তখন বলেন, ‘হাইকোর্টে জামিন আবেদনের ওপর শুনানি আজই হবে। এ বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে হাজিরা পরোয়ানা ইস্যু না করে আমরা আরো এক দিন অপেক্ষা করতে পারি।’ পরে আদালত জামিনের মেয়াদ এক দিন বাড়িয়ে দেন। একই সঙ্গে শুনানি আজ সোমবার সকাল পর্যন্ত মুলতবি ঘোষণা করেন।

এই মামলায় খালেদা জিয়াকে হাজির করার জন্য গত বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রপক্ষ থেকে হাজিরা পরোয়ানা ইস্যু করার আবেদন জানানো হয়েছিল। ওই আবেদনের ওপর শুনানি শেষে আদালত সেদিন কোনো আদেশ দেননি।

জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্টের নামে অবৈধভাবে তিন কোটি ১৫ লাখ ৪৩ হাজার টাকা লেনদেনের অভিযোগে ২০১০ সালের ৮ আগস্ট তেজগাঁও থানায় মামলাটি করেছিল দুদক। এতে খালেদা জিয়াসহ চারজনকে আসামি করা হয়। এ মামলায় ২০১২ সালের ১৬ জানুয়ারি অভিযোগপত্র দাখিল করে দুদক। মামলার অন্য আসামিরা হলেন খালেদা জিয়া প্রধানমন্ত্রী থাকাকালে তাঁর রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরী, হারিছ চৌধুরীর তৎকালীন একান্ত সচিব জিয়াউল ইসলাম মুন্না, ঢাকার সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকার একান্ত সচিব মনিরুল ইসলাম খান। হারিছ চৌধুরী পলাতক রয়েছেন।



মন্তব্য