kalerkantho


মশা থামিয়ে দিল উড়োজাহাজ

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



মশা থামিয়ে দিল উড়োজাহাজ

পাখির কারণে উড়োজাহাজ ওঠানামায় ব্যাঘাত সৃষ্টির ঘটনা বিভিন্ন দেশেই ঘটে থাকে। দীর্ঘদিন পাখির উৎপাত থেকে মোটামুটি নিরাপদ ছিল হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর। তবে এবার চটেছে মশা। গত বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে শাহজালাল বিমানবন্দরে মশার কারণে নির্ধারিত সময়ে উড়তে পারেনি একটি ফ্লাইট বা উড়োজাহাজ। মালয়েশিয়ান এয়ারলাইনসের ওই ফ্লাইটটি রানওয়ের দিকে এগিয়েও মশার কারণে পিছিয়ে আসতে বাধ্য হয়েছে। পরে মশা নিধন করে প্রায় দুই ঘণ্টা দেরিতে ফ্লাইটটি উড়তে সক্ষম হয়। ওই ঘটনায় তোলপাড় হয় বিমানবন্দরে। কেউ কেউ এমনও মন্তব্য করে, মশার কারণে ফ্লাইট বিলম্ব বিশ্বে হয়তো এটিই প্রথম।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১২টায় ঢাকা থেকে মালয়েশিয়ার পথে ফ্লাইটটি উড্ডয়নের সিডিউল ছিল। কিন্তু তাতে বিপত্তি ঘটায় মশা। সংঘবদ্ধ মশার আক্রমণে দুই ঘণ্টায়ও উড়তে পারেনি সেটি। পরে রাত ২টা ৪৬ মিনিটের দিকে ওই উড়োজাহাজটি রওনা দিতে সক্ষম হয়েছে। ওই ঘটনায় বিব্রতকর অবস্থায় পড়েন এয়ারলাইনসটির কর্মীরা। অন্যান্য এয়ারলাইনসকেও মশার কারণে বিপত্তিতে পড়তে হয়েছে বলে জানা যায়।

বিমানবন্দরে নিরাপত্তাকর্মীরা জানান, বিমানবন্দরে আলফা-২ বে এরিয়া থেকে মালয়েশিয়ান এয়ারলাইনসের ফ্লাইটটি (এমএইচ ১৯৭) যাত্রীদের নিয়ে উড্ডয়নের জন্য রানওয়ের দিকে এগিয়ে যাচ্ছিল। বিমানবন্দর থেকে বোয়িং ৭৩৭ মডেলের উড়োজাহাজটিতে প্রায় ১৫০ যাত্রী ওঠার সময় মশাও ঢুকে পড়ে। মশার উৎপাতে যাত্রীরা বিরক্ত হয়ে অভিযোগ করেন কেবিন ক্রুদের কাছে। বাধ্য হয়ে রানওয়ের পরিবর্তে পুনরায় বে এরিয়ায় উড়োজাহাজটি ফিরিয়ে আনতে বাধ্য হন বৈমানিক। এরপর মশা নিধন চলে প্রায় দুই ঘণ্টা। রাত পৌনে ৩টার দিকে পুনরায় ফ্লাইটটি ছেড়ে যায়।

ওই ফ্লাইটের যাত্রী কেয়া জানান, মাঝরাতে মালয়েশিয়ান এয়ারলাইনসের ওই ফ্লাইটে অসংখ্য মশা ঢুকে পড়ায় যাত্রীরা হট্টগোল শুরু করেন। মশার উৎপাতে চলন্ত ফ্লাইটটিকে রানওয়ের মুখে থামিয়ে দিতে বাধ্য হন পাইলট। পরে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের সহায়তায় চলে মশক নিধন অভিযান। ওই সময় যাত্রীদের সবাইকে বিমান থেকে নামিয়ে দেওয়া হয়। পরে রাত আড়াইটায় ফ্লাইটটি আকাশে ওড়ে।

এভিয়েশন বিশেষজ্ঞ আশীষ রায় চৌধুরী সংবাদমাধ্যমকে বলেন, মশার উৎপাতের কারণে ফ্লাইট আটকে যাওয়ার ঘটনা বিশ্বে এটিই হয়তো প্রথম। তবে শাহজালালে মশার উৎপাত নতুন নয়। ফ্লাইটে ওঠার পর যাত্রীরা মশার কামড়ে বিরক্তি প্রকাশ করেন প্রায়ই। বিদেশিরাও বিরক্তি প্রকাশ করে থাকেন। বিমানবন্দরের ভেতরে-বাইরে তো কথাই নেই। লাগেজ বেল্টে যাত্রীদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকার ভোগান্তির সঙ্গে যোগ হয়েছে মশার কামড়।

বিমানবন্দরের এমন দুরবস্থার কথা স্বীকার করে সিভিল এভিয়েশনের এক কর্মকর্তা বলেন, এমন ঘটনায় দেশের মর্যাদা ক্ষুণ্ন হচ্ছে। কিন্তু চেষ্টা করেও মশার কাছে আমাদের হার মানতে হচ্ছে।

মালয়েশিয়ান এয়ারলাইনসের স্টেশন ম্যানেজার মোহাম্মদ আজিজ বলেছেন, ‘মশার কারণে আমাদের ফ্লাইটটি যথাসময়ে ছেড়ে যেতে পারেনি। বে এরিয়া থেকে যাত্রী ওঠানোর সময় উড়োজাহাজে মশা ঢুকে পড়ে। যাত্রীরা মশার উৎপাতে বিরক্ত হয়ে যান। বাধ্য হয়ে মশা নিধন করে পুনরায় ফ্লাইটটি ছেড়ে যায়।’

হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন কাজী ইকবাল করিম বলেন, বিমানবন্দরের চারদিকে আবাসিক এলাকা। সঙ্গে রয়েছে দুপাশের জঙ্গল ও জলাশয়, যা মশার নিরাপদ প্রজননক্ষেত্র। এই বিশাল ও উন্মুক্ত এলাকার মশা নিধন করাটা খুবই কঠিন কাজ। তার পরও এ বিষয়টি খুব সিরিয়াসলি দেখা হচ্ছে। এরই মধ্যে মশা নিধনের জন্য বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সিটি করপোরেশন ও স্বাস্থ্য বিভাগের সঙ্গে জরুরি বৈঠক ডাকা হয়েছে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আপাতত সিভিল এভিয়েশনের নিজস্ব উদ্যোগে মাত্র দুটো ফগার দিয়ে প্রতিদিন সকাল-সন্ধ্যায় স্প্রে ছিটানো হয়, যা প্রয়োজনের তুলনায় খুবই অপ্রতুল।


মন্তব্য