kalerkantho


প্রধানমন্ত্রী বললেন

উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা মার্চেই পাব

প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণপদক পেলেন ২৬৫ শিক্ষার্থী

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা মার্চেই পাব

আগামী মার্চ মাসেই বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা পেতে যাচ্ছে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ‘এখন আর কেউ আগের মতো আমাদের তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করতে পারবে না। কারণ আমরা সেই জায়গাটায় পদার্পণের সক্ষমতা অর্জন করেছি। ইনশাআল্লাহ, আগামী মার্চ মাসেই বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে মর্যাদা পাবে।’

গতকাল রবিবার সকালে প্রধানমন্ত্রী তাঁর কার্যালয়ে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের ‘প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণপদক ২০১৫ ও ২০১৬’ বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

আজকের শিক্ষার্থীদের মধ্য থেকেই আগামীর কর্ণধার গড়ে উঠবে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘তোমরাই তো আমাদের সোনার ছেলে-মেয়ে, তোমরাই সোনার বাংলা গড়ে তুলবে। সেটাই আমরা আশা করি। কারণ বাংলাদেশকে আমরা চাচ্ছি ২০২১ সালের মধ্যে মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত করতে। আর ২০৪১ সালে বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ার উন্নত দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠা লাভ করবে। এই কাজটা করে দিতে হবে আজকের তোমরা যারা মেধাবী ছেলে-মেয়ে আছ তাদের।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘মানসম্পন্ন শিক্ষা এবং গবেষণার মাধ্যমে অর্জিত জ্ঞান, দক্ষতা এবং উদ্ভাবনী শক্তিই পারে সকল প্রতিকূলতা এবং প্রতিবন্ধকতাকে কাটিয়ে সভ্যতাকে উন্নত পর্যায়ে নিয়ে যেতে।’ যুগোপযোগী উচ্চশিক্ষা মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং একটি দেশের সামগ্রিক উন্নয়নের জন্য অপরিহার্য বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে এ বছর ২৬৫ জন কৃতী শিক্ষার্থীকে প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণপদকে ভূষিত করা হয়। সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা নিজ নিজ অনুষদে সর্বোচ্চ নম্বর বা সিজিপিএ অর্জনের স্বীকৃতি হিসেবে ২০১৫ সালের জন্য ১২৪ জন এবং ২০১৬ সালের জন্য ১৪১ শিক্ষার্থী এই পদক পান।

স্বর্ণপদক বিজয়ীদের উদ্দেশে শেখ হাসিনা বলেন, ‘এতগুলো ছেলে-মেয়ে আমাদের কাছ থেকে স্বর্ণপদক পেল অর্থাৎ কত মেধা আমাদের দেশে রয়েছে। আমাদের ছেলে-মেয়েরা পৃথিবীর অনেক দেশের থেকে মেধাবী বলে আমি বিশ্বাস করি।’ তিনি বলেন, ‘শুধু এখানে মেধার বিকাশে সুযোগটা সৃষ্টি করে দেওয়ার দরকার। মেধা ও মনন চর্চার একটি সুযোগ সৃষ্টি করে দেওয়া এবং সেটা করতে পারলে আমাদের ছেলে-মেয়েরা যে কত ভালো করতে পারে সেটা আমার জানা আছে।’

সরকারপ্রধান বলেন, ‘আজকে ২৬৫ জনকে আমরা স্বর্ণপদক দিলাম। আমি সত্যই খুব আনন্দিত। আর ২০১৬ সালের বেলায় আমি লক্ষ করলাম মেয়েদের সংখ্যাটা বেশ বেড়ে গেছে।’ তিনি বলেন, ‘জাতির পিতা বলতেন, একটি সমাজে নারী-পুরুষ সকলেরই সমান অধিকার থাকা উচিত, সবাইকে সমান সুযোগ করে দিতে হবে। কাজেই আমরা সেটারই চেষ্টা করে যাচ্ছি।’

প্রধানমন্ত্রী এ সময় ছেলেদের পড়াশোনায় আরো মনোযোগী হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘শুধু লেখাপড়া নয়, খেলাধুলা এবং সংস্কৃতিচর্চা সবদিকেই প্রচেষ্টা থাকতে হবে। এ জন্য তাঁর সরকার প্রত্যেকটি উপজেলায় মিনি স্টেডিয়াম করে দেবে যেন সেখানে সারা বছর খেলাধুলা চলতে পারে।’

আজকের ডিজিটাল বাংলাদেশে গ্রামে গ্রামে ইন্টারনেট সুবিধা গ্রামাঞ্চলে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আগামী মার্চ-এপ্রিল মাসেই আমাদের নিজস্ব স্যাটেলাইট বঙ্গবন্ধু উপগ্রহ-১ মহাকাশে উেক্ষপণ করা হবে। আমরা স্যাটেলাইট যুগেও চলে যাচ্ছি। অর্থাৎ আমাদের আকাশ থেকে একেবারে সাগরের তলদেশ (নেভির জন্য সাবমেরিন) পর্যন্ত সব জায়গাতেই বাংলাদেশ বিচরণ করবে, সেভাবেই আমরা বাংলাদেশকে গড়ে তুলে যাচ্ছি।’

অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব মো. সোহরাব হোসাইন বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন। সভাপতিত্ব করেন ইউজিসির চেয়ারম্যান প্রফেসর আবদুল মান্নান। পদকপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের মধ্যে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগের শিক্ষার্থী রুবাইয়া জাবিন লতা এবং বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী নূর মোহাম্মদ অনুষ্ঠানে নিজ নিজ অনুভূতি ব্যক্ত করেন। সূত্র : বাসস।



মন্তব্য